ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

অটোমোবাইল শিল্প
উন্নয়ন নীতিমালা চূড়ান্ত
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: রোববার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৪০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 20

বাংলাদেশে অটোমোবাইল শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই শিল্পের উন্নয়ন নীতিমালা তৈরি প্রায় চূড়ান্ত। এই নীতিমালা তৈরির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়ানো। একই সঙ্গে জিডিপিতে বিশেষ অবদান রাখা। ইতোমধ্যে এই খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
সম্প্রতি অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়নের নীতিমালা চূড়ান্ত করতে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শিল্প সচিব কেএম আলী আজম। সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব (শুল্কনীতি ও আইসিটি) একেএম নুরুল মজিদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক কাস্টমস আইন ও গাইডলাইনে ও বাংলাদেশের শুল্ক আইনে সেমি নকড ডাউনের কোনো অস্তিত্ব নেই। সে কারণে বর্তমান নীতিমালায় এর সংজ্ঞা সংযোজন ঠিক হবে না।
সভায় উত্তরা মোটরসের সভাপতি বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মো. মতিউর রহমান বলেছেন, প্যানেঞ্জার কার শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এই প্রথম নীতিমালা হচ্ছে। তবে সেমি নকড ডাউন কারখানা স্থাপন সুবিধা প্রদানে একটি নিদিষ্ট সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। কারণ, ভেণ্ডর যদি তৈরি করা না যায় তাহলে সেমি নকড ডাউন কারখানা স্থাপন ও কমপ্লিট নকড ডাউন কারখানা স্থাপন কোনো কিছুতেই অগ্রসর হওয়া যাবে না। তিনি কমার্শিয়াল ভেহিকেল ও পেসেঞ্জার কারের জন্য আলাদা আলাদা সংজ্ঞা এই নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তির জন্য অনুরোধ জানান।  
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ সভাকে জানান, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণে অটোমোবাইলের বিভিন্ন সংজ্ঞা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা সমীচীন হবে। এ ছাড়া রিকন্ডিশন গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি করা প্রয়োজন।
নিটল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মাতলুব আহমাদ সভায় বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ছাড়া এসকেডি ও সিকেডির সংজ্ঞা তৈরি করলে জটিল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মনির হোসেন বলেন, যে বিষয়ের সঙ্গে আমদানি রফতানি জড়িত সে বিষয়ে কোনো বিধি বা নীতিমালা করতে হলে প্রথমেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংজ্ঞা স্পষ্ট করতে হবে। তা না হলে পরবর্তী সময়ে সমস্যা সৃষ্টি হবে।
রানা গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেছেন, ভেণ্ডর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। যেসব যন্ত্রপাতি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব এমন যন্ত্রাংশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ভেণ্ডর উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ভেণ্ডরের উন্নয়ন শুধু নতুন গাড়ির জন্য নয়, বরং এটি স্পেয়ার পার্টস মার্কেটের জন্যও প্রয়োজন। ভেণ্ডর উন্নয়নের জন্য আলাদা একটি নীতিমালা করার জন্য তিনি প্রস্তাব দেন। তিনি আরও বলেছেন, আন্তর্জাতিক মান বলে কোনো মানের অস্তিত্ব অটোমোবাইল শিল্পে নেই। ভারত, ইউরোপ ও আমেরিকায় তাদের দেশীয় মানই আন্তর্জাতিক মান হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ যে মান তৈরি করবে তা একসময় আন্তর্জাতিক মানে পরিণত হবে। তবে অন্যান্য দেশের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের মান তৈরি করা সমীচীন হবে।
প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুজ্জামান বলেছেন, যারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করবে তাদেরকে প্রণোদনার জন্য ডাই ও মোল্ড তৈরির ক্ষেত্রে এই সুবিধা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করা উচিত।
পিএইচপি অটোমোবাইলের পরিচালক মো. আখতার পারভেজ বলেছেন, শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে স্পেয়ার পার্টস উৎপাদনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত। পার্টস সবাই তৈরি করলে কোনো কারখানা এ ক্ষেত্রে লাভজনক হবে না।
টিভিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিপ্লবকুমার রায় সভায় বলেছেন, ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ইন্ডাস্ট্রির জন্য যে সুবিধা রাখা হয়েছে তা বাড়ানো প্রয়োজন। অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা সৃজনপূর্বক ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ সৃষ্টি করা না গেলে দেশীয় অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি টেকসই হতে পারবে না।
বিএসটিআই মহাপরিচালক ড. নজরুল আনোয়ার বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে বাংলাদেশ মানকে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান সংযুক্ত করা যেতে পারে। এ ছাড়াও দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পরিচালক, বুয়েটের মেকানিক্যাল প্রকৌশলের ড. মো. এহসান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলাদাভাবে বক্তব্য রাখেন।
সভা শেষে সচিব জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ অটোমোবাইল শিল্প বিষয়ে অভিজ্ঞ চার-পাঁচজন সদস্য নিয়ে একটি কমিটি করা হবে। এই কমিটি এসকেডি ও সিকেডির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও জানান, রিকন্ডিশন যানবাহন আমদানি ব্যবসাকে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় দেখা হচ্ছে। সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি গাইড লাইন তৈরি করা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]