ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

যোগাযোগ ও বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া দরকার
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:২৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 11

ষ নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর মঙ্গলবার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা চেম্বার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ডিসিসিআইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারত এবং বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬.৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ এসেছে প্রায় ৬৪৫.৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি দুদেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে বাংলাদেশ হতে ওভেন গার্মেন্টস, নিটওয়্যার, টেক্সটাইল ফাইবার, হোম টেক্সটাইল প্রভৃতি পণ্য আরও বেশি হারে আমদানির জন্য ভারতীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, সরকার দেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও নানাবিধ সুবিধা সংবলিত বিনিয়োগ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং এ ধরনের সুযোগ গ্রহণ করে অটোমোবাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পুঁজিবাজার, ওষুধ, খাদ্য ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং হালকা প্রকৌশল প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সাল হতে বাংলাদেশের প্রতিটন পাটজাত পণ্যে ভারতে রফতানির ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ৩৫১.৭২ মার্কিন ডলারের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে ভারতের বাজারে আমাদের পাট রফতানি কমে এসেছে এবং এ অবস্থা নিরসনে দ্রুততার সঙ্গে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, ২০২০ সাল হতে ভারত সরকারের চালুকৃত ‘কাস্টমস রুলস ২০২০’ আইনের কারণে ‘সাফটা’ ও ‘আপটা’-এর আওতায় ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা গ্রহণ হতে সমস্যা হচ্ছে, বিষয়টি পুনঃবিবেচনার আহ্বান জানান। রিজওয়ান রাহমান বলেন, ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশের রফতানিমুখী পণ্য সমুদ্রপথে পরিবহনের খরচ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর চেয়ে তৃলনামূলক বেশি, যা দুদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠমো উন্নয়নে জোরারোপ করেন।    
সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত ভোজ্য তেল অথবা আমদানিকৃত ভোজ্য তেলের কমপক্ষে ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হলে, তা ভারতে রফতানি করতে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের ভোগ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বিএসটিআইর সনদের সত্যয়ন যেন ভারতে গ্রহণযোগ্য হয়, তা নিয়ে ভারত সরকার কাজ করছে এবং আশা প্রকাশ করেন এ বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে। হাইকমিশনার বলেন, সমুদ্রপথে ঢাকা হতে দিল্লিতে পণ্য পরিবহনের খরচ অত্যন্ত বেশি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা কমিয়ে আনতে দুদেশের ব্যবসায়ী সমাজকে নিজ নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেনাপোল এবং পেট্রাপোলসহ বাংলাদেশের সব স্থলবন্দরের ভৌত অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন আবশ্যক, কারণ এ ধরনের সেবার অনুপস্থিতির কারণে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতার ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া ভারতীয় হাইকমিশনার পণ্য পরিবহনে রেলপথ ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পণ্য আমদানি-রফতানিতে রেলপথের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোরারোপ করেন এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের রেল ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান, পাশাপাশি সিরাজগঞ্জে রেলওয়ের একটি কন্টেইনার ডিপো স্থাপনেরও প্রস্তাব করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌবন্দর ব্যবহারের ভারত অত্যন্ত আগ্রহী, তবে এ জন্য বিদ্যমান নৌপথের বেশকিছু জায়গা নাব্যতা বৃদ্ধিতে ড্রেজিং করা খুবই জরুরি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নীতিমালার সংস্কার প্রয়োজন। কাক্সিক্ষত মাত্রায় ভারতীয় বিনিয়োগ বাংলাদেশে আকর্ষণ এবং এদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য তিনি দুদেশের ব্যবসায়ীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]