ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

অপপ্রচার রোধে নির্দেশনা
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:০৭ পিএম আপডেট: ২৩.০২.২০২১ ১০:৪৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 25

দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে স্বার্থান্বেষী মহলের বিশ^ব্যাপী অপপ্রচার বন্ধ করাসহ অর্ধশত নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালু রাখতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ে পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিককালে আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনে নিয়ে সরকার বিচলিত নয়। কিন্তু সরকার ওই প্রতিবেদনের উৎস খুঁজে বের করতে চায়। বিশেষ করে সরকার যখন তার ভিশন-মিশন নিয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে, ঠিক এই সময়ে এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রচার দুরভিসন্ধিমূলক বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। যে কারণে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ সফর করবেন বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো অগ্রগতির প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালু রাখে, সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বিশ^ব্যাপী বিভিন্ন অপপ্রচার রোধে কূটনীতিকদের আরও সচেতন থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেন তারা সঠিকভাবে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে পারেন সে বিষয়েও বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো যেন অভিবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে, সেবাগ্রহণের জন্য যারা মিশনগুলোতে আসেন তারা সেবা তো দূরের কথা, তাদের সঙ্গে ন্যূনতম ভালো ব্যবহারও করা হয় না। নির্দেশনায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, প্রবাসী ও অভিবাসীদের কারণেই বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে মিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কূটনীতিকদের ভূমিকার কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বলা হয়েছে, বহির্বিশে^ বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কূটনীতিকদের আরও উদ্যোগী হতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সেমিনার, বিজনেস ডায়ালগ ও বাণিজ্য মেলাসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কনফারেন্স ডিপ্লোম্যাসির বিকাশের স্বার্থে ঢাকার পাশাপাশি কক্সবাজারকে সম্মেলন-কূটনীতির পরিচালনা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের জাতিসংঘ মিশনে পাঠানো। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালেও তিনি বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন ধীরগতিতে হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যবেক্ষণ করেছে। সাম্প্রতিককালের সভায় সে চিত্র ফুটে উঠেছে। যে কারণে বলা হয়েছে, ধীরগতি পরিহার করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সেসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করুন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে সরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে; কিন্তু সে নির্দেশনা এখনও উপেক্ষিত। তবে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সব কল-কারখানা থেকে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এ ছাড়াও ৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, এমন শিল্প সেক্টরে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে। এরপরও নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি নির্দেশনা ছিল। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেÑ উপকূলীয় এলাকাজুড়ে গ্রিন বেল্ট তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের বনভূমি ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে রক্ষা করতে হবে। কিন্তু সভায় শেষমেশ ‘নিতে হবে,’ ‘উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’, ‘দ্রুত সম্পাদন করতে হবে’ বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল ১৫টি। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছেÑ বিজেএমসিকে নিজের পায়ে দাঁড় করানো, বিটিএমসির বন্ধ মিল চালু করার ব্যবস্থা করা, পুরনো মেশিন বাদ দিয়ে নতুন মেশিন বসানো।
এ ছাড়াও নির্দেশনা ছিল বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায় মসলিন সুতা তৈরি হতো তা জেনে প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ, পাট ও পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]