ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

ভ্যাকসিন নিয়ে বিএনপির অপপ্রচার
মো. আসাদ উল্লাহ তুষার
প্রকাশ: রোববার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৩৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 52

বিএনপি তার চিরাচরিত অপপ্রচারের অংশ হিসেবে এবার করোনার ভ্যাকসিন নিয়েও অপপ্রচার শুরু করেছে। বিশে^র বিভিন্ন দেশে যখন করোনা প্রতিরোধে সফলভাবে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশেও যখন ভ্যাকসিন প্রয়োগের একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন সেই পুরনো খেলায় মেতে উঠেছে সরকারি ও বিরোধী দল হিসেবে চূড়ান্ত ব্যর্থ বিএনপি। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ২০ লাখ কোভিড ভ্যাকসিন ভারত সরকারের উপহার হিসেবে এসেছে। এগুলো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’ যা বিশে^র সর্ববৃহৎ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে চুক্তির আওতায় প্রস্তুত করছে।
আসলে সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ ও যেকোনো প্রকারে ক্ষমতায় যেতে মরিয়া বেসামাল বিএনপি নেতারা করোনা প্রতিরোধে দেশে ভ্যাকসিন আসায় হতাশ হয়ে পড়েছে। যে কারণে করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আসাকে এবং এর সুষ্ঠু প্রয়োগে সাধুবাদ না জানিয়ে নির্লজ্জ অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। অহেতুক সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগে অবিশ^াস, সন্দেহ তৈরি করছে। তা না হলে ভ্যাকসিন আসার প্রাক্কালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন, দেশের সাধারণ মানুষ করোনা ভাইরাসের টিকা কতটা কীভাবে পাবে, সে বিষয়ে তার সংশয় আছে; কেননা টিকা আগে ‘ধনীদের দেওয়া হবে’ বলে তারা খবর পেয়েছেন! ঠিক ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্যের পরের দিনই অন্য এক অনুষ্ঠানে বুঝে না বুঝে সব বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পারদর্শী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বললেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, যে ভ্যাকসিন আসছে, এটা ভিআইপিরা আগে পাবে না। ভিআইপিরা আগে দেখবেনÑ গরিব মানুষের ওপর প্রয়োগ করে! গরিব মানুষ গিনিপিগ নাকি? আগে ভ্যাকসিন দিয়ে দেখবেন ওরা মরে না বাঁচে।’ এ ছাড়াও বিএনপিপন্থি অনেক বুদ্ধিজীবী ভ্যাকসিন প্রয়োগ নিয়ে কল্পনাপ্রসূত, মনগড়া অচিকিৎসাসুলভ বক্তব্য দিয়ে জনমনে সন্দেহ ও অবিশ^াস তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন যা খুবই দুঃখজনক।
বিএনপি তার জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামী লীগ ও সব শুভ কাজের বিরুদ্ধেই অসত্য, অবৈজ্ঞানিক, ভিত্তিহীন মনগড়া সব অপপ্রচারে লিপ্ত থেকেছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান তার অবৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করে হেন কোনো অপপ্রচার নাই যা করেননি। ভারতের দালাল, ক্ষমতায় গেলে দেশ বিক্রি করে দেবে, দেশে ধর্ম থাকবে না, ইসলাম থাকবে না ইত্যাদি ইত্যাদি নানা ধরনের যে অসত্য অপপ্রচার শুরু করেছিল তা তার বিধবা পত্নী খালেদা জিয়া আরও এককাঠি এগিয়ে নানা রঙ লাগিয়ে দীর্ঘদিন সেই অপপ্রচার জিইয়ে রেখেছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদে উলুধ্বনি হবে, দেশ ভারতের দখলে চলে যাবে, দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে, ইসলাম থাকবে না ইত্যাদি অপপ্রচারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়েও মনগড়া হাস্যকর নানা ধরনের অপপ্রচার দেশ বিদেশে শুরু করেছিল। স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে হেন কোনো অপপ্রচার নাই যে বিএনপি ও তার নেত্রী বেগম জিয়া করেননি। সব চক্রান্ত ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করলেন তখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের একাধিকবার সরকারের দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়া বলে বসলেন, ‘এই সেতু নির্মাণ শেষ করতে পারবে না আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ জোড়াতালি দিয়ে এই সেতু তৈরি করেছে এই সেতুতে কেউ উঠবে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে দুটো পদ্মা সেতু তৈরি করব।’ সেসব কথা বা অপপ্রচার এখন মানুষের হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, অর্থনীতির চাকা যখন মন্থর, দেশে দেশে যখন লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই মহামারি দৃঢ়তার সঙ্গে সামাল দিচ্ছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে ও সরকারের নানাবিধ প্রচেষ্টায় দেশে এখন অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে এই ভাইরাসের প্রকোপ বিদ্যমান। দেশের মানুষকে এই মহামারি থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ও তার সরকার দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, অর্থনীতি সচল রাখতে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং দেশের সার্বিক অবস্থা যখন বেশ স্বাভাবিক আছে তখনই মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে বিএনপি নামক এই অভিশপ্ত দলের ও তার শীর্ষ নেতাদের। এখন তারা তাদের পুরনো খেলা সেই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। উপর্যুপরি আন্দোলনে ব্যর্থ ও নির্বাচনে পরাজিত এবং শীর্ষ নেতৃত্ব যখন দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মের দায়ে দণ্ডিত ও পলাতক তখন এদের এই অপপ্রচার দেশের মানুষ ঘৃণ্যাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বৈশি^ক এই মহামারি নিয়ে এবং এর টিকা নিয়ে বিএনপির নেতা-নেত্রীরা ও তাদের দোসররা যে ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে তা একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত গর্হিত কাজ এবং অবশ্যই তা নিন্দনীয়।
