ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১ ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১

২০৩০ সাল
জ্বালানি আমদানিতে বছরে ব্যয় দাঁড়াবে ২০ বিলিয়ন ডলার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১, ৭:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 98

নিজস্ব জ্বালানির অনুসন্ধান ও ব্যবহার বাড়াতে না পারলে এবং জ্বালানি আমদানির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে সার্ভিস আমদানি ব্যয় দাঁড়াবে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।আর ঐ জ্বালানি বিক্রি করে কী পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে আসবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই সার্বিক বিষয় নিয়ে একটি সমীক্ষা জরুরি বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার এনার্জি এন্ড পাওয়ার আয়োজিত বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ৫০ বছর শীর্ষক এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুয়েটের পেট্রোলিয়াম ও মিনারালস রির্সোসের ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তামিম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা অনুসরণ করা যাচ্ছে না। বরং সঠিকভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ চাহিদা প্রাক্কলন করে ১০ বছর সময়কালকে বিবেচনায় রেখে ৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা করা উচিত, যার বাস্তবায়ন প্রতি বছর পর্যালোচনা করে পরের বছরের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা যাবে।

মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচ্য বিষয়ের উপর মূল উপস্থাপনায় এনার্জি এন্ড পাওয়ারের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর ইঞ্জি. আবদুস সালেক বলেন, জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় দুটি সম্ভবনা নষ্ট করেছে। এর প্রথমটি হচ্ছে, মায়ানমার থেকে গ্যাস রফতানির ত্রিদেশীয় পাইপ লাইন না করা এবং উত্তরাঞ্চলের কয়লা ক্ষেত্র উন্নয়নে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারা।

অন্যদিকে ২০০০ সালের পর থেকে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে জল ও স্থলে কার্যকর কোনো সাফল্য আসেনি। ফলে দেশকে পর্যায়ক্রমে আমদানি নির্ভর হয়ে পড়তে হয়েছে। যা বঙ্গবন্ধুর জ্বালানি উন্নয়ন দর্শনের পরিপন্থী।

বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভলপমেন্ট (বিল্ড) এর চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান বলেন, কোনো কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও ৫০ বছরে আমাদের অর্জন কম নয়। উন্নত দেশের কাতারে যে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে। এর জন্য জ্বালানি সরবরাহের কোনো বিকল্প নেই। আমি মনে করি লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমদানি কমিয়ে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এটার জন্য নিজস্ব কয়লা ব্যবহারে কাজ শুরু এবং ব্যাপকভিত্তিক তেল গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো বিকল্প নেই।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অনারারী প্রফেসর ড. বদরুল ইমাম বলেন, বাংলাদেশের ভূ-গঠনের কারণে এখানে গ্যাস সংকট থাকার কোনো কারণ নেই। বরং গোষ্ঠী স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিতে দিয়ে জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে বলেই গ্যাস অনুসন্ধান করা যায়নি। বাপেক্স, আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি, দেশী-বিদেশী সকল উদ্যোগকে নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক অনুসন্ধান ছাড়া আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো উপায় নেই।

পেট্রোবাংলা ও বিপিসির সাবেক চেয়ারম্যান মোকতাদির আলী বলেন, কৃষি ও শিল্প খাতে আজ বাংলাদেশের যে উন্নয়ন, তার পেছনে রয়েছে জ্বালানি খাত। সংকট হচ্ছে আমরা কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে এগুত পারছি না। সবকিছুই হচ্ছে এডহক ভিত্তিতে। যার কারণে আমরা খুলনা পর্যন্ত পাইপ লাইন নিয়ে গেলেও সেখানে এখনো গ্যাস সরবরাহ দেয়া যায়নি। কিন্তু আবার বগুড়া থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত গ্যাস পাইপ লাইন হচ্ছে। পাইপ লাইন নেওয়া হচ্ছে গোপালগঞ্জ। কিন্তু গ্যাস আসবে কোথা থেকে। যোগ্য পেশজীবীদের জ্বালানি খাতে কোনো গুরুত্ব নেই। সেখানে বসানো হচ্ছে আমলাদের। ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে না, ঝুলে যাচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]