ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

জন্মান্ধ মনোয়ারার তিনবেলা জোটে  না আহার
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:১৮ পিএম আপডেট: ২৪.০১.২০২১ ১১:২৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 22

জন্মান্ধ মনোয়ারা ভিক্ষে করে তিনবেলা খাবার জোটাতেন। এ করোনাকালে তার সৎছেলে ও ছেলের বউ তাকে ছেড়ে গেছে। এখন তিনবেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না। ৫১ বছর বয়সি জন্মান্ধ মনোয়ারা খেদের সঙ্গে বলেন, আমি জন্ম থেকে অন্ধ, ভিক্ষে করে এতদিন খাবার জুটিয়েছি। এ করোনার সময়ে আর পারছি না। এ দেশে কী এমন কেউ নেই যে আমাকে তিনবেলা খাবার দিতে পারেন?
তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের শেলুন গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে মনোয়ারা। জন্মগতভাবে অন্ধ। জন্মগতভাবে অন্ধ হওয়ায় পারিবারিকভাবে হতদরিদ্র বাবা মনোয়ারাকে শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছি গ্রামে বিপত্নীক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেন। আট বছরের সৎছেলে বাবুকে নিয়ে স্বামীর সংসারে বসবাস করতে থাকেন মনোয়ারা। তার কিছুদিন পর সপরিবারে উল্লাপাড়ার ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকেন। জীবন-জীবিকা অনেক সুন্দরভাবে চলতে থাকে।
কিন্তু পাঁচ বছর পূর্বে স্বামী জসিম উদ্দিন মারা যান। দুর্দিন নেমে আসে মনোয়ারা ও তার সৎছেলে বাবুর জীবনে। অনেক কষ্টে একমাত্র সৎছেলেকে নিয়ে খেয়ে বা খেয়ে চলতে থাকে মনোয়ারার জীবন। সংসার চালাতে ১১ বছরের সৎছেলে বাবুকে বাসায় রেখে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন মনোয়ারা। তখন উল্লাপাড়াতে ভোটার হয়েছিলেন তিনি। উল্লাপাড়ায় ভোটার হওয়ার সুবাদে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও পেয়েছেন মনোয়ারা।
দুই বছর পূর্বে বিধবা মনোয়ারা সৎছেলে বাবুকে বেলকুচি উপজেলার তেয়াশিয়া গ্রামে বিয়ে করান। তেয়াশিয়া গ্রামে বিয়ে করার সুবাদে উল্লাপাড়ার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তেয়াশিয়া গ্রামে আঙ্কেল আলীর বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে ছেলে ও ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। ছেলে ভ্যান চালিয়ে ও মনোয়ারা ভিক্ষা করে যা পেতেন তা দিয়েই চলছিল সংসার। কিন্তু এখানেও কপালে সুখ সইল না। ছেলের বউ রাগ করে পাশেই বাবার বাড়িতে থাকা শুরু করে। ছেলেও বউয়ের সঙ্গে থাকা শুরু করে।
সৎছেলে ও ছেলের বউ সংসারে না থাকায় অন্ধ জীবন ও বিধবা হওয়ায় মনোয়ারার জীবনে আরও দুর্দিন নেমে আসে। ভিক্ষাবৃত্তি করে আহারের ব্যবস্থা করলেও রান্না করে দেবে কে? স্বামী মারা গেছে পাঁচ বছর আগে, একমাত্র সৎছেলেও দেখাশোনা করে না। অন্ধ মনোয়ারার জীবন চলছে ভিক্ষা করে। চোখের আলো বন্ধ। এখনও খাবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে।
অন্ধ মনোয়ারার সারাদিন ভিক্ষা করে কিছু জোটাতে পারলেও রান্না করার জন্য পাশের বাড়ির বিধবা মরিয়ম নামের এক মহিলা তাকে তিনবেলা খাবার দেন এই জন্য প্রতিদিন ১০০ টাকা তুলে দিতে হয় মনোয়ারাকে।
খবর পেয়ে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি গিয়েছিলেন অন্ধ বিধবা মনোয়ারার ভাড়া বাসায়। তার ছেলে বাবুকেও ডেকে আনা হয়েছিল। অন্ধ মনোয়ারা বলেন, বাড়ি বসে ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। ভিক্ষাবৃত্তি করতে চাই না। শুধু দুবেলা আহারের জোগাড় হলেই আমার বাকি জীবন চলে যাবে। আহারের ব্যবস্থা হলে সারাদিন আল্লাহ আল্লাহ করব। ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে সারাদিন যা হয় তা তুলে দিতে হয় আমার আহারের জন্য।
মনোয়ারার প্রশ্ন, দেশের এমন কোনো সহৃদয় ব্যক্তি নেই যিনি আমার মতো এক অন্ধ বিধবার শুধু আহারের ব্যবস্থা করবেন? আমার আহারের ব্যবস্থা হলেই বাকি জীবন সুখে কাটিয়ে দিতে পারব। আহারের ব্যবস্থা ছাড়া আমার আর কোনো চাহিদা নাই।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]