ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১ ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১

কন্যাসন্তানের পিতার সুসংবাদ
প্রকাশ: সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১, ৯:৫৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 65

আরিফ খান সাদ
কন্যাসন্তানের মাধ্যমে আল্লাহ পরিবারে সুখ ও বরকত দান করেন। পুত্রসন্তান যেমন আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত, তেমনি কন্যাসন্তানও আল্লাহর নেয়ামত। পুত্রসন্তানের যেমন প্রয়োজন আছে, কন্যাসন্তানেরও তেমনি প্রয়োজন আছে। উভয়ের সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ হিকমত ও কল্যাণ-জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যার ঘরে কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করল, অতঃপর সে ওই কন্যাকে কষ্ট দেয়নি, মেয়ের ওপর অসন্তুষ্টও হয়নি এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য দেয়নি, তা হলে ওই কন্যার কারণে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবশে করাবেন।’ (মুসনাদ আহমদ : ১/২২৩)।
সমাজে কিছু মানুষ এমন আছে, যারা পুত্রসন্তান জন্মলাভ করলে খুব আনন্দ প্রকাশ করে। উৎসাহের সঙ্গে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয় মানুষদের ‘ছেলে হওয়ার’ খবর জানায়। খুশিতে মিষ্টি বিতরণ করে। খুব গুরুত্ব ও জাঁকজমকের সঙ্গে আকিকার আয়োজন করে। পক্ষান্তরে কন্যাসন্তান জন্ম নিলে তেমন কোনো খুশি প্রকাশ করে না! কারও সঙ্গে ‘মেয়ে হওয়ার’ কথা আলোচনা করতে চায় না। কেউ জিজ্ঞাসা করলে নিচু আওয়াজে অসহায়ের মতো বলে, ‘আমার মেয়ে হয়েছে’। অনেক সময় মেয়ে হওয়ার কারণে স্বামী স্ত্রীর ওপর অসন্তুষ্ট হয়। এ ধরনের কাজ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ! এটা আল্লাহ তায়ালার হেকমত ও কল্যাণ-জ্ঞানের ওপর আপত্তি করার নামান্তর। এটি ইসলামপূর্ব বর্বর জাহেলি যুগের কুপ্রথা। এমন কাজে আল্লাহ তায়ালা ভীষণ অসন্তুষ্ট হন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ অন্ধকার হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্ত¡াপেক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে নাকি তাকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। ভেবে দেখ, সে কত নিকৃষ্ট সিদ্ধান্ত স্থির করেছিল!’ (সুরা নাহল : ৫৮-৫৯)
আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর কন্যাদের অনেক বেশি ভালোবাসতেন। তাঁর সব ছেলেই জন্মের পর ইন্তেকাল করেন। কন্যাসন্তানদের নিয়েই ছিল নবীজির ঘরসংসার। আজীবন তিনি কন্যাদের ভালোবেসেছেন এবং কন্যাসন্তান প্রতিপালনে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। কন্যাসন্তান লালন-পালনের ব্যাপারে তিনি যে পরিমাণ ফজিলতের কথা উল্লেখ করেছেন, পুত্রসন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে সে পরিমাণ বলেননি। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তির তিনজন কন্যাসন্তান বা তিনজন বোন আছে অথবা দুজন কন্যাসন্তান বা বোন আছে, সে তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছে এবং তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করেছে, তা হলে তার জন্য রয়েছে জান্নাত।’ (তিরমিজি : ১৯১৬)




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]