ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

‘পরীক্ষা আগে নিলেও অভিযোগ, পরে নিলেও অভিযোগ’
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১, ৭:০৪ পিএম আপডেট: ২৭.০১.২০২১ ৮:৫৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 4091

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থা এমন হয়েছে, যেখানে পরীক্ষা নিলেও অভিযোগ, না নিলেও অভিযোগ আসছে। পরীক্ষা আগে নিলেও দোষ, আবার পরে নিলেও দোষ। এসব অভিযোগ থাকবেই। আসলে সব কিছু চাহিদামতো ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।

বুধবার বিকেলে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট) অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার দৈনিক সময়ের আলোকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের জবাবে এসব কথা বলেন।

গতকাল মঙ্গলবার অনার্স তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়। ইতোমধ্যে ২৫ জানুয়ারি থেকে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। এতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়ছেন অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার একাংশ। চলমান পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের থার্ড ইয়ারে ইম্প্রুভমেন্ট (মানোন্নয়ন পরীক্ষা) রয়েছে, নতুন রুটিন তাদের চিন্তা বাড়িয়েছে। রীতিমতো উভয় সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ তাদের। সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছেন পদার্থ বিদ্যার শিক্ষার্থী জিল্লুর রহমান।

সময়ের আলোকে তিনি বলেন, ৩য় বর্ষের পরীক্ষার রুটিন দেখে হতভম্ব হয়ে পড়লাম। একদিকে আমাদের ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে আবার ৩য় বর্ষের রুটিন। আমরা যারা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাদের অনেকেরই ৩য় বর্ষের ইম্প্রুভ আছে দুই তিন বিষয়ে। এখন রুটিন মিলিয়ে দেখলাম- চলমান ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা যেদিন, তার ঠিক পর দিনই আবার ৩য় বর্ষের ইম্প্রুভ। অর্থাৎ কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে দুই ইয়ারের দুইটি সাবজেক্টের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

জিল্লুরের মতো আর কয়েক পরীক্ষার্থী একই অভিযোগ করেন। তারা বলেন, এভাবে প্রস্তুতিহীন পরীক্ষা দিলে ফের অকৃতকার্য হতে হবে তাদের। কারণ কঠিন বিষয়গুলোতেই তারা ফেল করেছেন আগের বার। এখন আমরা অধ্যক্ষকের কাছে অভিযোগ জানাব, না চলমান পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করব?

এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে সাত কলেজের সমন্বয়ক বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কোনটা আমি ঠিক জানি না। তারা লিখিত অভিযোগ দিলে হয়তো বিষয়টা দেখতে পারব। কার কয় বিষয় ইম্প্রুভ আছে সেটাও জানাতে হবে। আর একই দিনে ইম্প্রুভ আর চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা পড়ে গেলে-তখন বিষয়টা দেখা যাবে। কিন্তু আমাদের তো ১৮-১৯টি পরীক্ষা নিতে হবে, তা না হলে আমরা ওভারকাম করব কীভাবে? ৩য় বর্ষের যারা নিয়মিত ছাত্র তাদের পরীক্ষা কি আটকে রাখা যাবে? হয়তো ইম্প্রুভ দিবে এক শতাংশ পরীক্ষার্থী আর বাকি ৯৯ শতাংশ হলো নিয়মিত ছাত্র, তাদের আটকে রাখা যাবে না। কিন্তু যাদের দু একটা বিষয় ইম্প্রুভ আছে, তারা যদি নির্দিষ্ট অভিযোগ করে তাহলে বিবেচনাা করে দেখা যেতে পারে। আর রুটিন প্রনয়ণকারীদের এতো ফাঁক ফোকড় মেলানো কঠিন।

সেলিম উল্লাহ খোন্দকার জানান, আমাদের আরো দুই তিনটা রুটিন হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যেই। মার্স্টাসের হবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে। আর ৩য় বর্ষের শুরু হবে ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ থেকে। যেকোন উপায়ে আমাদের পরীক্ষার জটগুলো তো খুলতে হবে।

দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার কারণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের এই সমন্বয়ক বলেন, আবার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলে আমরা পরীক্ষা নিতে পারব না। তারপর সামনে রমজান মাসের ছুটি আসছে। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, করোনার কারণে গত বছরের বকেয়া ১৯টা পরীক্ষা শেষ করতে হবে, তা না হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করবে। সেশনজটের সমাধান চেয়ে সড়কে নামবে তারা। এতো কিছু ত মানা যাবে না। তবে একই দিনে ৪র্থ বর্ষ ও তৃতীয় বর্ষের মানোন্নয়ন পরীক্ষা পড়ে গেলে, তার দিন পরিবর্তন করা হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমিও কথা বলেছি। শিক্ষার্থীরা যদি ঢাবি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত অভিযোগ করে, তখন আমরা হয়তো ঢাবিকে অনুরোধ করতে পারব। আসলে সব কিছুর সমাধান করা তো সম্ভব না। তাদের ইম্প্রুভ বা ফেল তাদের চেয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। আর জুনিয়রদের বেশি প্রাধান্য দিলে সিনিয়ররা মানতে চাইবে না।  পরীক্ষাও পেছাতে পারছি না।

সাত কলেজের ফোকাল পয়েন্ট জানান, ২০১৭-১৮ সেশনের মার্স্টাসের ফাইনাল পরীক্ষা ফ্রেবুয়ারির ২০ বা ২৪ তারিখ শুরু হতে পারে। ডিগ্রি ৩য় বর্ষ হয়তো ২০ তারিখ আর মার্স্টাস ফাইনাল হয়তো ২৪ তারিখ হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]