ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৭ মার্চ ২০২১ ২২ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৭ মার্চ ২০২১

ভোজ্য  তেলের
আর কত বাড়বে দাম
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:৩৩ পিএম আপডেট: ২৩.০১.২০২১ ১২:৩৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 153

নিত্যপণ্যের বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি টালমাটাল অবস্থা ভোজ্য তেলের। সয়াবিন, পাম অয়েল এবং পাম অয়েল-সুপার সব প্রকার ভোজ্যে তেলের দাম বেড়ে এখন আকাশচুম্বী। বিগত ১০ বছরের মধ্যে ভোজ্য তেলের এত দাম বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ঠেকেছে ১৪০ টাকায়। আর ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের দাম ঠেকেছে ৬৬০ টাকায়। ভোগ্যেপণ্যের খুচরা বিক্রেতা বা মুদি দোকানদাররা জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ঠেকবে ৭০০ টাকা। ভোজ্য তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এ তথ্য ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন বিক্রেতাদের। ক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতা উভয়েরই প্রশ্ন আর কত দাম বাড়বে ভোজ্যে তেলের।
এদিকে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাস আগে ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম ছিল গড়ে ১১৫ টাকা থেকে ১২৫ টাকা। এক মাস পর শুক্রবার ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। অর্থাৎ টিসিবির তথ্য বলছে বাজারে এখন এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম সর্বোচ্চ ১৪০ টাকায় ঠেকেছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এক লিটার সয়াবিনে দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ। তা ছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম মাস আগে ছিল গড়ে ৫৩০ থেকে ৫৮০ টাকা পর্যন্ত। আর শুক্রবার এর দাম হয়েছে গড়ে ৫৫০ থেকে ৬২০ টাকা পর্যন্ত। দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ। তা ছাড়া টিসিবির তথ্য মতে এক মাস আগে প্রতি লিটার পাম অয়েলের দাম ৯৩ থেকে ৯৫ টাকা। শুক্রবার দাম হয়েছে ৯৭ থেকে ১০০ টাকা। পাম অয়েল সুপারের দাম ছিল এক মাস আগে ৯৬ থেকে ৯৮ টাকা। শুক্রবার দাম হয়েছে ১০২ থেকে ১০৫ টাকা। যদিও টিসিবির মূল্য তালিকার চেয়ে বাজারের প্রকৃত মূল্যে বিস্তর তফাত রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে এখন সবচেয়ে দামি সয়াবিন তেল হচ্ছে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের। ৫ লিটার বোতলের গায়ে দাম লেখা আছে ৬৬০ টাকা। অথচ এক মাস আগেও এই ব্র্যান্ডের ৫ লিটার সয়াবিনের দাম ছিল ৫৭০ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ৫ লিটারে দাম বেড়েছে ৯০ টাকা। দুই লিটারের দাম

