ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারীদের দেখতে চাই না
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:২৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 18

অবশেষে বলতে বাধ্য হলাম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের নির্যাতন ও অত্যাচারের কথা আজও ভুলি নাই। ভুলব না সেই নির্মমতার কথাÑ
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করার সময় জেনারেলের পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ করে প্যান্ডেল, মাইক ভেঙে ফেলল। আমাদের গায়ে তুলল হাত। খাওয়া-দাওয়া ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় বলে গেল, জয় বাংলা সেøাগান দিবি তো জিহ্বা টেনে কেটে দেব! শোক দিবস পালন করবি তো জেলে পাঠাব। স্বাধীনতাবিরোধীরা জেল থেকে বেরিয়ে পড়ল। বিদেশে যেসব স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ছিল তারাও দলে দলে এসে স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে দিল। জেনারেলের ওপর ভর করে স্বাধীনতাবিরোধীরা রাজপথ দখল করে জিন্দাবাদ সেøাগান দেওয়া শুরু করে দিল। স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজুর রহমানকে করা হলো প্রধানমন্ত্রী। রাজাকার মশিউর রহমানকেও করা হয়েছিল মন্ত্রী। পাকিস্তান ফিরে পাওয়ার জন্য আবার শুরু করে দিয়েছিল খুনি পাকিস্তানিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়াÑ ঘটা করে, আহ্বান করে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে দিয়েছিল লালগালিচা সংবর্ধনা। পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত সেই চিত্র এখনও চোখে ভাসে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্ররা পেয়ে গেল প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী আরও কত কী পদÑ এসব পদে তাদেরকে বহাল করলেন অবৈধভাবে দখলকারী এক জেনারেল। তথাকথিত সিপাহি বিপ্লবের নামে নির্মমভাবে হত্যা করল মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদেরকেÑ চারদিকে চাকরি দেওয়া হলো স্বাধীনতাবিরোধী চক্র তথা রাজাকারদেরকে। জাতীয় প্রচার মাধ্যমসহ সর্বক্ষেত্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম, ছবি, বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশকে আরেক পাকিস্তান বানানো। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদেরকে পাঠানো হলো জেলে। আর ওই জেনারেলের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় বসে টিক্কা খানের মতো হি হি হি করে হাসি দিয়েছিল। গণতন্ত্র হত্যা করে বছরের পর বছর ধরে দিয়েছিল কারফিউ।
১৯৭৬ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধের সব চেতনা মুছে দেওয়া শুরু হয়। পাঠ্যপুস্তক থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা হয়। বঙ্গবন্ধু কে? তা জানতে দেওয়া হয়নি। ১৯৭১ সালে কী হয়েছিল তাও জানতে দেওয়া হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল ধর্মনিরপেক্ষ একটি রাষ্ট্র গঠন করা। ১৯৭১ সালে আমরা হিন্দু-মুসলমান হাতে হাত ধরে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র পাওয়ার জন্য। কিন্তু সেই ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়া হলো সংবিধান হতে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রÑ একে একে এসব কিছু মুছে দেওয়া হয়েছিল। আজ দেশ চালাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। দেশের মানুষ আজ সুখে শান্তিতে আছে। আমরা মন খুলে কথা বলতে পারছি, পেয়েছি গণতন্ত্র। চিৎকার দিয়ে বলতে পারছি, জয় বাংলা। চারিদিকে উন্নয়ন আর উন্নয়নÑ গৃহহীনরা পাচ্ছে গৃহ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধুলায় ধূলিসাৎ করে এক জেনারেল ১৯৭৫ সালের পর খুনিদেরকে পুরস্কৃত করেছিলÑ রাজাকার বা স্বাধীনতাবিরোধীদেরকে মন্ত্রী পদে বহাল করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি চরমভাবে অপমানিত করেছিল। তাই বলি, যাদের রক্তে বইছে ধর্মনিরপেক্ষতা; যাদের হৃদয়জুড়ে বিচরণ করছে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু সেøাগান; বাঙালি জাতীয়তাবাদ; গণতন্ত্র আর মানুষে মানুষে নেই কোনো ভেদাভেদÑ তারাই তো শাসন করবেন দেশ। বাংলাদেশের মাটিতে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদেরকে আর কোনোদিন ক্ষমতায় দেখতে চাই নাÑ তারা তো স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে মিলেমিশে এক হয়ে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেছে। এই চক্র ভয়ঙ্করÑ ধর্মের নামে অধর্ম করে দেশটাকে পিছিয়ে দিয়েছিল।

ষ লিয়াকত হোসেন খোকন
     রূপনগর, ঢাকা







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]