ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৭ মার্চ ২০২১ ২২ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৭ মার্চ ২০২১

বাংলাদেশ থেকে নতুন করে শ্রমিক নেবে সিঙ্গাপুর এবং রোমানিয়া
প্রবাসী নারী নির্যাতন বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে মিশনগুলো : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৮:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 75

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত আরও ১০ হাজার শ্রমিক নেবে সিঙ্গাপুর। শুধু তাই নয় আরও ২ হাজার শ্রমিক নেবে রোমানিয়া। ওখানে মুরগি হালাল করার ফার্মে লোক নেবে দেশটি।

মন্ত্রী বলেন, করোনাকালীন সময়েও সিঙ্গাপুর আমাদের শ্রমিকদের ফিরিয়ে দেয় নি। নতুন করে আরও সুখবর হচ্ছে দেশটি ১০ হাজার শ্রমিক অতিরিক্ত নিতে চায়। রোমানিয়াতে নতুন দূতাবাস চালু হয়েছে। এর মাধ্যমেও আমরা জানতে পেরেছি দেশটি বাংলাদেশ থেকে ২ হাজার শ্রমিক নেবে। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তবে দুঃখজনক যে খবর সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে প্রবাসে নারী শ্রমিক নির্যাতনের তা বন্ধে কাজ করছে আমাদের মিশনগুলো। এছাড়া মন্ত্রী আরও জানান, নতুন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশটিতে সফর করতে যুক্তরাষ্ট যাচ্ছেন তিনি।

সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, অনেক নারীবাদী আমার কাছে দাবি জানিয়েছেন প্রবাসে বিশেষ করে সৌদি আরবে যেন নারীদের আর পাঠানো না হয়। কিন্তু আমরা দেখেছি পুরুষ কর্মীদের চাইতে নারী কর্মীদের আয়ের বেশির ভাগই বাংলাদেশে রেমিটেন্স আসে। তাদের আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই দেশে আসে। তাছাড়া আমাদের সংবিধানে রয়েছে নারী পুরুষের সমান অধিকার। তাই একজন নারী যদি চায় তাহলে কোথাও গিয়ে কাজ করতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে আমরা তো বাঁধা দিতে পারি না। তবে আমরা তার নিরাপত্তা দিতে পারি। আর এই নিরাপত্তা দেয়ার কাজটিই করছে আমাদের মিশনগুলো। বিশেষ করে সৌদি আরবে আমাদের দূতাবাস একটা আলাদা ক্যাম্প তৈরি করেছে যেখানে নারী শ্রমিক নির্যাতনের যেকোনো খবর আসলে সাথে সাথে তাদের প্রোটেক্ট করবে। অন্যান্য মিশনগুলোও একইভাবে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার নারী শ্রমিক কাজ করছে। তাদের মাত্র ১ ভাগ নির্যাতনের শিকার হন। আমরা এগুলো বন্ধে সোচ্চার রয়েছি। আমাদের মিশনগুলো কাজ করছে। পরপর দুটি কেইস আমরা শক্ত হাতে প্রোটেক্ট করেছি। আশা করছি প্রবাসে আমাদের নারী শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার কমে শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। সৌদি আরবে আইনটা খুব ভালো। আমি যখন সৌদি আরবে ছিলাম তখন দেখেছি ওখানে আইনটা খুব ভালো। ভেরি ফেয়ার তাদের বিচার ব্যবস্থা। তাই আমরা আশা করতেই পারি সৌদি আরবে যেসব নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তা খুব শিগগীরই বন্ধ হবে।

আজ রাতে (সোমবার) যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই সফরে আমি ব্রড বেইজড আলাপ করব। তারা নতুন একটা ফরেন পলিসি দিয়েছে। স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ এখানে ভূরাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেসব আমরা তাদের তুলে ধরব। সুতরাং তারাও আমাদের সেভাবে দেখে।

মোমেন জানান, সফরে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এবং চেয়ারম্যান অব দি সেনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সম্পর্কের উন্নয়ন করতে চাই। আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে, আর আমেরিকাও অনেক বড় দেশ। তাদের সাথে যদি আমাদের সম্পর্ক আরও উন্নত করতে পারি, দিজ ইজ এ উইন-উইন।

আমাদের দেশে এখন অনেক কিছু অফার করার সুযোগ আছে এই মন্তব্য করে মোমেন বলেন, আমেরিকা এক নম্বর ইনভেস্টর ইন বাংলাদেশ। মোস্টলি ইন এনার্জি সেক্টর আবার অন্যান্য সেক্টরও আছে। আমরা এখন ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টর ওপেন করেছি। উই ওয়ান্ট টু ব্রডেনিং। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ সম্পর্কে কোনো কোনো সময় নেতিবাচক প্রচারণা বিদেশে হয়। আমরা সেই নেতিবাচক প্রচারণা নিয়ে সেখানে দুয়েকটা মিডিয়াতে সাক্ষাৎকার দেব। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নেতিবাচক প্রচারণার জবাব দেওয়া। কী ধরনের নেতিবাচক প্রচার সে সম্পর্কে তিনি বলেন, যেমন ধরুন- বলা হয় আমরা খুব বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করি। একেবারে মিথ্যা কথা। আমাদের দেশে কালেভদ্রে দুয়েকটা হয়। আমেরিকাতে পুলিশ অনেক লোক মারে, ইচ্ছা করে মারে না, মরে যায়। গত এক বছরে দেখেন ১০০৪ জনকে পুলিশ মেরে ফেলেছে। উইদাউট ডিউ প্রসেস অব দি ল। ইচ্ছা করে তো মারে না, বিভিন্ন কারণে মারা যায়। আর আমাদের এখানে মনে হয়, যেন আমরা ইচ্ছা করে করেছি!

কোন কোন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন, তাও এখনও নির্দিষ্ট হয়নি জানিয়ে মোমেন বলেন, মিডিয়া হাউজ ওদের উপর নির্ভর করবে। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকারের কাউকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা এর আগেও আমন্ত্রণ জানিয়েছি। নতুন সরকারকেও একই রকম আমন্ত্রণই জানাব।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]