ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১ ৫ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১

অনেক গুণের সাদা চা
হৃদয় দেবনাথ শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১, ১০:৩৩ পিএম আপডেট: ০৮.০৩.২০২১ ১০:৫৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 47

অনেক গুণের সাদা চা এখন দেশে উৎপন্ন হচ্ছে। পৃথিবীতে এই মুহূর্তে যত ধরনের চা পাওয়া যায়, তার মধ্যে হোয়াইট টি-ই হলো সবচেয়ে মূল্যবান এবং সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাতকৃত চা।
খুবই সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায়, কোনো প্রকার গাজন বা অন্য প্রক্রিয়া ছাড়া কেবল শুকানোর মাধ্যমেই, উৎপন্ন হয় এই চা। ফলে এই হোয়াইট টি-তে আদি ও
অকৃত্রিম সব গুণই থাকে অটুট। হোয়াইট টি সাদা বর্ণের মতো মনে হলেও এটি মূলত রুপালি ছাই বর্ণের।
সাদা চা অনেক গুণে গুণী। এই চা কমাতে পারে ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি, সহায়তা করে ওজন কমাতে। সেই সঙ্গে দাঁতকে রক্ষা করবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে। হোয়াইট টি ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের প্লাজমা গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে। শরীরে অপেক্ষাকৃত অধিক ইনসুলিন উৎপন্ন করে এবং ঘন ঘন পিপাসার প্রবণতা কমায়। একই সঙ্গে এটি অস্টিওপোরোসিস নামক হাড়ের রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। এই চা রোধ করবে ত্বকের আপাত বয়স বৃদ্ধিকেও, হ্রাস করবে রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস রোগের জ্বলুনি। এমনকি পারকিনসন ও অ্যালঝেইমার রোগ থেকে সুরক্ষার জন্যও কাজ করবে হোয়াইট টি। হোয়াইট টি প্রস্তুত করা হয় ক্যামেলিয়া সাইনেসিস গাছের কুঁড়ি ও পাতা থেকে। একই গাছ থেকে অন্য সব ধরনের চা-ও উৎপন্ন হয়। ক্যামেলিয়া সাইনেসিস গাছের অনুদ্ঘাটিত কুঁড়ির ওপরে যে আঁশ থাকে, তা সূর্যের আলো ও তাপে প্রক্রিয়াজাত হয়ে ধীরে ধীরে রুপালি সাদা আভা ধারণ করে। এরপর ‘সানড্রাই’ করার পর শুকনো কলিগুলো রুপালি সুঁইয়ের আকার ধারণ করে দেখেই একে ঝরষাবৎ ঘরফফষব ডযরঃব ঞবধ বলা হয়।
খুবই হালকা, মিষ্টি, ফুলের মতো গন্ধ হয় এই চায়ের। এই চায়ের স্বাদ তেমন একটা কড়া নয়, বরং হালকা, মিষ্টি ও সতেজ। হোয়াইট টি উৎপাদনের সূচনা হয়েছিল চীনে, বিশেষ করে ফুজিয়ান প্রদেশে। তখন হোয়াইট টি ছিল চীনের খুবই অভিজাত একটি পানীয়। সাধারণ মানুষ এই চায়ের নাগালও পেত না।
এমনকি প্রচুর ধনসম্পদ থাকলেও যে কেউ চাইলেই এই চা পান করতে পারবে, তেমনটাও ছিল না। তখন চা অভিজাতভাবে মজুদ থাকত কেবলই চীনের সম্রাটের জন্য। তবে শুরুটা চীনে হলেও, এখন পূর্ব নেপাল, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ভারতেও উৎপাদন করা হচ্ছে হোয়াইট টি।
বাংলাদেশেও এখন দেশীয় চা বাগান থেকেই প্রস্তুত করা হচ্ছে ‘সিলভার নিডল’ হোয়াইট টি। চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও সীতাকুণ্ডের উঁচু পাহাড়ের সারির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী হালদার উপত্যকাতেই গড়ে উঠেছে অনিন্দ্যসুন্দর কিছু চা-বাগান। সেসব সবুজের সমারোহে, পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও সূর্যের আলোর সান্নিধ্যে উৎপন্ন হচ্ছে ক্যামেলিয়া গাছ, যা দিয়ে দেশেই তৈরি হচ্ছে ‘সিলভার নিডল হোয়াইট টি’।
হোয়াইট টি-কে খুবই সীমিত পরিসরে প্রাকৃতিকভাবে শুকানো হয় এর পলিফেনল অক্সিডেস নিষ্ক্রিয় করার জন্য। এ কারণে এর অক্সিডেশন প্রক্রিয়াও খুব কম হয়, এতে রঙ চা বা গ্রিন টি-র চেয়েও বেশি পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যা আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় হতে পারে দারুণ উপকারী।
বৃন্দাবন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন সময়ের আলোকে বলেন, ‘ ইউটিউবে দেখলাম ভারতের এক চা-বাগানের সাদা চা নিলামে প্রতি কেজি ৭৫ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়েছে। সেটি দেখে দেশেও আমরা সাদা চা উৎপাদন করা শুরু করি।’
চা-বাগান মালিক ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, দেশে গত বছর ৮ কোটি ৬৩ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে সাদা চায়ের পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় হাজার কেজি। পরিমাণে কম হলেও দাম বেশি হওয়ায় এই চা তৈরিতে আগ্রহ বাড়ছে বাগান মালিকদের। নাসির উদ্দিন জানান, সাদা চায়ের জন্য শুধুই কুঁড়ি তুলতে হয়। এক কেজি কুঁড়ির জন্য ১০ একর জমির চা গাছের পাতা লাগে। এরপর সেই কুঁড়ি শুকাতে হয় বিশেষ পদ্ধতিতে। সেই কাজই নিজ হাতে করেন নাসির উদ্দিন।
তার মতে, বাংলাদেশি চা বিশ^মানের, ঠিকভাবে তৈরি করতে পারলে বিশ^বাজারেও বাংলাদেশের সাদা চা বড় জায়গা করে নেবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]