ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১ ৫ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১

গোলাপি রঙে রাঙিয়ে উদযাপিত হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১, ১০:৩৩ পিএম আপডেট: ০৮.০৩.২০২১ ১০:৫৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 34

কর্মক্ষেত্রে হাজারো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে আজ নারীরা। মা-মেয়ে-বোন-প্রেমিকা বা অফিসের বস সব রূপেই সফল আজ দেশের নারীরা। দেশের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী থেকে শুরু করে বড় বড় পদে আসীন হয়েছে বঙ্গ ললনারা। আর সোমবার ছিল যেন তারই উদযাপন। দিনটি ছিল নারীর ক্ষমতায়ন উদযাপনের, নারীকে সম্মাননা জানানোর দিন। রাজধানীসহ দেশের সব জায়গায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সম্মাননা জানানোর মধ্য দিয়েই উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল হওয়া শ্রেষ্ঠ নারীদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি র‌্যালি, আলোচনা, সভা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দিনভর। এদিন সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনের নারী দিবসের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ৫ জন জয়িতাকে দেওয়া হয় সম্মাননা। এ ছাড়া প্রকাশ করা হয় বিশেষ ক্রোড়পত্র ও স্মরণিকা। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। টেলিভিশন ও রেডিওতে নারীর অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত হয় ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আমরা সব ক্ষেত্রে সফল হলেও সমালোচনা মাথায় নিয়েই নিজেদের কাজটা করতে হয়। এই যেমন আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে সম্মুখীন হতে হয়েছে নানা সমালোচনার। এখানে আমার আগেও একাধিক ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করেছেন। যারা সবাই ছিলেন পুরুষ। কিন্তু তাদের যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না উঠলেও আমার নামের আগে এবিসিডি থাকলেও যখন আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলাম তখনই শুনতে হয়েছে নানা প্রশ্ন। আর এটি আমাকে বারবার শুনতে হয়েছে। সব নারীকেই শুনতে হয়। তারপরও আমাদের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সিনিয়র সহসভাপতি হাসান হাফিজ, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ পলি ও নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু।
একই দিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতেও উদ্বোধন হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি। প্রথম দিনে সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের নেতৃত্বে র‌্যালিটি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি চত্বর থেকে বের হয়ে মৎস্য ভবন পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে ডিআরইউ কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে নারী দিবসের কেক কাটা হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার থাকছে ডিআরইউর উদ্যোগে মূল আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ‘পাঁচ দশকে বিভিন্ন পেশায় নারীর অগ্রগতি, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া শেষ দিন অর্থাৎ আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টায় ডিআরইউর নারী সদস্য ও সদস্য পরিবারের নারীদের জন্য ব্রেস্ট স্ক্রিনিং টেস্ট, জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে স্ক্রিনিং টেস্ট এবং এর প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।
একই দিন নানা আনন্দ আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করে দুর্নীতি বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশন (র‌্যাক)। এদিন সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশে র‌্যাকের নারী সদস্যদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ ফয়েজ ও নারী সম্পাদক নাজনীন আক্তার লাকী। এ সময় র‌্যাকের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আজ সাংবাদিকতায় নারী সাংবাদিকরা অনেকটাই এগিয়েছে। র‌্যাকের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
দিবসটি উদযাপন করেছে গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন। এদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গৃহশ্রমিক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। এ সময় তিনি নারীর ওপর সহিংসতা রোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মবাদী গোষ্ঠীর উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
নারী দিবস উপলক্ষে এক সমাবেশের আয়োজন করে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামও। এদিন সকালে প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু এবং পরিচালনা করেন সংগঠক রুখসানা আফরোজ আশা। সভায় বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয়, ঢাকা নগর সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, কেন্দ্রীয় সদস্য সুস্মিতা মরিয়ম।
এ সময় বক্তারা নারী দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, নারী দিবস ঘোষণার ১০৯ বছর পরেও আমাদের দেশের নারীরা রাষ্ট্রীয়ভাবেই আইনি বৈষম্যের শিকার হয়ে সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত। এখনও সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়নি। ‘সমকাজে সমমজুরি’ আইনে থাকলেও, প্রায় সব অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তার বাস্তবায়ন নেই। অন্যদিকে সারা দেশে নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা ভয়াবহভাবে বেড়ে চলেছে। ৩ বছরের শিশু থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধাÑ যেকোনো বয়সের নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। ঘরে, বাইরে, পথে, গণপরিবহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কলকারখানায়, কর্মক্ষেত্রে, শহীদ মিনারে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, পাহাড়ে, সমতলে দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে নারীরা ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন না। ধর্ষণ-নির্যাতন এমন মাত্রায় এসে পৌঁছেছে যে আমাদের দেশে কোনো নারীর পক্ষে উৎকণ্ঠার বাইরে স্বাভাবিক জীবনযাপন কল্পনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]