ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১ ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১

দুঃসময়ে বদলে যাচ্ছে কণ্ঠস্বর
হরিপদ দত্ত
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৯:৫৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 32

 বাঙালি যে বাচাল এবং গলা উঁচু করে কথা কয়, তা নাকি প্রথম আবিষ্কার করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নগর কলকাতার ইংরেজ বণিক বা ফেরিওয়ালারা। পাঁচকান হয়ে সে কথা জানতে পারে পর্তুগিজ, ফরাসি, ড্যানিশ আর স্প্যানিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লোকরা। পলাশী যুদ্ধের পর ভারত শাসনের ভার নেয় ইস্ট ইন্ডিয়া (ব্রিটিশ) কোম্পানি। তখনও রাজভাষা বা প্রশাসনিক ভাষা ছিল মোগল ধারা অর্থাৎ ফার্সি। কলকাতার নব্যবাবুরা আভিজাত্য রক্ষার্থে কথায় কথায় ফার্সি শব্দ আওড়াতেন। ইংরেজ বা ফরাসিদের সঙ্গে ভাববিনিময়ের সময় তারা ইংরেজি-ফার্সি-বাংলা শব্দ মেশানো এক জগাখিচুড়ি ভাষার ব্যবহার করতেন। প্রশাসনিক ভাষা ফার্সির বদলে ইংরেজির প্রচলন হলে সেই জগাখিচুড়ি ভাষা লোপ পেয়ে যায়। কিন্তু যা বদলায়নি বা চাপা পড়েনি তা হচ্ছে বাচালতা আর উচ্চস্বরে কথা বলা। বোধকরি প্রথম সেই একাত্তরের পাকিস্তানি হানাদারকবলিত বাংলায় অন্তত ৯ মাস গলা নামিয়ে বাঙালি চাপা স্বরে ভয় কাতরতায় ফিসফিস স্বরে কথা বলেছে।
কিন্তু আজকের করোনাকাল সবকিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। বাঙালির ভাববিনিময়কালে বাচনভঙ্গি এবং শব্দচয়নও বদলে যাচ্ছে অথচ রোগের কারণে এই কণ্ঠস্বর বদলের ইতিহাস প্রাচীন। সভ্যতার আদি যুগ। যুদ্ধ। সেনাবাহিনী। অভিযাত্রী। ধর্মপ্রচারক। সমুদ্রযাত্রী বণিক-নাবিক। এরাই পৃথিবীর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে, এমনকি দুর্গম সমুদ্রঘেরা দ্বীপ দেশে প্রাণঘাতী ব্যাধি ছড়িয়ে দিয়েছে সেই প্রাচীন মধ্যযুগে। আরব বণিকদের শরীর বেয়ে ভারতবর্ষ-শ্রীলঙ্কায় সিফিলিস রোগ ছড়িয়ে পড়ে। আধুনিক যুগে বঙ্গ ভারতের সমুদ্র বন্দর নগরীতে যে এইডস ছড়িয়েছে তার মূলে বাণিজ্য জাহাজের নাবিক-খালাসি। সমাজবিজ্ঞানী এবং ভাষাবিজ্ঞানীরা খেয়াল করেছেন, এসব রোগ যখন মহামারির আকার নেয় তখন আতঙ্কিত মানুষের মনস্তাত্তি¡ক বিবর্তন ঘটতে থাকে। প্রচলিত ভাষার মধ্যে নতুন নতুন শব্দ যুক্ত হয়। বাচনভঙ্গি বা কণ্ঠস্বরও বদলে যায়। ধর্মবিশ^াসেও নতুন অভিঘাত তৈরি হতে থাকে। সমাজ-অর্থনীতির নানা জিজ্ঞাসার সঙ্গে ভাবজগতের বদল ঘটে।
ইতিহাস প্রমাণ করেছে, প্রাচীন রোম সাম্রাজ্য পতনের মূলে শুধু রাজনীতি-অর্থনীতিই নয়, সঙ্গে ছিল মহামারি। যুদ্ধফেরত রোমান সৈন্যরা যে অচেনা রোগটি নগরীতে নিয়ে আসে তা আসলে ছিল পক্স বা বসন্ত। তখন রোমানরা ছিল পৌত্তলিক। সবে মাত্র অতি গোপনে খ্রিস্টধর্ম প্রচার চলছে। তখন মানুষের সেবায় একদল ধর্মপ্রচারক এগিয়ে আসেন। এভাবেই খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে আর্তমানবতার সেবাধর্মও যুক্ত হয়। এর মূলে গির্জার খ্রিস্টরা। আজকের আধুনিক যুগে ধর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জনসেবা প্রতিষ্ঠান তথা এনজিওগুলোর যে আবির্ভাব তার শেকড় ওই প্রাচীন রোম নগরী। মোট কথা ওই ঐতিহাসিক ঘটনা রোম নগরীর প্রাচীন ধর্মকে বদলে দিল, সভ্যতাকে পাল্টে দিল, এমনকি বাইবেলের হাত ধরে ভাষাকেও।