এখন আসা যাক বিএনপি বা তাদের মিত্ররা এই ভ্যাকসিন নিয়ে কী কী অপপ্রচার করছে। ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশে যে ভ্যাকসিন এসেছে ভারত থেকে, সেটি অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন নয়। ভারতের তৈরি কোভ্যাকসিন, যার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনও সম্পন্ন হয়নি।’ অথচ সঠিক তথ্যটি হলো বাংলাদেশে ২০ জানুয়ারি ২০ লাখ করোনা ভ্যাকসিন যেগুলো ভারত সরকারের উপহার হিসেবে দিয়েছে এগুলো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’ যা বিশে^র সর্ববৃহৎ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে চুক্তির আওতায় প্রস্তুত করছে বিশে^র বিভিন্ন দেশের জন্য।
ভ্যাকসিন নিয়ে কুচক্রীরা আরও যে গুজব ছড়াচ্ছে তা হচ্ছেÑ ‘বাংলাদেশে ভারত থেকে আসা করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করা হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর। স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর প্রয়োগ করে পাশর্^প্রতিক্রিয়া ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। ভিআইপিরা এই কারণেই আগে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন না।’ অপপ্রচারে যে হিতাহিত জ্ঞান থাকে না তা আরেকবার প্রমাণ করল অপপ্রচারকারীরা। সঠিক তথ্য হলো বাংলাদেশ কোনো ট্রায়াল ভ্যাকসিন আনেনি। বাংলাদেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন দিয়েই সারা দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এটি সব ধরনের ট্রায়াল সম্পন্ন করে কার্যকারিতা, পাশর্^প্রতিক্রিয়ার হার ও ধরন নিশ্চিত হয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত ভ্যাকসিন। তাই বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর প্রয়োগ করে নতুনভাবে কার্যকারিতা ও পাশর্^প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে না। ২৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রায়োরিটি লিস্টের অন্য পেশাজীবীদের (আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মুক্তিযোদ্ধা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইত্যাদি) ওপর প্রয়োগ করা হবে ভ্যাকসিন কার্যক্রমের মহড়া হিসেবে, যার একটি অংশ পাশর্^প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও লিপিবদ্ধকরণ। সারা দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলাকালে ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর কর্তৃক প্রস্তুতকৃত পাশর্^-প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ছক অনুসারে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ব্যাপারগুলোই মহড়ার মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে ২৫ জনের ওপর প্রয়োগ করে এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হবে। সারা পৃথিবীতেই স্বাস্থ্যকর্মী ও বয়োবৃদ্ধদের ভ্যাকসিন প্রায়োরিটি তালিকার সর্বাগ্রে রাখা হয়েছে এবং সেভাবেই ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও সেটি ঘটছে। অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন খোদ যুক্তরাজ্যেই প্রথমে দেওয়া হয়েছে একজন ৮২ বছর বয়সের বৃদ্ধকে, এরপর স্বাস্থ্যকর্মীরা নেওয়া শুরু করেছে এবং তারও কিছুদিন পরে যুক্তরাজ্যের রানী এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপ ভ্যাকসিন পেয়েছেন।
সত্যি সত্যি ভ্যাকসিন দেশে চলে আসায় বিএনপি ও তার অন্যান্য অপপ্রচারকারী মিত্ররা বেসামাল হয়ে পড়েছে। সরকার বিনে পয়সায় যখন দেশের সব মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে তখনই তারেক-ফখরুল-রিজভী-জাফরুল্লাহরা এই ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ^াস তৈরি করতে মরিয়া হয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান বিশে^র অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র চক্রান্তকে উপেক্ষা করে দেশের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও অব্যাহত সহযোগিতায় সাহসের সঙ্গে বৈশি^ক এই করোনা মহামারি সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করে বিশে^র দরবারে বুকটান করে মাথা উঁচু করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে যেভাবে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন তা ইনশাল্লাহ অব্যাহত থাকবে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সার্থক বাস্তবায়ন, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, মেট্রো রেল প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ, দেশকে চার লেন, ছয় লেনের সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা, বিদ্যুৎ ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাতারবাড়ী ও পায়রা বন্দর নির্মাণ, কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণসহ সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করে বিশে^র বুকে দেশকে শেখ হাসিনা আজ অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আর এসবেই বিএনপি তথা অপপ্রচারকারী কুচক্রীদের গাজ্বালা। ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীন এই বাংলাদেশ তার জন্মের সুবর্ণজয়ন্তী ও জনকের জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে মহামারি করোনাকে পরাজিত করে বীরদর্পে। সেই সঙ্গে পরাজিত হবে দেশবিরোধী সব অপশক্তি এবং অবশ্যই বিএনপি।

ষ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]