ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৭ মার্চ ২০২১ ২২ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৭ মার্চ ২০২১

ভূমিহীন ও ঘরহারাদের আনন্দের বন্যা
ইতিহাস গড়লেন শেখ হাসিনা
মুজিব বর্ষে বড় উৎসব
হাবীব রহমান
প্রকাশ: রোববার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:১১ পিএম আপডেট: ২৪.০১.২০২১ ১০:২০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 163

মুজিব বর্ষে দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না বলে আবারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুজিব বর্ষে আমাদের লক্ষ্য একজন মানুষও ঠিকানাবিহীন থাকবে না, গৃহহারা থাকবে না। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শনিবার মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে প্রথম পর্যায়ে দেশের ভূমি ও গৃহহীনদের জমি ও ঘর প্রদানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে পাকা ঘরসহ বাড়ি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমার অত্যন্ত আনন্দের দিন। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান করতে পারা বড় আনন্দের। শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের কথাই ভাবতেন। আমাদের পরিবারের লোকদের চেয়ে তিনি গরিব-অসহায় মানুষদের নিয়ে বেশি ভাবতেন এবং কাজ করেছেন। এ গৃহ প্রদান কার্যক্রম তারই শুরু করা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার খুব আকাক্সক্ষা ছিল, নিজ হাতে আপনাদের জমির দলিল তুলে দিই। কিন্তু সেটা পারলাম না এই করোনাভাইরাসের কারণে। সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা এ দেশের মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। বঙ্গবন্ধু নিজের কথা কখনও চিন্তাও করেননি। স্বাধীনতার পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি পাঁচ বছর মেয়াদি যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করে যেতে পারলে বাংলাদেশের মানুষ অনেক আগেই উন্নত হতে পারত।
আরও ১ লাখ ঘরের কাজ শিগগিরই শুরু হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুজিব বর্ষে অনেক কর্মসূচি আমাদের ছিল, সেগুলো করোনার কারণে আমরা করতে পারিনি। করোনা আমাদের জন্য যেমন অভিশাপ নিয়ে এসেছে, তেমনি একদিকে আশীর্বাদও। কারণ আমরা একটি কাজের দিকেই নজর দিতে পেরেছি। আজ এটাই আমাদের বড় উৎসব যে গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষকে আমরা ঘর দিতে পারলাম। এর চেয়ে বড় আর কোনো উৎসব বাংলাদেশে হতে পারে না।
পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর ছয় বছরের নিজের নির্বাসন জীবনের কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জিয়াউর রহমান আমাকে ও আমার বোনকে ছয় বছর দেশে ঢুকতে দেয়নি। পাসপোর্ট পর্যন্ত রিনিউ করতে দেয়নি। আওয়ামী লীগ আমাকে সভাপতি করার পর মানুষের কথা চিন্তা করেই জোর করে দেশে ফিরে এসেছি। আমার লক্ষ্য একটাইÑ আমি নিজে কী পেলাম বা পেলাম নাÑ সেটি বড় কথা নয়। মানুষকে কী দিতে পারলাম, সেটিই বড় কথা। বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসকদের দুঃশাসনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তখন কী পেয়েছে? অনেকে গালভরা কথা বলেন, মানুষ নাকি তখন গণতান্ত্রিক অধিকার পেয়েছে! গণতান্ত্রিক অধিকার কী? একজন মিলিটারি ডিক্টেটর মানুষকে শোষণ-নির্যাতন করবে, মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি নামের দল গঠন করে ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। ওই নির্বাচনে ১১০ ভাগ ভোটও পড়েছিল! আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগকে ৪০টির বেশি আসন দেওয়া হবে না। সেবার আওয়ামী লীগকে ৩৯টি আসনই দেওয়া হয়েছিল। যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, এটা কী ধরনের গণতন্ত্র? একটি দল সৃষ্টি হলো, যে দলটি শিশু, হাঁটতেও শিখল না, সেই দলটিই ক্ষমতায় চলে গেল? ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুঃশাসনের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল দেশের জন্য সত্যিকারের একটা অন্ধকার যুগ ছিল। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি-লুটপাট ২০০১ সালে বিএনপির সময়ই শুরু হয়েছিল। তাদের কারণেই পরে ওয়ান-ইলেভেন আসে।
একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে ঘর দেওয়ার বিরল নজির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি না পৃথিবীর কোনো দেশে কখনও অথবা আমাদের দেশে কোনো সরকার এত দ্রুত এতগুলো ঘর করেছে। এই ঘরগুলো তৈরি করা সহজ কথা নয়। এ জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এতটা সমন্বিত কার্যক্রম এর আগে দেশে এভাবে হয়ওনি।
করোনাভাইরাসের মধ্যেও দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে টানা তিনবারের সরকারপ্রধান বলেন, করোনা যেমন একদিকে অভিশাপ, তেমনি আমাদের জন্য আশীর্বাদও বয়ে এনেছে। কারণ এই সময়ে আমরা এই কাজগুলো ভালোভাবেই করতে পেরেছি। দেশের মানুষের দোয়া চাই, যেন এই দেশটাকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। প্রতিটি মানুষ যেন ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে। তারা যেন সুন্দর ও উন্নত জীবন পায়, সবার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান। দেশের চারটি জায়গা থেকে উপকারভোগীরা যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।
প্রথমেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী যুক্ত হন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালতলা গ্রামে। সেখানে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উন্মুক্ত স্থানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউএনও মো. আব্দুল ওয়াদুদ। সেখানে ঘর পেয়েছেন এমন এক উপকারীভোগী হলেন পারভীন।
পাকা ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের ঘর দিয়েছেন। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখুন। আপনার জন্য অনেক দোয়া করি।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি কাঁদবেন না। আজকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এ জন্যই নিজেকে উৎসর্গ করেছি। দেশের একজন মানুষও যেন গৃহহীন না থাকে সেই ব্যবস্থা আমরা করব। এ সময় যারা ঘর পেয়েছেন প্রত্যেককে ঘরের সামনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এরপর প্রধানমন্ত্রী নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুর গ্রামের ঘর পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। ইউএনও নাসির আহমেদের সঞ্চালনায় সেখানে উপকারভোগীরা প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান। সেখানে এক উপকারভোগী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে সালাম দিয়ে প্রশ্ন করেনÑ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কি ভালো আছেন?’
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ভালো আছি। আপনারা কি খুশি?
জবাবে তিনি বলেন, ‘খুশি, খুব খুশি। স্বামী-সন্তান নিয়ে মানুষের বাড়িত আছিনু (ছিলাম)। খুব কষ্টে আছিনু। এখন মোক (আমাকে) শেখের বেটি শেখ হাসিনা জায়গাজমি, ঘর, কল (পানির), সবকিছুই উপহার দিছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে থাকপো। এখন হামরা খুব খুশি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি তোমরা দীর্ঘজীবী হও। সুস্থ থাক, ভালো থাক, আর এই দেশের উপকার কর।’
পরে উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্য ভাওয়াইয়া গানের সুরে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান উত্তরের এই জেলার সুবিধাভোগীরা। সুরে সুরে গান ‘বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যা আমার শেখ হাসিনা, দেশ-বিদেশে নাই যে তুলনা’।
গান শুনে হাততালি দিয়ে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। সেখানে তো আপনারা মেলা বসিয়েছেন। নিশ্চয় শীতের পিঠা খাওয়া হচ্ছে। সবাই ভালো থাকেন সেই দোয়া করি।’
সৈয়দপুরের পরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ইকরতলি গ্রামে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলের সবাই তো আমার পরিবারের মতো। এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গেও সংসদে কথা হয়। আমি একটু উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। এ সময় সেখানে ঘর পাওয়া দরিদ্র নুরু মিয়া প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘দুই শতক জায়গাসহ আপনি আমাদের সুন্দর পাকা ঘর দিয়েছেন। আমরা আজ অনেক খুশি। আমি এখন আমার বউ-বাচ্চা নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারমু। আমি আপনার জন্য দোয়া করমু, আল্লাহ যেন আপনার হায়াত বাড়াইয়া দেয়। আপনি যেন আরও গরিব-দুখীদের সাহায্য করতে পাবেন।’
তার বক্তব্য শোনার পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি খুব খুশি হলাম। আপনারা ভালোভাবে থাকেন এটাই আমি চাই।
