ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১ ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১

ডানদিক থেকে শুরু করা সুন্নত
মুহাম্মাদ নাঈমুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১, ১০:১১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 37

ডানদিককে আরবিতে বলা হয় ‘ইয়ামিন’, যার অর্থ বরকতময়। তাই বলা হয় ডানদিক থেকে কোনো বিষয় শুরু করাও বরকতময়। যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে ডানকে অগ্রাধিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। আল্লাহর রাসুল (সা.) যেকোনো বিষয়ে ডানদিককে প্রাধান্য দিতেন, ডানদিক থেকে শুরু করতেন। জীবনের সর্বক্ষেত্রে তিনি ডানের বিবেচনা করতেন সবসময়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, ‘নবীজি (সা.) সব কাজ ডান থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন। এমনকি জুতা পায়ে দেওয়া, আরোহণ করা, মাথায় তেল দেওয়া এবং অজু করার ক্ষেত্রেও।’ (বুখারি : ১৬৬)। অন্য হাদিসে এসেছে, একবার এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুলের (সা.) দরবারে কিছু দুধ নিয়ে এলো। রাসুলুল্লাহ (সা.) সে দুধ থেকে কয়েক ঢোক পান করে বাকিটুকু উপস্থিতদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। সে সময় তার ডানদিকে উপবিষ্ট ছিল এক গ্রাম্য আরব। আর বামদিকে উপবিষ্ট ছিলেন হজরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)। রাসুলুল্লাহ (সা.) অবশিষ্ট দুধটুকু প্রথমে হজরত আবু বকরকে (রা.) না দিয়ে ডানদিকে উপবিষ্ট গ্রাম্য লোকটিকে দিলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি ডানদিকে আছে, সর্বপ্রথম সেই পাওয়ার অধিক হকদার। তারপর বামের ব্যক্তি।’ (বুখারি : ২১৭১; তিরমিজি : ১৭১৫)
নবীজি (সা.) নিজের যাপিত জীবনে ডানের বিবেচনা করার পাশাপাশি
সাহাবায়ে-কেরামকেও তার ওপর উদ্বুদ্ধ করতেন। হজরত ওমর ইবনে আবু সালমা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, ‘আমি ছিলাম ছোট বালক। থাকতাম নবীর (সা.) ঘরে। সেখানেই আমার প্রতিপালন হতো। সবাই একসঙ্গে এক প্লেটে খাওয়ার সময় আমার হাত ঘুরত পুরো প্লেটজুড়ে। খেতাম বাসনের সবদিক থেকে। এক দিন নবী (সা.) আমাকে বললেন, খোকা! খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়, তারপর আহার করো ডান হাত দিয়ে, প্লেটে তোমার নিকটবর্তী পাশ থেকে। তারপর থেকে আমার খাওয়া কখনও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি।’ (বুখারি : ৫০৬১)
ডানহাতে খাওয়া বা ডানদিক থেকে কোনো কাজ শুরু করা ইসলামের কোনো ফরজ কিংবা ওয়াজিব বিধান নয়। কিন্তু নবীজি (সা.) এটি করতেন এবং পছন্দ করতেন। উম্মতকেও আদেশ করেছেন একটি পছন্দনীয় কাজ হিসেবে। তাই এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা। সব কাজে ডানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য আমাদের কোনো হুকুমের প্রয়োজন নেই, বরং এতটুকুই যথেষ্ট যে আমাদের প্রিয় নবী (সা.) এ কাজটি পছন্দ করতেন। এতেই আমরা বলতে পারি, ‘শুনেছি এবং মেনেছি’। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছেÑ ‘যারা প্রকৃত মুমিন তাদেরকে যখন ডাকা হয় আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের দিকে কোনো বিষয়ের ফয়সালা বর্ণনা করার জন্য, তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনেছি এবং আমরা মেনেছি’ আর তারাই হলো আখেরাতে সফলকাম ব্যক্তি।’ (সুরা নূর : ৫১)
আখেরাতের সেই সফলতার জন্যই তো দুনিয়ায় আমাদের সব কর্মব্যস্ততা। সুতরাং সেই সফলতা পরিপূর্ণরূপে অর্জনের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই নবীজির (সা.) এই আদেশও মানতে হবে। সব কাজ ডান থেকে শুরু করায় অনেক উপকার ও কল্যাণ রয়েছেÑ এক. অহঙ্কার দূর হয়। কারণ বাম হাতে দেওয়া-নেওয়াটা অহঙ্কারী হওয়ার প্রমাণ।
দুই. আমাদের মাধ্যমে সমাজে জেগে উঠবে প্রিয় নবীর (সা.) আরেকটি সুন্নত। আর হাদিসে বর্ণিত হয়েছেÑ ‘যে আমার একটি সুন্নত আঁকড়ে ধরবে উম্মতের মন্দ অবস্থার সময়, তার জন্য রয়েছে একশ শহীদের সওয়াব।’ (বাইহাকি : ২০৭)
তিন. আমরা বাঁচতে পারব শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও মন্দ স্পর্শ থেকে। কারণ আমরা যখন বাম হাতে খাবার খাই তখন শয়তানও আমাদের সঙ্গে আহার করে।
চার. ডানকে অগ্রাধিকার দেওয়াটা ইসলামের একটি সুস্পষ্ট প্রতীক, যা মুসলমানকে অমুসলিম থেকে আলাদা করে দেয়। কারণ অমুসলিমদের মধ্যে ডান আর বামের কোনো ফারাক নেই। আমাদের ধর্মের প্রতীক আমরা অবশ্যই মানব। কারণ ইসলামের প্রতীক মানেই হলো আল্লাহর প্রতীক। ‘যে আল্লাহর প্রতীকসমূহকে সম্মান করবে ও মানবে, সে মুত্তাকি হিসেবে গণ্য হবে।’ (সুরা হজ : ২৫)
ডানদিককে অগ্রাধিকার দেওয়ার মধ্যে রয়েছে আল্লাহ ও তার রাসুলের সন্তুষ্টি অর্জনের মহাসুযোগ। আর ডান হাতে খাওয়া পান করা, যতটুকু আদেশ দ্বারা মান্য করার বিষয়, তার চেয়ে বেশি অভ্যাসের বিষয়। আমাদের সবার ঘরেই ছোট ছেলে-মেয়েরা আছে। আছে কোমলমতি শিশুরা। এখন আমরা তাদের যা-ই শেখাব তা-ই তাদের ভেতরে গেঁথে যাবে। একটি ভালো বীজ আজ তাদের ভেতর বপন করে দিন, আগামীকাল বটবৃক্ষ হয়ে এটি আপনাকে ছায়া দেবে, ফল দেবে এবং আরও অনেক কিছু দেবে।
সুতরাং প্রতিটি ভালো কাজের অনুশীলন এখনই তাদেরকে করাতে শুরু করুন এবং তাদেরকে শেখানÑ কাউকে কিছু দিতে হয় ডান হাতে, নিতে হয় ডান হাতে, খেতে হয়-পান করতে হয় ডান হাতে, জামা পরতে ডান হাত আগে, জুতা পরতে ডান পা আগে, ঘরে ঢুকতে, মসজিদে প্রবেশ করতে, বাথরুম থেকে বের হতে ডান পা আগে। আল্লাহ তায়ালা
এভাবে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ডানদিককে প্রাধান্য দিয়ে ডানের বরকত অর্জনের তওফিক দিন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]