ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১ ৫ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া দেশ হিসেবে লজ্জা হওয়া উচিত মিয়ানমারের : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১, ৮:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 36

নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত দেশ হিসেবে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের জন্য মিয়ানমারের লজ্জিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও লজ্জা হয় উচিত। কেননা, তারা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টিতে কিছুই করছে না। অথচ তারা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে।

সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিত আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিকাব) আয়োজনে ‘কূটনীতিতে নারী’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এমন সমালোচনা করেন।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, তারা আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন কিন্তু রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টিতে কিছুই করছেন না। তাদের উচিত মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কথা বলা। রোহিঙ্গারা কুতুবপালং না ভাসানচরে থাকবে সেটা বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হচ্ছে, তাদের অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা যথেষ্ট নয় যে কয়েকজন সেনা প্রধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তারা মিয়ানমারে তাদের ব্যবসা ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছে। গণহত্যার পরও গত চার বছরে মিয়ানমারে তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগ চারগুণ বেড়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। আমি খুব অবাক হচ্ছি, একটা দেশ গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করার পরও সেখানে কীভাবে ব্যবসা-বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে? তারা তাদের সঙ্গে সব ধরনের সংযোগ স্থাপন করে আছে।

রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে মোমেন বলেন, বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা, এদের মধ্যে বেশির ভাগ নারী। আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের এখন তাদের জন্য কিছু করা দরকার। তাদের ভবিষ্যত গঠনে সহায়তা করা দরকার। আমি খুবই হতাশ হচ্ছি, তাদের কোনো ভবিষ্যত নেই। তাদের জীবন ক্রমেই হতাশার দিকে যাচ্ছে। তাদের এই অবস্থার জন্য সবার লজ্জা হওয়া উচিত। মিয়ানমারের উচিত এখনই তাদের ফিরিয়ে নেওয়া। রোহিঙ্গাদের অবশ্যই তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে মিয়ানমারকেই উপযুক্ত জীবন দিতে হবে।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশকে স্টার অ্যাখ্যা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে অনেক এগিয়ে গেছে। সুসংবাদ হচ্ছে, সব সেক্টরেই নারীর পদচারণা বাড়ছে। আমাদের এখন আটজন রাষ্ট্রদূত রয়েছেন নারী। তারা তাদের যোগ্যতায় এসেছে।

কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে মাশফি বিনতে শামসকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয় ডিক্যাবের পক্ষ থেকে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত অ্যালেকজেন্ড্রা বার্গ ভন লিন্ডে, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাতালি চার্ড ও মালদ্বীপের হাইকমিশনার সিরুজিমাথ সামির বক্তব্য রাখেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]