ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কদর বাড়ছে পাহাড়ি ঝাড়ুফুলের
মেজবাহ উদ্দীন খালেদ সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:১৮ পিএম আপডেট: ২৪.০১.২০২১ ১১:৩১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 163

ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ঘরের নিত্যদিনের অন্যতম সঙ্গী পাহাড়ি ঝাড়ুফুল। ইতোমধ্যে পাহাড়ি ঝাড়ুফুল দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে বিদেশে। সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি ঝাড়ুফুলের কদর দেশজুড়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে পাহাড় থেকে ঝাড়ু তৈরি করার জন্য ঝাড়ুফুল কাটা শুরু হয়েছে। গহিন পাহাড় থেকে এ ফুল সংগ্রহ করার আনন্দে মেতে উঠেছে ঝাড়ুফুল সংগ্রহকারীরা। এ ফুল দিয়ে সুন্দর ও সহজভাবে ব্যবহারযোগ্য ঝাড়ু তৈরি হয় বলে দেশের বড় বড় শহরে রফতানি করা হচ্ছে। ঝাড়ুফুলের সহযোগিতায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সহজে করা যায়। বাণিজ্যিক চাষাবাদ না হলেও পাহাড়ের জঙ্গলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেওয়া এই ফুলের রয়েছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। স্থানীয় মানুষ তা সংগ্রহ করে বাজারে এনে বিক্রি করে ব্যবসায়ীদের কাছে। ব্যবসায়ীরাও ঝাড়ুফুলের ব্যবসায় লাভের মুখ দেখছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এ পেশায় ব্যবসায়ীর সংখ্যা।
উপজেলার সীতাকুণ্ড পৌর সদর, বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড, মগপুকুর, সুলতানা মন্দির, ছোটকুমিরা, বড়কুমিরা, মাজার গেট, জোড়আমতল, ফকিরহাট, বিশ^^বিদ্যালয় গেট, বারআউলিয়া, শুকলাল হাট, সিরাজভূঁইয়ার রাস্তার মাথা, আনোয়ারা গেটসহ বিভিন্ন খোলা স্থানে পাহাড়ি বাহারি ঝাড়ুফুল শুকাতে দেখা যায়। এ কাজে কর্মরত গরিব খেটে খাওয়া মহিলা, পুরুষ সবাই এখন ফুল শুকাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। শীতে রোদের আমেজ কম থাকায় এ ফুল শুকাতে সময় একটু বেশি নিলেও তাদের মুখে হাসির কমতি নেই। এ ঝাড়ুফুল সংগ্রহে ৩ স্তরে লোক কাজ করে। পুরুষরা খুব ভোরে উঠে দা নিয়ে গহিন পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তারা প্রত্যেকে ঘণ্টাখানেক এ ফুল সংগ্রহ করে। ১ হাজার ফুল একসঙ্গে আঁটি বেঁধে নিয়ে আসে লোকালয়ে। ওই ফুলগুলোকে পরিবারের মহিলারা বিভিন্ন খোলা স্থানে রোদে শুকিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করে। পরে ১০০টি ফুল নিয়ে আবার আঁটি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে নিয়ে যায়। ১০০টি ফুলবিশিষ্ট আঁটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দামে বিক্রি হয়। অনেক সময় পাহাড় থেকে ঝাড়ুফুল আনয়নকারী লোকগুলো নিজেরা না শুকিয়ে বাজারে পাইকারদের এজেন্টদের কাছে কাঁচা অবস্থায় বিক্রি করে দেয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন বড় বড় শহর থেকে ঝাড়ুফুল পাইকাররা এসে তা কিনে নিয়ে যায়। পরে তারা বিভিন্ন প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ দিয়ে পেঁচিয়ে হাতল তৈরি করে এর ওপর কারুকাজ করে শহরে বসবাসরত পরিবারের কাছে খুচরা ঝাড়ু হিসেবে বিক্রি করে। এ ছাড়া দালানকোটায় অবস্থিত বাসাবাড়িতে, শহরের বিল্ডিং আছে এমন অফিস-আদালতে ঘরকে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার জন্য ঝাড়ু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ঝাড়ুগুলো দেখতে চমৎকার এবং ব্যবহারে দ্রুত ময়লা পরিষ্কার ও বহনে সুবিধা বেশি বলে এটি শহরের প্রত্যেক বাসায় না থাকলে নয়। এ ছাড়া এ ঝাড়ুফুলের তৈরি ঝাড়ু নষ্ট হয় কম। তাই এটি সাশ্রয়ী।
পাহাড়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গহিন পাহাড়ে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার অবদানে কাশফুলের মতো গাছে এসব ফুলগাছ দেখা যায় পাহাড়ের টিলা থেকে টিলায়। পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন মাসে এ গাছে ফুল আসে যাকে ঝাড়ুফুল বলা হয়। বিভিন্ন গরিব লোক পাহাড়ে গিয়ে এ ফুল সংগ্রহ করে। এতে বন বিভাগ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয় না। কাঁচা অবস্থায় ভারী বলে দিনে একবার (২ আঁটি) কিংবা ২ ভাঁড়ের বেশি আনা যায় না। প্রতি ভাঁড়ের আনয়ন খরচ পড়ে ৭শ থেকে ৮শ টাকা। বিশেষত মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ১৮-২০টি ঝাড়ুফুলের কাঠি দিয়ে একটি আঁটি বাঁধেন। আর একেকটি আঁটি বিক্রি হয় ৭-৮ টাকায়। ব্যবসায়ীরা এগুলো কিনে প্রথমে শুকিয়ে থাকে। পরে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এসে প্রতি আঁটি ঝাড়ুফুল ১০-১১ টাকা দরে কিনে জিপ বা ট্রাকের মাধ্যমে সমতলের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যায়। ঝাড়ুফুলের ব্যবসাটি প্রসার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিত্তবান ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে এটি শিল্প আকারে রূপ নিতে পারে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]