ছিল ২৪০ টাকা, এখন হয়েছে ২৬৮ টাকা। তা ছাড়া এক লিটারের দাম ছিল ১২০ টাকা, এখন হয়েছে ১৪০ টাকা।
কেন রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সয়াবিনের দাম সবার চেয়ে বেশি, জানতে চাওয়া হয়, কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা তৌফিকের কাছে। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, বাজারে যত ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল আছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুণগত মান ভালো রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের। তা ছাড়া ওজনও অন্য ব্র্যান্ডের চেয়ে ১০০ গ্রাম বেশি থাকে। মূলত এ কারণেই অন্য ব্র্যান্ডের চেয়ে রূপচাঁদার দাম বেশি।
সয়াবিন তেলের দাম সহসায় কমার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ^বাজারে দাম না কমা পর্যন্ত দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে সরকারের কছে সয়াবিনের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকার শুল্ক কমালে হয়তো কিছুটা কমতে পারে সয়াবিনের দাম।
ভোজ্য তেলের বাজারের আরেক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রæপ। প্রতিষ্ঠানটির তীর ব্র্যান্ডের সয়াবিনের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। এক মাস আগে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম যেখানে ৫৭০ টাকা ছিল সেখানে এখন দাম হয়েছে ৬৫৫ টাকা। ২ লিটারের দাম ছিল ২৩৫ টাকা, এখন হয়েছে ২৬৮ টাকা। এক লিটারের দাম ছিল ১১৫ টাকা, এখন হয়েছে ১৩৫ টাকা।
সিটি গ্রæপের জ্যেষ্ঠ বিক্রয় কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিন সময়ের আলোকে বলেন, সয়াবিন তেলের দাম আগামী সপ্তাহে আরও বাড়তে পারে। ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম ৭০০ টাকা পার হয়ে যেতে পারে। কারণ এখন বিশ^বাজার থেকে সয়াবিনের আমদানি কমে গেছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। সরবরাহ না বাড়ানো পর্যন্ত সয়াবিনের দাম কমবে না।
বাজারের অপরাপর ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের দামও একই হারে বেড়েছে। সয়াবিন তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে চাম বিপাকে পড়েছেন দেশের ক্রেতা-সাধারণ। শুক্রবার রাজধানীর কল্যাণপুর নতুন বাজারের ভাই ভাই জেনারেল স্টোরে সদায়পাতি কিনতে এসেছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রিয়াজুল ইসলাম। প্রতি মাসে তার সংসারে সয়াবিন তেল দরকার পড়ে ৮ থেকে ১০ লিটার। ভোজ্য তেল বাবদ আগে মাসে আমার খরচ হতো ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। এখন আমার খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। বাজারে, চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস সবকিছুরই দাম আকাশছোঁয়া। এভাবে প্রতিটা পণ্যে যদি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বাড়তি গুনতে হয় প্রতি মাসে তাহলে কীভাবে আমরা সংসার চালাব। কারণ প্রতি মাসে যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, সেভাবে আমাদের বেতন তো আর বাড়ে না। মাসে বেতন পায় ৩০ হাজার টাকা। ঘরভাড়া ১৫ হাজার টাকা দেবার পর যা থাকে তাতে সন্তানের লেখ-পড়ার খরচেই প্রায় শেষ হয়ে যায়। কোনো রকম টেনেটুনে মাস চলে আমাদের। এভাবে সবকিছুর দাম বাড়লে তো আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
বিশ^বাজার পরিস্থিতি
বিশ^বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে বেশ খানিকটা। দেশের ব্যবসায়ীরা মূলত বিশ^বাজারের দাম বৃদ্ধির সুযোগটিই নিয়েছেন। ট্যারিফ কমিশনের তথ্য মতে জুনে প্রতি টন সয়াবিনের দাম ছিল ৭৪৩ ডলার। জুলাই মাসে হয় ৮৩৬ ডলার, আগস্টে হয় ৮৬৭ ডলার। সেপ্টেম্বরে হয় ৯০৬ ডলার, অক্টোবরে হয় ৯২৯ ডলার। তা ছাড়া নভেম্বরে বেড়ে হয় ৯৭৩ ডলার, আর ডিসেম্বরে প্রতি টন সয়াবিনের দাম হাজার ডলার ছাড়াই। বর্তমানে ১১শ ডলার ছাড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা যা বললেন
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান সময়ের আলোকে বলেন, বিশ^বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। মূলত এ কারণেই দেশের বাজারেও দাম বেড়েছে। তবে দেশের বাজারে যে হারে দাম বাড়ছে সেটি কাম্য নয়। সয়াবিনসহ সব ধরনের ভোজ্য তেলের দাম ক্রেতার সহনীয় মাত্রার ওপরে চলে গেছে। দ্রæত ভোজ্যে তেলের বাজারে সরকারের হস্তাক্ষেপ দরকার। শুল্ক কমিয়ে হোক বা অন্য কোনো উপায়ে হোক দ্রæত ভোজ্যে তেলের দাম কমানো উচিত। কারণ ভোজ্যে তেলের দাম বৃদ্ধিতে দেশের মানুষের কষ্ট বেড়েছে। মানুষের কষ্ট লাঘবের দায়িত্ব সরকারের।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]