ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১ ৫ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১

লেকচার সিরিজের ৫ম লেকচার অনুষ্ঠিত
করোনায় সকল দেশকে একযোগে কাজ করার আহবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১, ৮:০০ পিএম আপডেট: ০৭.০৪.২০২১ ৮:১৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 26

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের সকল দেশকে একযোগে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন।
 বুধবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত বঙ্গবন্ধু লেকচার সিরিজের ৫ম লেকচারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহবান জানান।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বের সকল দেশের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা অপরিহার্য। বিশ্ব থেকে করোনা দূর করতে হলে বিশ্বের ধনী-দরিদ্র সকল ব্যক্তির টিকা নেওয়া আবশ্যক। এক্ষেত্রে  সকল দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও বিশ্ব কূটনীতিতে উৎসাহব্যঞ্জক উত্তরাধিকার 'দ্য বার্থ অফ বাংলাদেশ এন্ড ইটস ইন্সপায়ারেশনাল লিগ্যেসি ইন গ্লোবাল ডিপ্লোম্যাসি' শীর্ষক এ লেকচারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতিসংঘের সাবেক আণ্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল, রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী।

এ সময় ড. মোমেন বলেন, আমরা বিশ্বে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। বঙ্গবন্ধু দৃড়ভাবে বিশ্বাস করতেন শান্তি উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বঙ্গবন্ধু সারাজীবন শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশকে শান্তির জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য। একটি থেকে অন্যটিকে আলাদা করা যাবে না।  বঙ্গবন্ধু বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের সমস্যা তুলে ধরে বিশ্ব নেতায় পরিণত হন। বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করেন, যা ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য অপরিহার্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী  বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতাগুলো বাংলাদেশের নবীন কূটনীতিকসহ সকলের পড়া উচিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু মানবজাতির আকাঙ্খা, বৈশ্বিক বৈষম্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মালিকানা, অর্থনৈতিক কাঠামোসহ ২৭টি বিষয় উত্থাপন করেন, যা এখনও খুবই প্রাসঙ্গিক।

ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন, মানুষের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষকে ক্ষমতায়ন করতে হবে। তিনি জাতিসংঘে জনগণের ক্ষমতায়নের শান্তি কেন্দ্রিক মডেল  পেশ করেন। তিনি মনে করেন, উন্নয়ন হলো মানবাধিকার। দারিদ্র দূরীকরণ, যথাযথ কর্মসংস্থাপনের ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে ২০১২ সালে দৃষ্টান্তমূলক একটি রেজুলেশন জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হয় এবং তা গৃহীত  হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্র সচিব  মাসুদ বিন মোমেন। বিভিন্ন বিদেশী মিশনের আবাসিক ও অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ, বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত/ হাইকমিশনার ও মিশন প্রধানগণ, সাবেক কূটনীতিক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীগণ  অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রাচার প্রধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন সেলের মহাপরিচালক এম আমানুল হক সকলের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

একই দিন  ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে উন্নয়নশীল ৮টি দেশ নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ডি-৮ এর সদস্য দেশগুলোকে করোনাভাইরাস মহামারি পরিপ্রেক্ষিতে একে অপরকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, করোনা মহামারিতে অনেক দেশেই মানুষ জীবন-জীবিকা হারাচ্ছেন।

সে কারণে করোনা পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল বাজার তৈরি ও মানুষের কর্মসংস্থানে ডি-৮ সদস্য দেশগুলো ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া করোনার অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলো সহযোগিতা করতে পারে।

ড. মোমেন ডি-৮ ফোরামকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেবেন বলে জানান। বৈঠকে তুরস্কের কাছ থেকে ডি-৮ কাউন্সিল অব মিনিস্টার্সের চেয়ারের দায়িত্ব নেন ড. মোমেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার দশম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। ডি-৮ সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী দুই বছর এই ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]