ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

বরিশাল কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট : সবজি উৎপাদন হবে বারো মাস
বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:০৭ পিএম আপডেট: ২৩.০২.২০২১ ১০:৫৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 30

জেলার রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে ডানপাশে চোখে পড়বে সারি সারি আম, লিচু, সুপারি ও নারিকেল গাছ। সুপারি গাছ জড়িয়ে বেড়ে উঠেছে শিমের লতা। অন্যান্য গাছেও জড়িয়ে রয়েছে শিম গাছের লতা। ক্যাম্পাসের পুকুরপাড়, ড্রেনের দুপাশ, রাস্তার পাশ, জমির আইল, গাছের নিচে ছায়া ও অর্ধ ছায়াযুক্ত সব পতিত জমিতে সারি সারি মিষ্টিকুমড়া, করলা, লাউ, টমেটো, ব্রোকলি, লেটুসপাতা, বেগুন, পালংশাক, লালশাক, বরবটি, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমসহ ১৩ ধরনের শাকসবজির চাষ করেছে কর্তৃপক্ষ। রয়েছে দোতলা (ভার্টিক্যাল অ্যাগ্রিকালচার) কৃষিও, অর্থাৎ মাচায় করলা, নিচে মিষ্টিকুমড়া। সব কৃষির ফলনও হয়েছে বেশ। প্রধানমন্ত্রী করোনা-পরবর্তী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি ইঞ্চি জমির সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করার পর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সে পথে হেঁটেই সফল হয়েছে।
১ ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না থাকার এ পদ্ধতি এখন কৃষকদের কাছে মডেল। ইনস্টিটিউটের উপসহকারী প্রশিক্ষক আসমা ইসলাম কেয়া বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অবকাঠামো-স্থাপনা এবং পুকুর বাদে ১৭৫ শতাংশ জমি পতিত ছিল। যেখানে কোনো ফসল হতো না। কখনও চাষ করা হয়নি। পুরো পতিত জমি এবার কৃষির আওতায় নিয়ে আসেন তারা। বারোমাস এতে কোনো না কোনো শাকসবজি হবে। এ ছাড়া একই জমিতে চাষ করা হচ্ছে দোতলা কৃষি (ভার্টিক্যাল অ্যাগ্রিকালচার)। এর মাচায় করলা এবং নিচে চাষ করা হচ্ছে মিষ্টিকুমড়ার। যে কেউ এ পদ্ধতি অবলম্বন করে বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার পাশে বাগানে, ছায়ায়-অর্ধছায়া জমিতে এসব কৃষি করলে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে।
বরিশাল কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক জানান, নতুন এ পদ্ধতি ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। প্রতি ইঞ্চি জমির সুষ্ঠু ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঠ দিবসসহ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের পতিত জমিতে কৃষি করতে ধাবিত করা হচ্ছে। রহমতপুরের স্থানীয় কৃষক শফিক হাওলাদার জানান, বাড়ির আশপাশে আগে অনেক জমি খালি থাকত। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ওই জমিতে কৃষি করে ভালো ফলন পেয়েছেন। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট সবজি বাজারে বিক্রি করছেন। আরেক কৃষি উদ্যোক্তা রিয়াজ সিকদার জানান, পতিত জমিতে ফসল হতো সেটা তিনি জানতেন না। ইনস্টিটিটের নতুন পদ্ধতির কৃষি দেখে তারাও পতিত জমিতে কৃষি করে সফল হয়েছেন। রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জিএম ইদ্রিস জানান, দুবছর আগে তিনি যখন এখানে যোগদান করেন তখন ক্যাম্পাসের সব জমি পতিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পতিত জমিতে পরীক্ষামূলক বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদন করে কৃষকদের নতুন পদ্ধতিতে ধাবিত করা হচ্ছে। সব কৃষক পতিত জমি কৃষির আওতায় আনলে তারা নিরাপদ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং আর্থিকভাবেও লাভবান হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]