ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১ ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ৯ মার্চ ২০২১

কোরআনে জাহান্নামিদের শাস্তির আলোচনা
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:৩১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 37

আমিরুল ইসলাম লুকমান
আল্লাহ তায়ালা আমাদের মহান প্রভু। ঈমানের মহাসম্পদ দান করে তিনি আমাদের ওপর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ করেছেন। মানবজাতির জীবনবিধান হিসেবে শরিয়ত প্রদান করেছেন। মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছেÑ শরিয়তের আদেশ পালন করা এবং নিষেধসমূহ বর্জন করা। আদেশ পালনের বিনিময়ে আমরা জান্নাত লাভ করব আর অমান্য করলে জাহান্নামের উপযুক্ত হব। শরিয়তবিরোধী যেকোনো কাজ করলে মানবজাতির জন্য রয়েছে সীমাহীন শাস্তি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন প্রকার মর্মন্তুদ শাস্তির কথা বর্ণনা করেছেন। নাফরমানি সংঘটিত হওয়ার সব ধরনের পথ বন্ধ করাই এসব শাস্তি বর্ণনার মূল উদ্দেশ্য। দুনিয়া ও আখেরাতে ইসলামী বিধিনিষেধ অমান্যের শাস্তি কীরূপ হতে পারে তার কিছু বিবরণ নিম্নরূপÑ
চামড়া জ¦লে-পুড়ে সেদ্ধ হবে
ঘোষিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে আমি তাদেরকে জাহান্নামে ঢোকাব। যখনই তাদের চামড়া জ¦লে সেদ্ধ হয়ে যাবে, তখন আমি তার পরিবর্তে অন্য চামড়া দিয়ে দেব, যাতে তারা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমতাবানও এবং হিকমতেরও মালিক।’ (সুরা নিসা : ৫৬)। এই আয়াতের তাফসিরে হজরত মুআজ (রা.) বলেন, তাদের শরীরের চামড়া যখন জ¦লে পুড়ে যাবে, তখন সেগুলো পাল্টিয়ে দেওয়া হবে এবং এ কাজটি এত দ্রুতগতিতে সম্পাদিত হবে যে, এক মুহূর্তে শতবার চামড়া পাল্টানো হয়ে যাবে। হাসান বসরি (রহ.) বলেন, আগুন তাদের চামড়াকে এক দিনে সত্তর হাজারবার খাবে। (সংক্ষিপ্ত মায়ারিফুল কুরআন : ২৫৭)
শূলে চড়ানো ও হাত-পা কর্তন
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং
পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি এটাই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে দেওয়া হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে দূর করে দেওয়া হবে। এটা তো তাদের পার্থিব লাঞ্ছনা। আর আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি। (সুরা মায়েদা : ৩৩)
পানীয় হবে গলিত পুঁজ
অন্য আয়াতে জাহান্নামি ব্যক্তির শাস্তি প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে, ‘তার সামনে থাকবে জাহান্নাম এবং সেখানে তাকে পান করানো হবে গলিত পুঁজ। সে তা ঢোক গিলে গিলে পান করবে, মনে হবে যেন সে তা গলা থেকে নামাতে পারছে না। মৃত্যু তার দিকে চারদিক থেকে এসে পড়বে, কিন্তু সে মরবে না এবং তার সামনে সর্বদা থাকবে এক কঠিন শাস্তি।’ (সুরা ইবরাহিম : ১৬-১৭)
খাদ্য হবে কণ্টকপূর্ণ ঝাড়
বর্ণিত হয়েছে, ‘অনেক মুখমণ্ডল সেদিন হবে লাঞ্ছিত। ক্লিষ্ট, ক্লান্ত। তারা জ¦লন্ত আগুনে পতিত হবে। তাদেরকে ফুটন্ত নহর থেকে পান করানো হবে। কণ্টকপূর্ণ ঝাড় ব্যতীত তাদের জন্য কোনো খাদ্য নেই। এটা তাদেরকে পুষ্ট করবে না এবং ক্ষুধায় উপকার করবে না। (সুরা গাশিয়াহ : ২-৭)
আলকাতরার জামা
