ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১ ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১

ইসলামে নারীর সম্মান ও মর্যাদা
প্রকাশ: সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১, ৯:৫৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 51

আবু আফিফা
নারী ও পুরুষÑ উভয়ই আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহর সৃষ্টি ও বান্দা হিসেবে উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইসলামে কারও উত্তম-অধম হওয়ার সম্পর্ক তার নারী বা পুরুষ হওয়ার সঙ্গে নয়, তাকওয়া ও কর্মের সঙ্গে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ঈমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার দেব যা তারা করত।’ (সুরা নাহল : ৯৭)। ইসলাম নারীর যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেÑ সংক্ষেপে তা আলোচনা করা হলো।
নারী-পুরুষের সমতা : ইসলাম নারী-পুরুষকে একে অন্যের পরিপূরক ও শুভাকাক্সক্ষী বানিয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অন্যের বন্ধু, তারা ভালো কাজের আদেশ দেয় আর অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে।’ (সুরা তাওবা : ৭১)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের ওপর অধিকার রয়েছে, তেমনিভাবে স্ত্রীদেরও নিয়ম অনুযায়ী পুরুষদের ওপর অধিকার রয়েছে। আর নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।
নারীর সাধারণ সম্মান : পবিত্র কোরআনে ‘নিসা’ অর্থাৎ ‘মহিলা’ শব্দটি ৫৭ বার এবং ‘ইমরাআহ’ অর্থাৎ ‘নারী’ শব্দটির ২৬ বার উল্লেখ হয়েছে। উপরন্তু ‘নিসা’ তথা ‘মহিলা’ শিরোনামে নারীর অধিকার ও কর্তব্যসংক্রান্ত একটি স্বতন্ত্র ও সুপরিসর সুরাও রয়েছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নারীর যত ভূমিকা হতে পারে, ইসলাম সবগুলোতেই নিশ্চিত করেছে নারীর সম্মানে।
মা হিসেবে নারীর সম্মান : পৃথিবীতে আল্লাহ ও রাসুলের পর সবচেয়ে বড় মর্যাদাবান গর্ভধারিণী মা। কোরআনে বারবার বলা হয়েছে সে কথা। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩)। হাদিসেও স্পষ্ট করা হয়েছে বিষয়টি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি নবীজির (সা.) কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল, কে আমার সদ্ব্যবহার ও সৎসঙ্গ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকার রাখেন? নবীজি বললেন, ‘তোমার মা। সে জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে আবার জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? তিনি আবার বললেন, তোমার মা। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার পিতা।’ (বুখারি : ৫৯৭১, মুসলিম : ২৫৪৮)
কন্যা হিসেবে মর্যাদা : ইসলামপূর্ব যুগে কন্যাসন্তান জন্মকে পাপ মনে করা হতো। কন্যাকে জীবন্ত কবর দিত পিতা। ইসলাম সে প্রথা উচ্ছেদ করে কন্যা জন্মকে সৌভাগ্যে পরিণত করেছে। এই বর্বরপ্রথা সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দিয়ে আল্লাহ বলেছেন, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তারা মুখ কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে, না তাকে মাটির নিচে পুতে ফেলবে। শুনে রাখ, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।’ (সুরা
নাহল : ৫৮-৫৯)
কন্যা সন্তান লালন-পালনে উদ্বুদ্ধ করে বর্ণিত হয়েছে অনেক হাদিস। যেমনÑ হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিতÑ নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুটি কন্যার লালন-পালন তাদের সাবালিকা হওয়া অবধি করবে, কিয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দুটি আঙুলের মতো পাশাপাশি আসব।’ অতঃপর তিনি তাঁর আঙুলগুলো মিলিত করে দেখালেন। (মুসলিম : ২৬৩১)
বোন হিসেবে নারীর সম্মান : ইসলামে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিতÑ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের যে কারও যদি তিনজন কন্যা বা বোন থাকে আর সে তাদের সুন্দরমতো দেখাশোনা করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’
(তিরমিজি : ১৯১৬)
স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা : স্ত্রী হিসেবে নারীর সর্বোচ্চ ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছে ইসলাম। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে উত্তম ব্যবহার কর।’ (সুরা নিসা : ১৯)। আরও বলেন, ‘স্ত্রীলোকদের খোরপোষ এবং পরিধেয় বস্ত্র উত্তমভাবে সরবরাহ করা তাদের ওপর অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা বাকারা : ২৩৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের (পুরুষদের) ওপর কর্তব্য হচ্ছে তাদের খাদ্য-সামগ্রী এবং বস্ত্রাদি প্রদান করা।’ (মুসলিম : ১২১৮)
বিধবা নারীর সম্মান : বিধবারা সমাজে অবহেলিত। ইসলাম তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ নবী (সা.) বলেন, ‘যারা বিধবা নারীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেয়, তারা যেন আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং নিরলস নামাজি ও সদা রোজা পালনকারী।’
(বুখারি : ৫৩৫৩; মুসলিম : ২৯৮২)
নারীর জ্ঞানার্জন : নারীকে শিক্ষার শুধু অধিকার দেওয়া হয়নি, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জনকে ফরজ করা হয়েছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিতÑ নবী (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ।’ (ইবনে মাজা : ২২৪)। তা ছাড়া কন্যা প্রতিপালনের নেকির হাদিসগুলোতে মেয়েদের শিক্ষাদানের কথা বলা হয়েছে বিশেষভাবে। ইসলাম এভাবেই নারীর সম্মান বাস্তবজীবনের প্রতিটি পর্বে সব ধরনের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]