ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

ওএমএসের আটা কিনতে ছুটছে নিম্ন আয়ের মানুষ
প্রকাশ: রোববার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৫৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

কায়সার রহমান রোমেল গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় কিছুটা কম দামে জীবন ধারণের অপরিহার্য দুটি পণ্য চাল ও আটা কিনতে খাদ্য অধিদফতরের ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) দিকে ছুটছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এতে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডিলাররা। ওএমএসের চাল ও আটা বরাদ্দ পাওয়া গাইবান্ধার বিভিন্ন অঞ্চলের ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি ক্রেতাদের চাপ অনেক বেশি। তারা যে চাল ও আটা বরাদ্দ পাচ্ছেন, তা অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
ডিলাররা বলছেন আটা চালসহ বিভিন্ন দ্রব্যের বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাধারণ দরিদ্র নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় জমাচ্ছে ওএমএস ডিলারের দোকানে। চাহিদা বাড়লেও জোগান বাড়েনি। প্রায় ১ হাজার জনের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ মাত্র ১শ জনের। দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়েও খাদ্যসামগ্রী না কিনেই ফিরতে হচ্ছে অনেককেই।
সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলা শহরের কয়েকটি স্থান ঘুরে সত্যতাও মিলেছে। জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে ডিলারদের মাধ্যমে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে স্বল্পমূল্যে প্রতি কেজি আটা ১৮ টাকা দরে বিক্রয় করা হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এসব পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ অনেক কম। তা ছাড়া আগের চেয়ে ডিলার কমে যাওয়ায় চাপ বাড়ছে বিক্রয় ডিলারদের ওপর।
সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পিয়ারাপুর থেকে আটা কিনতে আসা মঞ্জুর রহমান জানালেন, বাজারে মোটা চালসহ সব ধরনের চালের দাম বেশি হওয়ায় কম দামে ন্যায্য মূল্যের আটা কিনতে এসে প্রায় ১ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পাচ্ছি না। প্রতিজন সর্বোচ্চ ৫ কেজি আটা কিনতে পারে।
সাবেক ডিলার হারুন অর রশিদ জানান, আগে দৈনিক ৯টি স্থানে ডিলারের মাধ্যমে আটা-চাল দেওয়া হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ৫টি স্থানে করা হয়েছে। ফলে যে স্থানগুলোতে চাল-আটা বিক্রয় হচ্ছে সেই স্থানে ক্রেতার সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। যারা আগে আসতে পারে তারাই আগে কিনতে পারে। বিপাকে পড়ে বয়স্ক নারী-পুরুষ এবং শিশুরা।
জেলা শহরের পশ্চিম গোবিন্দপুর থেকে আসা সুলতানা বেগম জানালেন, সকাল থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি ৫ কেজি আটা কেনার জন্য। অনেক মানুষ থাকায় লাইন শেষ হয় না। গাইবান্ধা পৌর শহরের সুন্দরজাহান মোড়ের ডিলার মকবুল হোসেন জানান, প্রতি সপ্তাহে মাত্র ২শ জনের জন্য আটা ক্রয়ের সুযোগ থাকলেও এখানে চাহিদা নিয়ে লাইনে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও শিশু এবং মধ্য বয়সি নারী। চাহিদার তুলনায় ক্রেতা বেশি থাকায় তাদেরও অনেক ভোগান্তি হয় অন্যদিকে সুশৃঙ্খলভাবে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হয়।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. রিয়াজুর রহমান রাজু জানান, ৯ ওয়ার্ড বিশিষ্ট গাইবান্ধা পৌরসভা এলাকায় প্রতিদিন ৫টি স্থানে ডিলারের মাধ্যমে আটা বিক্রি করা। সর্বমোট ১৮টি স্থানে বিভিন্ন দিনে আটা বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৫ টন আটা বিক্রি নির্ধারিত। অতিরিক্ত চাহিদার কথা জানার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আমরা জানিয়েছি, এখন সিদ্ধান্ত এবং বরাদ্দ সাপেক্ষে বিক্রির স্থান এবং পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]