এরপর প্রধানমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বালিয়াবান্দি ইউনিয়নের সল্লাগ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে ইউএনও মো. নাজমুল ইসলাম সরকার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। তিনি আমের রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তার উপজেলায় নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন। শুরুতেই উপকারভোগীরা ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ সেøাগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলান। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পক্ষে থেকে তারা প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা গান শোনানোর অনুমতি চান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, অবশ্যই গম্ভীরা গান শুনব। প্রথম গম্ভীরা গান শুনেছিলাম ১৯৭৪ সালে বাবার সঙ্গে নাটোরে গিয়ে। সেখানে নানা-নাতি এসে গম্ভীরা শোনায়। এখন অবশ্যই গম্ভীরা শুনব। এ সময় হারমোনিয়াম ও ডুগি তবলা নিয়ে এবং নানা-নাতি তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তালে ও লয়ে পরিবেশন করেনÑ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে জানাই সাদর সম্ভাষণ, আপনি করছেন দেশের উন্নয়ন, হে নানা ভূমিহীন মানুষেরা তাই তো পাইলো সুখের দরশন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার, শেখ হাসিনা সেই কাজ করছেন বরাবর।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে খুব উচ্ছ্বসিতভাবে তা উপভোগ করতে দেখা যায়।
পরে সেখানে ঘর পাওয়া এক শারীরিক প্রতিবন্ধী উপকারভোগী ফাতেমা বেগম প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমার কোনো ঠিকানা ছিল না। আমি ঠিকানাহীন ছিলাম। আজ আপনার দেওয়া জমি আর বাড়িতে আমার ঠিকানা হয়েছে। এখানে আমার পরিবার নিয়ে এখন বসবাস করতে পারব। আমি খুব খুশি হয়েছি। আল্লাহর কাছে আপনার জন্য অনেক অনেক দোয়া করি। আপনি যেন দীর্ঘজীবী হোন। আমার মতো আরও অসহায় মানুষের উপকার করতে পারেন।’
এদিন ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার দুই শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে দুই কক্ষবিশিষ্ট একক গৃহ মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে পেয়েছেন। একই সঙ্গে ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪ প্রকল্পে আরও ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ৬৯ হাজার ৯০৪ পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে বিনামূল্যে ঘর করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিশে^ অনন্য নজির সৃষ্টি করল বাংলাদেশ।
‘মুজিব বর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে নাÑ প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীন চলমান গৃহ ও জমি প্রদান কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে সারা দেশে এসব ঘর পায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর করে দিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ পরিবারকে তালিকাভুক্ত করেছে সরকার। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে ভূমি ও ঘর দেওয়া হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষ পালন করছে সরকার। বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন। উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবেন। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবেন (বন্দোবস্ত)।
দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘর তৈরিতে খরচ হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর। রান্নাঘর ও সংযুক্ত টয়লেট থাকছে। টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প এ কাজ করছে। খাস জমিতে গুচ্ছ ভিত্তিতে এসব ঘর তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব ঘরের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘স্বপ্ননীড়’, কোথাও নামকরণ হচ্ছে ‘শতনীড়’, আবার কোথাও ‘মুজিব ভিলেজ’।
সরকারের এই উদ্যোগ বিশে^র ইতিহাসে নতুন সংযোজন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
এই প্রকল্পের পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ^ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের বিশাল অর্জন।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]