আমরা একাত্তরের যুদ্ধকে স্মরণ করতে পারি। মুক্তিযোদ্ধা এবং উদ্বাস্তু শিবিরে তখন অন্য রোগের সঙ্গে চোখের রোগ, যাকে আমরা চোখ ওঠা রোগ বলে চিনি তা ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বাস্তু শিবিরের এই রোগকে তখন পশ্চিমবঙ্গের লোকরা বিদ্রƒপ করে বলত ‘জয় বাংলা রোগ’। যা হোক স্বাধীন বাংলাদেশে এই চক্ষুব্যাধি রীতিমতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে। অপরদিকে ছিল ম্যালেরিয়া। অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত এবং মৃত্যু, বাঙালির যুদ্ধের এ-ও এক ইতিহাস।
ব্যাধিটি নতুন নয়। সেই কবেকার কথা। খ্রিস্টের জন্মের আগে। খ্রিস্ট বা ইসলামেরও আবির্ভাব ঘটেনি। গ্রিক বীর আলেক্সজান্ডার ইউরোপের একাংশ দখলে নিয়ে এশিয়ার আরবের অংশ সিরিয়া দখল করে পাঞ্জাব-তক্ষশীলা হয়ে আফগানিস্তানের একাংশ আপন রাজত্বের অংশ করে নেন। এবার তিনি আপন নগরী এথেন্সে ফিরবেন। যিনি সেনাপতি সেলুকসকে দখল করা ভ‚মি শাসনের ভার দিয়ে প্রিয় অশে^র পিঠে আরোহণ করেন। মাতৃভ‚মিতে ফেরা তার হয় না। পথিমধ্যে প্রাণঘাতী ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু ঘটে তার। আলেকজান্ডার এথেন্সে ফিরতে না পারলেও ফিরেছিল একদল সৈন্য। ওরাই প্রাণঘাতী ম্যালেরিয়াকে নিয়ে যায় এথেন্সে। পরিণাম ভয়াবহ। ঠিক তেমনি সতেরো-আঠারো শতকে উপনিবেশবাদী ইংরেজ, ফরাসি, স্প্যানিশ, পর্তুগিজরা আমেরিকা এবং লাতিন আমেরিকায় বয়ে নিয়ে যায় প্লেগ আর বসন্ত রোগ। গণহত্যা আর পক্স-প্লেগে খতম হয়ে যায় আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানরা। সহজ হয়ে গেল উপনিবেশ স্থাপনে। আজকের যুগে সাম্রাজ্যবাদের জীবাণু অস্ত্র গবেষণার উদ্দেশ্য তো একই।
ইতিহাসের সাক্ষ্য বড় নিষ্ঠুর। আমরা জানি না করোনাকবলিত বিশে^র ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে কি না। রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর কেমন হবে, কোন ভাষায় রাষ্ট্র কথা বলবে নাগরিকদের সঙ্গে, সত্যি আমরা জানি না। রাষ্ট্রের বাচনভঙ্গি হবে কি স্বৈরাচারী, আধিপত্যবাদী, গণবিরোধী? রাষ্ট্রশক্তির ভেতর নতুন রাষ্ট্রশক্তির উত্থান ঘটবে না তো? কেননা ইতিহাস বলছে, ব্যাধি মহামারির ভেতর দিয়ে অসংখ্যবার পতন ঘটেছে পুরনো রাষ্ট্রশক্তির, উত্থান ঘটেছে নতুন রাষ্ট্রশক্তির। শুধু রাষ্ট্র নয়, কলেরা, বসন্ত, প্লেগ, ম্যালেরিয়ার ধাক্কায় সমাজের সিস্টেমের বিবর্তন ঘটে গেছে। আগামীকালও ঘটবে। করোনা অভিঘাতে সমাজস্থিত মানুষের একাংশ অতি প্রাকৃতশক্তি, দৈব, আধিদৈবিক শক্তিকে অস্বীকার করতে চাইবে। অন্য অংশ হতাশা, ভয়, মহাশূন্যতার ভেতর আত্মসমর্পিত হবে অতিপ্রাকৃত শক্তিতে। মানুষের মনোজগতের এই দ্ব›দ্ব তার অন্তরাত্মার ভাষাকে বদলে দেবে। বদলে যাবে কণ্ঠস্বর। ভবিষ্যতের শিল্প-সাহিত্য-সঙ্গীতও কথা বলবে অন্য স্বরে।
