ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক সাধুবাদ
প্রকাশ: রোববার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৩৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 26

বিশে^র সবচেয়ে বড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে শনিবার। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে অন্যতম বৃহৎ এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় জমি ও ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়। একই সঙ্গে ৭৪৩টি ব্যারাকে ৩ হাজার ৭১৫ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। প্রথম ধাপে মোট ৬৯ হাজার ৯০৪টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হচ্ছে। বিশে^র ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অংশে পরিণত হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিব বর্ষের উপহার স্বরূপ দেশের গৃহহীনদের পাকা বাড়ি করে দেওয়ার প্রথম পর্যায়ে এসব বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে গৃহহীন পরিবারের মধ্যে।
ইতিহাস সৃষ্টি করে শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ায় ছিটমহল বিনিময় করে অনেকের পরিচয় করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশি হিসেবে। এবার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন তাদের অনেককেই। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ের সময় দাসিয়ারছড়ায় থেকে গিয়েছিলেন অনেকেই। ভারতীয় হিসেবে নয়, বাাংলাদেশি নাগরিক পরিচয় ফিরে পাওয়ার স্বপ্নপূরণ করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশের মানুষ যেন ঘরহীন না থাকে। আজ ৪৯ বছর পর তাঁর স্বপ্নের বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথকে এগিয়ে দিলেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা। মানুষের বিশ^াসের জায়গায় যে আস্থার শেকড় স্থাপিত হলো, তাতে আগামীতে সোনার বাংলার পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া সহজ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সত্যি আমার জন্য একটি আনন্দের দিন। কারণ এদেশের যারা সব থেকে বঞ্চিত মানুষ, যাদের কোনো ঠিকানা ছিল না, ঘর-বাড়ি নেই, আজকে তাদেরকে অন্তত একটা ঠিকানা, মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে পেরেছি। মুজিব বর্ষে আমাদের অনেক কর্মসূচি ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা করতে পারিনি। করোনা আমাদের জন্য যেমন অভিশাপ নিয়ে এসেছিল, আবার আরেকদিকে আশীর্বাদও। কারণ আমরা এই একটি প্রকল্পেই নজর দিতে পেরেছি। এটাই আমাদের আজকে বড় উৎসব; গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষদের ঘর দিতে পেরেছি। এর চেয়ে বড় উৎসব বাংলাদেশে হতে পারে না। এ সময় সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের নিজ নিজ এলাকার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর তৈরি করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প প্রথম পর্যায়ের নির্মাণের সামগ্রিক কার্যক্রম সমন্বয় করছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে একক গৃহগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন পরিবারগুলোকে ২ শতাংশ খাসজমির ওপর ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সব গৃহের নকশা একই রকম রাখা হয়েছে। প্রতিটি গৃহে ইটের দেওয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং লাল, নীল ও সবুজ রঙের টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি দুটি করে শোয়ার ঘর, একটি রান্নাঘর, টয়লেট এবং সামনে খোলা বারান্দা থাকছে। গৃহপ্রতি ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ পর্যায়ে গৃহহীনদের জন্য ১ হাজার ১৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে।
মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি বাসস্থান। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশে বাসস্থান সঙ্কট যুগ যুগ ধরে ছিল। মানুষের এ মৌলিক চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ে নানা প্রতিকূলতার জন্য ঘরহীন মানুষেরা ঘর পায়নি। অন্ন-বস্ত্রের অভাবকে আমরা জয় করেছি। দেশ থেকে মঙ্গার মতো ক্ষতকে চিরবিদায় জানাতে পেরেছি। শুধু আমাদের প্রয়োজন ছিল সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুরৈখিক পরিকল্পনায় তারও সমাধান হতে যাচ্ছে। বিগত দেড় দশকে তিনি দুঃখী মানুষের জন্য যে মানবিক ও আন্তরিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তার ফলে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এই আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শুধু বাংলাদেশের গৃহহীন মানুষ নয়, পৃথিবীর তাবৎ গৃহহীন মানুষ আশার আলো দেখতে পেল। আন্তরিকতা থাকলে যেকোনো কঠিন সমস্যার সমাধান সম্ভব তার নজির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থাপন করেছেন। গৃহহীনদের মৌলিক এই চাহিদার উদ্বোধন করে মানুষের ভালোবাসার যে উদাহরণ তিনি সৃষ্টি করেছেন সেজন্য আমরা তাকে আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। তার দীর্ঘায়ু কামনা করি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]