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘এবং সেদিন তুমি পাপাচারী ও অপরাধীদেরকে শিকলে কষে বাঁধা অবস্থায় দেখবে। তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে। এই জন্য যে, আল্লাহ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল দেবেন। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।’ (সুরা ইবরাহিম : ৪৯-৫১)। অন্য আয়াতে এসেছে, ‘অতঃপর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে তাদেরকে আমি নিষ্কৃতি দেব আর যারা জালেম, তাদেরকে জাহান্নামে নতজানু অবস্থায় রেখে দেব। অপরাধীদেরকে আমি পিপাসার্ত জন্তুর মতো হাঁকিয়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাব।’ (সুরা মারয়াম : ৭২-৮৬)
আগুনের পোশাক
মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে, ‘মানুষেরা হবে ঈমানদার তথা বিশ^াসী ও কাফের তথা অবিশ^াসী দুটি পক্ষ, যারা নিজ প্রতিপালক সম্পর্কে বিবাদ করছে। সুতরাং এর মীমাংসা হবে এভাবে যে, যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের জন্য তৈরি করা হবে আগুনের পোশাক। তাদের মাথার ওপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি। যা দ্বারা তাদের উদরস্থ সব কিছু এবং চামড়া গলিয়ে দেওয়া হবে। আর তাদের জন্য থাকবে লোহার হাতুড়ি। যখনই তারা যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে আগুনের সে পোশাক থেকে বের হতে চাবে, তখনই তাদেরকে তার ভেতর ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বলা হবে, জ¦লন্ত আগুন আস্বাদন কর!’ (সুরা হজ : ১৯-২২)
আগুন ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছোটাছুটি
ঘোষিত হয়েছে, ‘অপরাধীদের তাদের আলামত দ্বারা চেনা যাবে। তারপর তাদেরকে পাকড়াও করা হবে তাদের পা ও মাথার চুল ধরে। সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে? এই সেই জাহান্নাম, অপরাধীরা যা অবিশ^াস করত। তারা এর আগুন ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছোটাছুটি করবে।’ (সুরা আর রহমান : ৪১-৪৪)। এই আয়াতের তাফসিরে হাসান বসরি (রা.) বলেন, সেদিন অপরাধীদের আলামত হবে এই যে, তাদের মুখমণ্ডল কৃষ্ণবর্ণ ও চক্ষু নীলাভ হবে। দুঃখ ও কষ্টের কারণে চেহারা বিষণ্ন হবে। এই আলামতের সাহায্যে ফেরেশতারা তাদেরকে পাকড়াও করবে। (মাআরিফুল কুরআন : ১৩২১)
তেলের তলানি সদৃশ যাক্কুম গাছ
অন্য আয়াতে এসেছে, ‘নিশ্চিতভাবে জেনে রেখ, যাক্কুম গাছ হবে গুনাহগারদের খাবার, তেলের তলানি সদৃশ। তা তাদের পেটে উথলাতে থাকবে- গরম পানির উথলানোর মতো। ফেরেশতাদেরকে বলা হবেÑ তাকে ধর এবং হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে জাহান্নামের মাঝখানে নিয়ে যাও। তারপর তার মাথার ওপর উত্তপ্ত পানির শাস্তি ঢেলে দাও!’ (সুরা দুখান : ৪৩-৪৮)
উপুড় করে আগুনে নিক্ষেপ
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বস্তুত এসব অপরাধী বিভ্রান্তি ও বিকারগ্রস্ততায় পতিত রয়েছে। যেদিন তাদেরকে উপুড় করে আগুনের দিকে টেনে নেওয়া হবে সেদিন তাদের চৈতন্য হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, জাহান্নামের স্পর্শ-স্বাদ ভোগ কর!’ (সুরা কামার : ৪৭-৪৮)
ষ খতিব, আল মক্কা জামে মসজিদ
হরপাড়া, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]