ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১ ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১

আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামে স্বাধীনতাকামীদের হত্যা করেছেন জিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১, ১০:২৫ পিএম আপডেট: ০৮.০৩.২০২১ ১০:৪৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 290

স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর আগমুহূর্তে ২৫ ও ২৬ মার্চ তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে পাকিস্তানি প্রতিরোধকারী সংগ্রাম পরিষদের সদস্যদের হত্যা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকালে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ মার্চের ভাষণের ওপর আলোচনায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি পাকিস্তানি দালালি ভুলতে পারেনি বলে এখনও ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে ‘কিন্তু’ খোঁজে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে স্বাধীনতাকামী বাঙালি হত্যায় জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, সেদিন যারা রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিচ্ছিল, বিশেষ করে চট্টগ্রামে যারা ব্যারিকেড দিচ্ছিল ২৫ মার্চ, তাদের ওপর যারা গুলি চালিয়েছিল, তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান একজন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসার হিসেবে এই বাঙালি যারা সংগ্রাম পরিষদ গড়েছিল, তাদের যারা রাস্তায় ব্যারিকেড দিচ্ছিল জিয়াউর রহমান গুলি করে তাদের অনেককেই হত্যা করে। চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের জিজ্ঞেস করলেই তথ্য পাওয়া যাবে। দেশেও অনেক আছে, বিদেশেও অনেক আছে। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমান ২৫, ২৬ এই দুদিনই হত্যাকাণ্ড চালায়। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে জিয়াউর রহমানের বিতর্কিত ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ২৭ তারিখ সে (জিয়া) যাচ্ছিল সোয়াট জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে। সে অস্ত্র যেন সোয়াট জাহাজ থেকে না নামায় সেজন্য আমাদের সংগ্রাম পরিষদের যারা, স্বাধীনতাকামীরা বাধা দিয়েছিল। ছাত্ররা, সাধারণ জনগণ বাধা দিয়েছিল। সেখানে জিয়াউর রহমানকে তারা আটকায়। তাকে আটকে ছিল যাতে সোয়াট জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে না পারে। এটা ঠিক ২৬ তারিখ রাতের কথা।
জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের হান্নান সাহেবরা ঘোষণা দিয়েছিলেন। জহুর আহমেদ চৌধুরী সাহেব বলেছিলেন, আমরা তো ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছি। সেনাবাহিনীর একজনকে এনে ঘোষণা দিলে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব থাকবে। ওই সময় মেজর রফিক সাহেব অ্যাম্বুশ (আক্রমণ) করে বসেছিলেন। তিনি বলেন, আমি এখান থেকে সরলে পাকিস্তানিরা জায়গাটা দখল করে নেবে। যার কারণে জিয়াউর রহমান যেহেতু জনগণের কাছে ধরা ছিলেন, তাকে ধরে নিয়ে এসে ঘোষণা পাঠ করতে বলা হয়। সেই থেকে তাকে ঘোষক বলে প্রচার চালায়। কিন্তু তিনি (জিয়াউর রহমান) যে ২৫ ও ২৬ মার্চ মানুষ হত্যা করেছেন, সে কথা ভুলে যায়।
তিনি আরও বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন যেই জিয়া, সেই জিয়ার দলের নেতারা ৭ মার্চের ভাষণের মর্ম বুঝবে না, এটাই স্বাভাবিক। ধরে নিতে হবে, তারা তাদের পুরনো প্রভুদের ভোলেনি। তাদের পালিত দল হিসেবে তারা এখনও আছে।
জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, তিনি (জিয়াউর রহমান) তো আগাগোড়া পাকিস্তানের দালালি করে আসছেন। তার জন্মও সেখানে। লেখাপড়াও ওখানে। তিনি কবে বাংলাদেশের হলেন? চাকরি সূত্রে বাংলাদেশে এসেছেন। সে সূত্রে বিবাহ করে পরবর্তী সময়ে থেকে যান। এটাই তো বাস্তবতা। তারপরও যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তাদের সম্মান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এদের চরিত্র তো বদলায়নি। ঠিকই বেইমানি-মোনাফেকি করেছেন। একটা মেজর ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে প্রমোশন দিয়ে মেজর জেনারেল করেছেন। তিনিই এই হত্যাকাণ্ডের (১৫ আগস্ট) মূল হোতা ছিলেন এবং ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যারা ১৫ আগস্টের হত্যার সঙ্গে জড়িত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়, এদেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, তাদের তৈরি করা রাজনৈতিক দল থেকে বাংলাদেশের মানুষ কী আশা করবে!
বিএনপির কথাকে আমলে না জনগণের জন্য কাজ করতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন করেছি, এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, এটা তাদের একটুও পছন্দ নয়। তাদের কাছে ক্ষমতা ভোগের বস্তু। বিলাসী জীবন কাটিয়েছে। তারা মানুষের কষ্ট বুঝবে কী করে?
