
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে নতুন মাত্রা যোগ হলো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ। এই অর্জন দেশের জন্য যেমন বিরাট গৌরব, তেমনি আনন্দের। এই আনন্দ দেশের মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি করতে আর একটি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আর সেই কর্মসূচি হচ্ছে, আগামী ২৭ ও ২৮ মার্চ উন্নয়নশীল বাংলাদেশ উদযাপন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই দুটি দিন উদযাপনের জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে উদযাপন আয়োজনের একটি রূপরেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ২৭ মার্চ সকাল ১০টায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। পাশাপাশি র্যালির আয়োজন থাকবে। নানা আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত থাকছে আলোচনা সভা, উন্নয়ন বিষয়ক ভিডিও প্রদর্শনী, জাতির পিতার জীবনীর ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ও ভিডিও প্রদর্শনী। পাশাপাশি থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়াও ‘রূপকল্প ২০৪১ : উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার, উন্নয়ন বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ও উপস্থিত বক্ততা।
কর্মসূচি পালনের জন্য সব জেলা ও উপজেলার জন্য একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। সেই গাইডলাইন অনুসারে অনুষ্ঠানের মূল বিষয় হবে, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ।’ আর এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জেলা ও উপজেলায় কোনো সুবিধাজনক উন্মুক্ত স্থানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার অংশগ্রহণ থাকবে। যেখানে দেশের সার্বিক উন্নয়ন তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। প্রয়োজনে স্টল তৈরি করে সর্বসাধারণের জন্য তা প্রদর্শন করা হবে। অনুষ্ঠানস্থানে আলাচনা সভা, সেমিনার, ভিডিওচিত্র আয়োজন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতার জীবনী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে দেশের অর্জনগুলো উপস্থাপনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অর্জনগুলো তুলে ধরা যেতে পারে বলে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মধ্যে আরও যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর নেতৃত্ব দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান সরকারের রূপকল্প-২০৪১, ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ সম্পর্কে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ তথ্যচিত্র নির্মাণ করবে। একই সঙ্গে ভিডিও, টিভিসি তৈরি করবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের তৈরি করা তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা গেছে।
দুই দিনের অনুষ্ঠানমালায় মন্ত্রী থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সরকারি অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অতিথি, আলোচক ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে সংপৃক্ত করা হবে। সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুশীল সমাজ, ছাত্রছাত্রী, সংবাদকর্মী, এনজিও, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিশু-কিশোর সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনকে অংশগ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সিনিয়র সচিবরা তাদের সুবিধাজনক সময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
গাইডলাইনে করোনার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। অনুষ্ঠানের জন্য প্রতি জেলায় ২ লাখ আর প্রতি উপজেলায় ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হবে। তবে বরাদ্দকৃত অর্থ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ প্রতি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। অনুষ্ঠান সুচারুরূপে পালন করার জন্য জেলায় ও উপজেলায় ২টি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।