ইতিহাস কথা কয়। ইতিহাসের কণ্ঠস্বর তাল-লয়-ধ্বনিবিজ্ঞান বদলে দেয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধ কখনও ভুলবে না মার্কিনি জনতা। ভিয়েতকং গেরিলাদের হাতে পরাজিত দখলদার হাজার হাজার মার্কিন জীবিত এবং পঙ্গু সৈন্য তাদের দেশে ফিরেছিল। শরীরে বয়ে নিয়েছিল এশিয়ান ফ্লু ভাইরাস। মার্কিন মুলুকে ওই প্রাণঘাতী ফ্লু তারা ছড়িয়ে দিয়েছিল। অসংখ্য মার্কিনির মৃত্যু ঘটে তাতে। আমেরিকায় এমন একটি খ্রিস্টীয় কবরখানা পাওয়া যাবে না, যেখানে দু-চারটি ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহত মার্কিনি সেনার কবর নেই। প্রতিটি কবরে লেখা রয়েছে মৃতের নাম এবং কোথায় কখন কীভাবে তার মৃত্যু ঘটে। কবরে প্লাস্টিকে তৈরি মার্কিনি জাতীয় পতাকা। আমার লেখা একাধিক গল্প-উপন্যাসে এর বর্ণনা রয়েছে। কবর দৃশ্য আমাকে ধন্দে ফেলে। তো, নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ক্যামডেন শহরের লাগোয়া ওয়েস্টভিল-ভ্যালসিয়া ড্রাইভ। আবাসিক এলাকার কোলঘেঁষে বিশাল কবরখানা। একেবারে পাশে পরপর কখানা লিকার স্টোর, সহজ ভাষায় মদের দোকান। আমেরিকা ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও এত সস্তা আর সহজলভ্য লিকার স্টোর নেই। লিকার, অমৃত গলায় নামলেই মানুষের কণ্ঠস্বর আর মনের স্বর এক লহমায় বদলে যায়। এখানেই আমি আর ময়মনসিংহের নূরুল ইসলাম এক রেস্টুরেন্টে খাদ্যরসিকদের টেবিলে ফেলে রাখা উচ্ছিষ্ট খাদ্য এবং প্লেট-গøাস পরিষ্করণের শ্রমিকের কাজ করতাম। বুলন্দ নসিব নয়, বদনসিব নিয়েই আমেরিকায় গিয়েছিলাম। ঘটনাও ঘটল তাই। আমরা টেবিল সাফাই করছি, ঠিক তখনই ক্রাচে ভর করে ভিয়েতনাম যুদ্ধফেরত পঙ্গু বৃদ্ধ এক সৈনিক ডিনার খেতে হাজির। আমরা দুজন এশিয়ান। কৃষ্ণবর্ণ। বাঙালি। আর যায় কোথায়! ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট গেরিলার মর্টার হামলার শিকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পোষা কুকুর পঙ্গু সৈনিকটি ভিয়েতকং গেরিলাদের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ আমাদের দুই বাঙালির দিকে নিক্ষেপ করে। গালাগাল যে কত প্রকার বুঝতে পারি। পাশেই ছিল যুবতী সুন্দরী শে^তাঙ্গিনী ওয়েট্রেস। সে-ই তাকে ঠান্ডা করে আমাদের সরিয়ে দেয়। শেষে জানা গেল ওই পঙ্গু বৃদ্ধ সৈনিকটির মাথায় গুলি লেগেছিল যুদ্ধক্ষেত্রে। প্রাণে বেঁচে গেলেও সঙ্গে বয়ে আনা এশিয়ান ফ্লুর প্রভাবে মানসিক ভারসাম্য হারায়। সহজ কথায় যুদ্ধ এবং ফ্লু ভাইরাস তাকে শরীর এবং মনের দিক থেকে পঙ্গু করে দিয়েছে। তাই তার কণ্ঠস্বর বদলে গেছে। মনের স্বর পাল্টে গেছে। মগজের স্বরেও বিকৃতি ঘটেছে। সে তো হাজার হাজার যুদ্ধে নিহত এবং পঙ্গু ভিয়েতনাম ফেরত মার্কিন সৈন্যদের একজন, যাকে পঙ্গু করে দিয়েছে যুদ্ধ আর ফ্লু ভাইরাস। তার স্মৃতিতে কি নেই সেসব অতিকায় যুদ্ধের পরিবহন বিমানের কথা, যাতে গাদাগাদি করে ভিয়েতনাম থেকে মার্কিন মুলুকে ফিরে আসা লাশ আর আহতদের কথা? বিমান বোঝাই মার্কিন সৈনিকের লাশ! সায়গন বিমানবন্দর! হ্যানয় এয়ারপোর্ট! কফিন আর কফিন! মেকং নদীতে ভাসছে লাশ!
