ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

করোনা জয়ের ইতিহাস শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:১৪ পিএম আপডেট: ২৭.০১.২০২১ ১০:৫৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 297

রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো দেশের করোনাভাইরাস টিকাদান কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে যোগদান করে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বুধবার বিকাল ৪টার কিছু পর এই কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কস্তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি কস্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘ভয় পাচ্ছ না তো।’ জবাবে কস্তা বলেন, ‘জ্বি না।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী রুনুকে বলেন, ‘খুব সাহসী তুমি।’ এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাকে টিকা দেন হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা। টিকা দেওয়া শেষ হতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন ওঠেন, ‘হয়ে গেল।’ এরপর হাততালি দিয়ে রুনুকে উৎসাহ দেন সরকারপ্রধান। প্রথম টিকা নিয়ে সিনিয়র নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা বলেন ‘জয় বাংলা’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রুনু তোমাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। তুমি সুস্থ থাক, ভালো থাক, আরও অনেক রোগীর সেবা কর, সেই দোয়া করি।’
প্রথম টিকা পাওয়া বাকি চারজন হলেনÑ এ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আহমেদ লুৎফুল মোবেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, মতিঝিল বিভাগের ট্রাফিক পুলিশ সদস্য মো. দিদারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম ইমরান হামিদ। তাদের টিকা নেওয়ার সময়ও ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। টিকা নিতে আসা স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানাকে প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, ‘নার্ভাস লাগছে না তো?’ জবাবে নাসিমা বলেন, ‘না। ঠিক আছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।’ এ সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাসল রিল্যাক্স করতে হবে।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ট্রাফিক দিদারুল ইসলাম টিকা নিতে আসার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, ‘ঠিক আছ?’ দিদারুল জানান তিনি ঠিক আছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটু কথা বলে রিল্যাক্স করাই।’ এই পাঁচজনের মধ্যে সবার শেষে টিকা নেন সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম ইমরান হামিদ। তাকে যখন টিকা দেওয়া হচ্ছে, সে সময় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘মনে হচ্ছে আমরাও গিয়ে নিয়ে আসি।’ পরক্ষণেই তিনি বলেন, ‘আগে আগে নিলে বলত নিজেই নিল অন্য কাউকে দিল না। সবাইকে দিয়ে নিই তারপরে।’
এ ভ্যাকসিনের মাধ্যমে দেশবাসী করোনামুক্ত হবে, প্রধানমন্ত্রী : ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। করোনার এই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে দেশবাসী করোনামুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কেনা হয়েছে। এরপর এগুলো সময়মতো আসতেই থাকবে। কোনো সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, এটা ঐতিহাসিক দিন। কেননা অনেক দেশ এখনও ভ্যাকসিন পায়নি। সেখানে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ভ্যাকসিন আমদানি করেছে।
সবাইকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সেই সঙ্গে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে, আল্লাহর কাছে এটুকু শুকরিয়া আদায় করি যে, আমরা সময়মতো এই ভ্যাকসিনটা ক্রয় করতে পেরেছি, আনতে পেরেছি এবং তা আজকে প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের দেশের মানুষকে আমরা সুরক্ষা দিতে সক্ষম হব। তিনি বলেন, এরপর সারা দেশে টিকা দেওয়া শুরু করা হবে, যাতে দেশের মানুষ তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্য সুরক্ষা পায়। উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ায় ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
টিকার সমস্যা হবে না বলে দেশবাসীকে আশ^স্ত করে তিনি বলেন, আমরা যে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কিনেছি তার মধ্যে ৫০ লাখ এসে গেছে। এরপর থেকে আরও আসতে থাকবে। কাজেই এ ব্যাপারে কোনো সমস্যা হবে না। টিকা সংগ্রহ ও টিকাদান সব কিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের জন্য একটা, আমি বলব এটা একটা ঐতিহাসিক দিন হলো। কারণ বিশে^র অনেক দেশও এখনও শুরু করতে পারেনি। সেখানে আমাদের মতো একটি দেশ, ঘনবসতিপূর্ণ দেশ সীমিত অর্থনৈতিক শক্তি নিয়েই আমরা কিন্তু মানুষের কল্যাণে যে আমরা কাজ করি সেটাই আজকে প্রমাণ হলো।
সংশয়বাদীরাও টিকা নেবেন, আশা প্রধানমন্ত্রীর : করোনার টিকা নিয়ে যারা নেতিবাচক কথা বলছেন, তাদের ‘রোগ’ কোন টিকায় ভালো হবে বুঝতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তারা কোনো কাজ করে না, আবার কেউ কাজ করতে গেলেই সন্দেহ করে। কিছু লোক সব কিছুতেই নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। মানুষ সাহায্য পায় না, কিন্তু কোনো কাজ করতে গেলেই খালি সন্দেহ। তারা ‘কিছু ভালো লাগে না’ রোগে ভোগে। কোন টিকায় যে এই রোগ ভালো হবে!... সাহস করে তারাও টিকা নিতে এগিয়ে আসবেন। আমরা তাদেরও টিকা দেব। তারাও যেন সুরক্ষা পায়।
পত্রিকা দেখলেই এ ধরনের মানুষ পাওয়া যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেখানে সব কিছুতে একটা দোষ ঢোকানো। এই ভ্যাকসিন আসবে কি আসবে; না, আসবে না, আসলে পরে এত দাম হলো কেন, এটা চলবে কি না, দিলে কী হবেÑ নানা প্রশ্ন তাদের। তবে সমালোচনাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, তারা না থাকলে আমাদের সমালোচনা করবে কে! সমালোচনার লোকও দরকার আছে। যত সমালোচনা হয়েছে, তত দ্রুত কাজ করার প্রণোদনা পেয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার মধ্যে আমাদের অনেক আপনজন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা চাই, সবাই এই করোনা থেকে মুক্তি পাক। আমাদের এ যাত্রা যেন সফল হয় এজন্য সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ^ব্যাপী অনেক সংস্থা সক্রিয় আছে। তাদের মতামত ও অনুশাসন মেনেই আমরা চলছি। এই ভ্যাকসিনও এসেছে সে পথেই। আমরা আশা করছি, এই মহামারি থেকেও বাংলাদেশ দ্রুত রক্ষা পাবে।
করোনার টিকা দেশে আনার প্রক্রিয়া বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুরুতে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ের কাছে নির্দেশ ছিল, বিশে^র যেখানেই প্রথমে ভ্যাকসিন আসবে সেটা আমরা নেব। অক্সফোর্ড যেটা উদ্ভাবন করল, ভারতের সিরাম প্রস্তুত করল। তারা যোগাযোগ করল বেক্সিমকোর সঙ্গে। তাদের বললাম যত দ্রুত কেনা যায়, চুক্তি করা যায়। এরপর আমরা ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করলাম। এই চুক্তির আওতায় আমরা ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা পাব। আর এর জন্য শুরুতেই এক হাজার কোটি টাকা আলাদা করে বরাদ্দ করা ছিল। এ সময় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল প্রান্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]