বিএনপি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ছোট করতে চায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা এ ভাষণটাকে ছোট করতে চায়, বিএনপির কয়েকজন নেতা, সাবেক ছাত্রলীগও আছে। তারা নাকি এ ভাষণে স্বাধীনতার কোনো ঘোষণাও পাননি। এরা পাবে না। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও পায়নি। এরা পাকিস্তানি হানাদারদের পদলেহনকারী, খোশামোদী, তোষামোদকারী।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই ভাষণের দিনটির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি শাসকদের একটা পরিকল্পনা ছিল। খুব সাজসাজ রব নিয়ে সাঁজোয়া বাহিনী বসে ছিল, সেখানে হেলিকপ্টার, প্লেন রেডি ছিল যে বঙ্গবন্ধু কী ভাষণটা দেন এবং তার ওপর তারা মাঠে যারা আছে সবাইকেই ওপর থেকে বোম্বিং করে হত্যা করবে। এটা পাকিস্তানি যারা তখন অপারেশন চালাচ্ছিল, তাদের লেখা বইতেও কিন্তু প্রকাশ পায়। ওই পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর কৌশলী হওয়ার বিষয়টি তুলে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তো ‘পোয়েট অফ পলিটিক্স’। তিনি জানতেন যে, মানুষের কাছে কথাটা কী ভাষায় বললে সাধারণ মানুষ কথাটা বুঝে নেবে, কিন্তু শত্রুদের বুঝতে সময় লাগবে। যেকোনো একটা যুদ্ধে রণকৌশলটা হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই রণকৌশলের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনা, এটাই হচ্ছে সেই যুদ্ধে যিনি নেতৃত্ব দেন তার সব থেকে বড় কৃতিত্ব। আর সেটাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব করেছিলেন।
এই ‘না বোঝা’দের দলে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুল আলম খানও ছিলেন, বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ শোনার পর দেশের মানুষ খুশি হয়ে আনন্দে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ সেøাগান দিতে দিতে বাড়ি ফিরছিল এবং তখন ফুলার রোডে তাকে থামিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে সেøাগানও ধরিয়েছিল।
সেদিন ঘরে ফিরে কয়েকজন ছাত্রনেতাকে দেখার স্মৃতি স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেখানে সিরাজুল আলম খান তখন বঙ্গবন্ধুকে বলছেন, ‘লিডার আপনি কী বললেন? সব মানুষ হতাশ হয়ে চলে যাচ্ছে।’ বলার সঙ্গে সঙ্গে আমি বললাম, আপনারা এই রকম মিথ্যা কথা বলছেন কেন? আমি তাকে নিজেই বললাম, আপনি এত মিথ্যা কথা বলেন কেন? আপনারা তো মাঠ থেকে অনেক আগেই চলে এসেছেন। আপনারা তো মাঠের অবস্থা তা হলে জানেন না।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, দেশের একটি মুষ্টিমেয় শ্রেণি আছে যারা এই ভাষণের মধ্যে কিছুই খুঁজে পায় না, কিছুই বোঝে না। তারা দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিষিদ্ধ করতে পারলেও আন্তর্জাতিকভাবে এই ভাষণটি তার জায়গা করে নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ গবেষকদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ভাষণ নিয়ে গবেষণা করার কথা তুলে ধরে বলেন, খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সব ভাষণ নিয়ে তারা গবেষণা করে। সেই গবেষণায় মাত্র ৪১টি শ্রেষ্ঠ ভাষণ নিয়ে তারা একই বই প্রকাশ করেছে। সেই শ্রেষ্ঠ ভাষণের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম হিসেবে সেখানে স্থান পেয়েছে। যে ভাষণে একটি জাতিকে অনুপ্রাণিত ও ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন করেছে।
তিনি বলেন, দেশের কিছু নির্বোধ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মধ্যে কিছু খুঁজে না পেলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের গবেষণায় সেটি ঠিকই উঠে এসেছে। জাতিসংঘের ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ^ প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ঘোষণা করে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি ঘোষণা এককভাবে নয়, জাতিসংঘভুক্ত সব দেশের ভোট ও সমর্থন নিয়েই ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের পর বিশ^খ্যাত নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে ‘পোয়েট অব পলিটিক্স’ (রাজনীতির কবি) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ চালাল, সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পিলখানার ইপিআরের মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশে প্রচার করা হয়। রেডিও, টেলিগ্রাম, টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাসই মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়, ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী শত বাধা, নির্যাতন উপেক্ষা করেই প্রতিবছর সারা দেশে তারা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়েছে। তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক নেতারই ভাষণ রয়েছে, যে ভাষণগুলো একদিন পরই হারিয়ে গেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু আজও ভাষণটির আবেদন এতটুকুও কমেনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মেরিনা জাহান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী এবং উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান প্রমুখ। গণভবন প্রান্ত থেকে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। অনুষ্ঠানে মুজিব বর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ‘মুক্তির ডাক’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]