ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

বাবার আদর্শে উজ্জীবিত ডা. সাজদা-ই-জান্নাত
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:২৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 69

ষ মুস্তাফিজুর রহমান কাজল
জামালপুর জেলায় প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য চিকিৎসক বাবা মরহুম ডা. জিয়াউল হকের অনুপ্রেরণায় মানবসেবার মতো একটি মহৎ পেশায় আত্মনিয়োগ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন ডা. সাজদা-ই-জান্নাত। চিকিৎসাসেবায় আস্থার প্রতীক ডা. সাজদা-ই-জান্নাত জামালপুর জেলাবাসীর কাছে তনু আপা নামেই বেশি পরিচিত। অসহায় দরিদ্র পরিবারের শিশু আর নারীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি এরই মধ্যে সবার হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি জামালপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে উপপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
জামালপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ উপপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এর আগেও তিনি ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে একই বছরের ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ডা. সাজদা-ই-জান্নাত জামালপুর পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ সালে এসএসসি ও সরকারি আশেক মাহমুদ বিশ^বিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি প্রথমে রংপুর ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে সফলতার সঙ্গে এমবিবিএস কোর্স সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ১৯৮৮ সালে ইন্টার্নি শেষ করেন। ডা. সাজদা-ই-জান্নাত ১৯৮৯-৯০ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রফেসর কামরুন্নাহারের কাছে এবং ১৯৯০-৯১ সালে ঢাকায় প্রফেসর লতিফা শামসুদ্দিনের কাছে গাইনি বিভাগের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
পরবর্তীকালে ডা. সাজদা-ই-জান্নাত ১৯৯২ সালে জামালপুরে বাবার প্রতিষ্ঠান জিয়া হেলথ কমপ্লেক্সে বাবার পাশে থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে শুরু করেন। এ সময় ডা. সাজদা-ই-জান্নাত ১৯৯২-৯৪ সাল পর্যন্ত বিনা পারিশ্রমিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রফেসর ডা. কামরুন্নাহারের অধীনে গাইনি বিভাগে কাজ করেন। ডা. সাজদা-ই-জান্নাত ১৯৯৫ সালে জামালপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি জামালপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ২০০৭ সালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদানের পর দীর্ঘসময় নিজেকে মানবসেবায় উৎসর্গ করেন। ডা. সাজদা-ই-জান্নাত ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ডিপ্লোমা-ইন গাইনি অবস্ কোর্স সম্পন্ন করেন। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ডা. সাজদা-ই-জান্নাত জামালপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিকে মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলেন। তিনি ২০১৭ সালের ৬ মার্চ পদোন্নতি পেয়ে সহকারী পরিচালক (এডিসিসি) পদে অধিষ্ঠিত হন। এর আগে তিনি ২০০১-০৪ সাল পর্যন্ত পাশর্^বর্তী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।
জামালপুর জেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে (মাতৃসদন) কর্মরত থাকাকালীন সময় ডা. সাজদা-ই-জান্নাত সফলতার সঙ্গে দরিদ্র প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ান অপারেশন করে জেলাবাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হন। ক্রমাগত মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশু কল্যাণে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে ডা. সাজদা-ই-জান্নাত খুব সহজেই সাধারণ মানুষের কাছে আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
প্রবীণ চিকিৎসক বাবা ডা. জিয়াউল হক ২০১০ সালে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করলে যোগ্য কন্যা হিসেবে ডা. সাজদা-ই-জান্নাত বাবার রেখে যাওয়া জেলার একমাত্র প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান জিয়া হেলথ কমপ্লেক্সটির দায়িত্ব নেন। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে সরকারি ছুটির দিন ও প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ডা. সাজদা-ই-জান্নাত এক কন্যা ও এক ছেলে সন্তানের জননী। ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় মার্কেটিংয়ের ওপর এমবিএ কোর্স সম্পন্ন আর মেয়ে কানাডায় আইন বিভাগের ওপর অধ্যায়ন করছেন। সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ডা. সাজদা-ই-জান্নাত কিছু সময় তার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনেন বলেও জানান। স্বামী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ জামালপুর জেলায় একজন সফল রাজনীতিবিদ ও প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দায়িত্বশীল, কর্মঠ ও নির্লোভ প্রকৃতির মানুষ হওয়ায় তিনি জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির চারবার সভাপতি নির্বাচিত হন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]