ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১ ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১

অপপ্রচার রোধে নির্দেশনা
সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:৩৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 31

অপপ্রচার এবং গুজব আমাদের দেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। কুচক্রী রাজনৈতিক মহল ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিভিন্ন সময়ে দেশে নানা গুজব ছড়িয়েছে। অনেকদিন ধরেই তারা এর মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের মাধ্যমে নিজেদের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে, পদ্মা সেতুতে লাগবে শিশুর মাথা, নিখোঁজ হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, বেসিনে হারপিক ঢাললে মরবে এডিস মশা, ভিন্ন ভিন্ন স্থানে তিন দিন বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে বাচ্চাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হবেÑ এমন সব গুজবের কথা আমরা জানি। এ ছাড়া ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা হয়। দেশের আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এসব গুজবের কারণে নষ্ট হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সাধারণ মানুষকে দিতে হয়েছে অনেক খেসারত।
সম্প্রতি কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল নতুন করে ‘দেশ ও সরকারের’ বিরুদ্ধে নানারকম গুজব ছড়াচ্ছে। তাদের এসব অপপ্রচার বন্ধ করাসহ অর্ধশত নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালু রাখতে বলা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদন নিয়ে সরকার বিচলিত নয়। কিন্তু সরকার ওই প্রতিবেদনের উৎস খুঁজে বের করতে চায়। বিশেষ করে সরকার যখন তার ভিশন-মিশন নিয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে, ঠিক এ সময়ে এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রচার দুরভিসন্ধিমূলক বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। যে কারণে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ সফর করবেন। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে এবারে তৎপরতা বাড়াতে বলা হয়েছে। আর কূটনীতিকদের বলা হয়েছে আরও সচেতন হতে। একই সঙ্গে যেন তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে পারেন সে বিষয়েও বলা হয়েছে।
সামাজিক বিজ্ঞানের ভাষায়, গুজব হলো এমন কোনো বিবৃতি যার সত্যতা অল্প সময়ের মধ্যে অথবা কখনই নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। অনেকের দৃষ্টিভঙ্গিতে, গুজব হলো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র এবং প্রহসনের রাজনীতির একটি অপকৌশল। আবার সমাজবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞান শাস্ত্রে গুজবের সংজ্ঞার ভিন্নতা পাওয়া যায়। গুজব অনেক ক্ষেত্রে ভুল তথ্য এবং অসঙ্গত তথ্য এই দুই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ভুল তথ্য বলতে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যকে বোঝায় এবং অসঙ্গত তথ্য বলতে বোঝায় ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা।
গুজবকে প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে যেমন গুজবের বিষয়গুলোকে গবেষণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে, তেমনি গুজববিরোধী কৌশল ও গবেষণার কাজ চলছে। কেননা সময়ের সঙ্গে এর প্রকৃতিও পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে এ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধে কৌশল নিয়ে এখনও তেমন গবেষণা হচ্ছে না। আমরা মনে করি, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপপ্রচার যেমন প্রতিরোধ করতে হবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা নিতে হবে। অপপ্রচারের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাড়াতে হবে আরও নজরদারি। এ ব্যাপারে মূলধারার গণমাধ্যমকে নিতে হবে বিশেষ ভূমিকা। তবেই অপপ্রচার ও গুজব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]