একদিন করোনাভাইরাস মুক্তি দেবে মানবসভ্যতাকে। কিন্তু স্মৃতি? মনে কি পড়বে না মানুষ আর তার দেবতা-ঈশ^র কতটা অসহায় হয়ে পড়েছিল? পৃথিবীর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত, ঈশ^রের মন্দিরগুলো এক এক করে দুয়ার বন্ধ করে দেয়। দেবতার দেউলে জ্বলে না প্রদীপ। অন্ধকারে মানুষের ঈশ^র একাকার হয়ে আছে। নীরব। নিস্তব্ধ। নিঝুম। মৃত্যুর ভয়াল স্তব্ধতা থরথর কাঁপে। কোটি কোটি মানুষ বাকশক্তিশূন্য। পৃথিবীর সাতশ কোটি মানুষের এমন নীরবতার হিসাবের সময় ঘণ্টা, হয়তো মহাকাল জানে, মানুষের জানার কথা নয়।
ধর্মের ঈশ^র তার পবিত্র গৃহের তালাবন্ধের দিকে তাকিয়ে শুধু যে ঈশ^রবিশ^াসীরাই আতঙ্কিত হয়েছে তা নয়, নাস্তিক-ঈশ^র অস্বীকারকারীরাও থরথর কেঁপে উঠেছে। এত মৃত্যু নাস্তিকের যুক্তি-বুদ্ধিতেও মেলে না। শুধু কি তারা? প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে সংবাদের শব্দচয়ন করে অক্লান্ত শ্রম দেন যারা সংবাদপত্রের জন্য, তাদের কলমের ভাষা বদলে গেছে। ফটো সাংবাদিকদেরও। এরই নাম করোনাকাল! বিশ^যুদ্ধের ভেতর যেসব সাংবাদিক ছবি ও সংবাদ সংগ্রহের জন্য জার্মান ফ্যাসিস্ট সৈন্যদের দ্বারা অবরুদ্ধ লেনিনগ্রাদ গিয়েছিলেন মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে; ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান কিংবা একাত্তরের যুদ্ধে বিবিসির সাংবাদিক মার্কটালির মতো বাংলাদেশের রণাঙ্গনে যারা ছুটেছিলেন; তাদের চেয়েও শক্ত কলিজার দরকার পড়ে করোনা সাংবাদিকদের। হাসপাতালের ভেতর-বাইরে ওঁৎ পেতে থাকে করোনা আজরাইল। যতই ভাইরাস প্রতিরোধ পোশাক পরা হোক, কে জানে কোথায় লুকিয়ে রয়েছে ঘাতক। কেউ কি জানে সাংবাদিকের ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনে যে ভাইরাস নেই? শত স্যানিটাইজারে কাজ হয় না।
সভ্যতার ভাষা আজ দ্রæত বদলাচ্ছে। পৃথিবীর সব মানুষ পারলেও বদলটা বাঙালি সহজে গ্রহণ করতে পারে না। এত যে বলা, এত অনুরোধ, এত পুলিশি ধমক, কান ধরে ওঠবস করানো বা কান ধরে মুরগি বানানো, তাতেও লজ্জা নেই। মাস্ক পরতে কেউ রাজি নয়। বড় অনীহা মাস্কে। বাচাল বাঙালির এতে কথা বলতে সমস্যা। মুখ বন্ধ থাকলে বিড়ি টানতে, থুথু বা পানের পিক ফেলতে সমস্যায় পড়ে বাঙালি। রাস্তায় যে মাইকিং হয় তা বাঙালি উপভোগ করে। পণ্যের বিজ্ঞপ্তি হোক, চাই কি হারানো বিজ্ঞপ্তি। এটাও বাঙালি আশা করে কেউ তার ঘরের বউ হারানো বা পালানোর বিষয়ে রাজপথে মাইকিং করুক। কিন্তু বাঙালির জন্য চিন্তা বাড়িয়েছে বিশ^খ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং জীবাণুবিজ্ঞানী গবেষকরা। তারা দাবি করছেন, মাস্ক মানবসভ্যতার চিরস্থায়ী মুখাবরণ হিসেবে টিকে থাকবে। এর ফলে মানুষের কণ্ঠস্বরের যত বদল-বিকৃতিই ঘটুক কিংবা যতই ব্যক্তি ছদ্মবেশের আড়ালে ঢুকে যাক। তাই বাঙালিকে বহুদিন শুনতে হবে রাজপথের বদলে যাওয়া কণ্ঠস্বরের মাইকিং। অমুক দিনের অমুক সময় থেকে লকডাউন, ঘর ছেড়ে বেরোবেন না, মাস্ক না পরলে আইন আইনের পথে চলবে। অচেনা শব্দ! অচেনা কণ্ঠস্বর!

ষ কথাসাহিত্যিক





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]