ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১ ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১

দুর্নীতি রোধে পরকালের ভয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১, ১০:৪০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 46

মুফতি আবুল কাসেম
নীতিহীনতা বা দুর্নীতি যেন বন্যার পানির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। দিন দিন বিদায় নিচ্ছে ন্যায়নীতি, আদর্শ ও সুকুমারবৃত্তি। দুর্নীতি দমনে আইনের ও তার প্রয়োগে অভাব না থাকলেও বাড়ছে বৈ কমছে না। আসলে শান্তির ধর্ম ইসলামে রয়েছে এর শান্তিপূর্ণ সমাধান। শুধু আইন ও বিধান দিয়ে সবক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়। মানুষের অন্তরে যদি আল্লাহ ও আখেরাতের ভীতি জাগ্রত থাকে তাহলে সে যেকোনো অপরাধ থেকে বেঁচে থাকতে পারে। দুনিয়ায় অপরাধের শাস্তি হোক বা না হোকÑ আখেরাতে সব শাস্তির বিচার হবে, মানুষের মধ্যে এ মানসিকতা সৃষ্টি করতে পারলে, আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের শাস্তি সম্পর্কে সচেতন করতে পারলে অনেক অপরাধের মূল নির্মূল হবে।
দুনিয়ায় মানুষের চোখকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও আখেরাতে আল্লাহর দরবারে সব কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে। সেখানে কোনো বিষয়ে দুর্নীতি, ব্যক্তি বা জাতির হক আত্মসাৎ প্রমাণিত হলে তার জবাবদিহি করতে হবে এবং পরিণামে জাহান্নামের মারাত্মক আজাবের সম্মুখীন হতে হবে, যা থেকে বাঁচার কোনো উপায় থাকবে না। সেদিন হাত-পা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অপরাধীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘(সেদিন মানুষের উদ্দেশে আল্লাহ বলবেন) আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।’ (সুরা ইয়াসিন : ৬৫)। আল্লাহর সামনে হিসাব দিতেই হবে, এই মানসিকতা জনসাধারণের মধ্যে সৃষ্টি হলে দুর্নীতি ও অপরাধ বন্ধ হবে।
মানুষের মধ্যে এ মানসিকতা প্রচার-প্রসারের জন্য আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এজন্য প্রথমেই পারিবারিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কারণ একজন শিশুর ওপর পারিবারিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রতিটি নবজাতকই স্বভাবজাত ইসলাম নিয়ে জন্মলাভ করে। অতঃপর তার মা-বাবা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক বানায়।’ (বুখারি : ১২৯২)। তাই প্রত্যেক মা-বাবার উচিত নিজেদের সন্তানকে সৎ, আল্লাহভীরু ও ইসলামী অনুশাসনের পূর্ণ অনুসারী হিসেবে গড়ে তোলার সুব্যবস্থা করা।
দূর্নীতিমুক্ত জাতি গঠনের লক্ষ্যে সামাজিকভাবেও ইসলামী মূল্যবোধ এবং তাকওয়ার ব্যাপক অনুশীলন হওয়া প্রয়োজন।
ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে দুর্নীতির ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। যে জাতি ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, যাদের তাকওয়া ও আখেরাতে জবাবদিহিতার বালাই নেই, সে সমাজে দুর্নীতি সহজেই প্রবেশ করে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে অপরাধ ও অনৈতিকতা।
কিন্তু তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠিত হলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আল্লাহর রহমত ও বরকতের দুয়ার খুলে যাবে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘সমাজের মানুষরা সবাই যদি ঈমান আনত ও তাকওয়ার জীবন
অবলম্বন করত, তাহলে আমি তাদের ওপর আসমান-জমিনের যাবতীয় বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম।’ (সুরা আরাফ : ৯৬)। তাই সমাজের সর্বস্তরে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সততা ও নৈতিকতার আদর্শে উজ্জীবিত
করতে হবে।
সর্বোপরি সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে হালাল-হারাম সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। দুর্নীতি দমনের মূলনীতি হিসেবে ইসলামে হালাল-হারাম তথা পবিত্র-অপবিত্রের পার্থক্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সে সঙ্গে হালালের কল্যাণ ও উপকারিতা এবং হারামের অপকারিতা ও ক্ষতিও স্পষ্টরূপে বর্ণিত রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মানবমণ্ডলী! তোমরা পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তুসামগ্রী ভক্ষণ করো। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।’ (সুরা বাকারা : ১৬৮)
ষ মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া
    হামিদিয়া বটগ্রাম, কুমিল্লা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]