ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

জরুরি সেবায় অপরিহার্য ‘৯৯৯’ : ৪ বছরে ২ কোটি ৬৮ লাখ কল
আবদুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:০৭ পিএম আপডেট: ২৩.০২.২০২১ ১০:৪৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 42

জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল করলেই ‘সাড়া’ মিলছে। প্রয়োজনীয় কলে মিলছে ‘দ্রুত সহযোগিতা’। শিশুর কান্না থামাতে ‘ভয় দেখানো’র জন্য যেমন কল করছেন, তেমনি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে জরুরি হাসপাতালে নিতে চাওয়া হয় অ্যাম্বুলেন্স সহযোগিতা। একইভাবে ঘুরতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া, সমুদ্রে লঞ্চডুবি ও অপহরণকারীদের কবলে পড়ে কল করলেও সেবা মিলছে। এ ছাড়া চুরি, ডাকাতি, শ্লীলতাহানি ও আত্মহত্যার চেষ্টসহ সবধরনের ঘটনায় দ্রুত সেবা পেতে কল করছে ৯৯৯ নম্বরে। এক কথায় সবশ্রেণির নাগরিকের কাছে জরুরি সেবায় অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯৯। ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর সেবাটি চালুর পর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ৩ বছর ২ মাস পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে ট্রিপল নাইনে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৮টি কল এসেছে।
এর বিপরীতে সেবা পেয়েছে ৫৭ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৬ জন কলার। এর মধ্যে জরুরি সেবা তথা পুলিশি, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত সহযোগিতা চেয়ে বেশি কল করেছে নাগরিকরা।
জাতীয় জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নোয়াখালীর সেনবাগ থানার সাদেকপুর গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের বাবুল ড্রাইভারের বাড়ি থেকে এক ব্যক্তি কল করে এক মহিলাকে তার স্বামী গলা কেটে হত্যা করার খবর জানায়। কলার জানায়, স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে (৫৫) হত্যার পর উন্মত্তের মতো রক্তমাখা ছুরি হাতে নিয়ে ঘরের ভেতরে বসে আছে স্বামী আব্দুর রব (৬০)। প্রতিবেশীরা কেউ আতঙ্কে কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। তাৎক্ষণিকভাবে কলারের সঙ্গে থানার ডিউটি অফিসারকে কথা বলিয়ে দেওয়া হলে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রবকে আটক করে। দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতা ও পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একইদিন রাত পৌনে ৩টায় রাজধানীর কাফরুল থানার বৌবাজার এলাকা থেকে এক নারী কল করে জানান, স্বামীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্প্রতি তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। এর মধ্যে সোমবার স্বামীর অত্যাচারের ভয়ে বাসা থেকে পালিয়ে এক পরিচিতের বাসায় ওঠেন তিনি। কিন্তু স্বামী ক্রমাগত মেসেজ পাঠিয়ে ‘আত্মহত্যা’র হুমকি দেওয়ায় ৯৯৯-এ কল করেছেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর সঙ্গে কাফরুল থানার ডিউটি অফিসারের কথা বলিয়ে দেওয়া হলে পুলিশ তাকে নিয়ে পূর্ব ইব্রাহীমপুরের বাসায় গিয়ে ফাঁসের দড়ি টানানো অবস্থায় স্বামীকে উদ্ধার করে।
গত বুধবার রাজধানীর উত্তরার ইউনিক হাসপাতাল থেকে এক রিকশাচালক কল করে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ জানিয়ে সহায়তা চায়। আশিক নামে ওই রিকশাচালক জানায়, মঙ্গলবার তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করলে নর্মালভাবে একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। পরদিন বুধবার বিকালে স্ত্রী-সন্তানকে বাসায় নিয়ে যেতে চাইলে তাকে ১৮ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। তিনি বিল পরিশোধের অক্ষমতা জানালে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যেতে পারবে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হুমকি দেয়। পরে তিনি ৯৯৯-এ করলে উত্তরা পূর্ব থানার একটি দল হাসপাতালে গিয়ে বুঝিয়ে ন্যূনতম একটি বিল দিলে স্ত্রী-সন্তানকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় ৯৯৯ নম্বরে একজন কল করে জানান, তার বোনের ছেলেকে একদল দুষ্কৃতকারী খুলনা থেকে অপহরণ করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। বিষয়টি যশোর পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও ঝিকরগাছা থানায় জানানো হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভয়নগর থানার একতারপুর তালতলা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারসহ অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পিবিআই ও থানা পুলিশ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটিতে পাহাড়ে অ্যাডভেঞ্চারে এসে রাতের আঁধারে পথ হারিয়ে ফেলে চার বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ ছয় পর্যটক। একপর্যায়ে ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা চায় তারা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দ্রুত সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেবাটি চালুর পর থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ বছর ২ মাসে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৮৮ জন কলারকে। এর মধ্যে পুলিশি সেবা দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৪২টি (৭৮ শতাংশ)। ফায়ার সার্ভিসের সেবা দেওয়া হয়েছে ৪৯ হাজার ৮০৭টি (১১ শতাংশ)। আর অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হয়েছে ২১ হাজার ১৪৯টি (১২ শতাংশ)।
সূত্র আরও জানায়, সেবা চালুর পর ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট কল এসেছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৮টি। এর মধ্যে সিএফএস (কল ফর সার্ভিস) বা জরুরি কল এসেছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯৫টি। পুরুষ ইনকোয়ারি কল এসেছে ৪৫ লাখ ২৯ হাজার ৬২৫টি। ডিপার্টমেন্টাল কল ৭৩ হাজার ২৭২টি, চাইল্ড ইনকোয়ারি কল ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৭২৮টি, ওমেন ইনকোয়ারি কল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০৫টি, ব্ল্যাঙ্ক কল ১ কোটি ২১ লাখ ৯১ হাজার ৫৯৯টি, ক্র্যাঙ্ক বা প্রাঙ্ক কল ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫৫টি। এ ছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরির কল এসেছে ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৮টি।
তথ্য মতে, সব মিলিয়ে সেবা দেওয়া গেছে এমন কলের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৬টি। আর কোনো সেবা দেওয়া যায়নি এমন কলের সংখ্যা ২ কোটি ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭০২টি। এ হিসাবে শতকরা ২১ শতাংশ কলারকে সেবা দেওয়া গেছে আর ৭৯ শতাংশ কল সেবা দেওয়ার অনুপযোগী ছিল।
জাতীয় জরুরি সেবায় দায়িত্বরত পরিদর্শক (মিডিয়া) আনোয়ার সাত্তার সময়ের আলোকে জানান, বর্তমানে ৪৫০ জন জনবল নিয়ে তিন শিফটে কাজ চলছে। এ সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সেবার মান বাড়ানোর বিষয়ে তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীর ডেমরায় একটি জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কলারের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাবে। এসব কাজ খুব শিগগির শেষ হবে। ফলে দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]