ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১ ৫ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১

আজ দ্বিতীয় ডোজ শুরু : সবাইকে টিকাদানই চ্যালেঞ্জ
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৮.০৪.২০২১ ২:৩৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 50

আজ শুরু হচ্ছে টিকার দ্বিতীয় ডোজ কার্যক্রম। যারা প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন শুধু তারাই এ কার্যক্রমের আওতায় আসবেন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী টিকা মজুদ রয়েছে কি না, এ নিয়ে সংশয় রয়েছে খোদ সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। তবে স্বাস্থ্য সচিব বলেছেন, সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী টিকা চলে আসবে। আর এখন যে পরিমাণ মজুদ রয়েছে তার জন্য দ্বিতীয় কার্যক্রম কোনোভাবে ব্যাহত হবে না। টিকা মে মাসে এলেও চলবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ নিয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করার জন্য ৫৫ লাখ টিকার প্রয়োজন; কিন্তু সে পরিমাণ টিকা নেই।
খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতর ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত টিকা নেই। এই চিঠি আবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, টিকার জন্য গত মার্চ মাসের শেষদিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউটকে; কিন্তু তারা চিঠির  কোনো জবাব দেয়নি। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে টিকার পরবর্তী চালান চলে আসবে। কার্যক্রম যদি কোনোভাবে ব্যাহত হয় তাহলে নতুন করে চিন্তা করতে হবে। গত ৫ নভেম্বর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করে। চুক্তির আওতায় সিরাম ইনস্টিটিউটের ৩ কোটি টিকা বাংলাদেশে রফতানি করার কথা রয়েছে। প্রতি মাসে বাংলাদেশের ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা পাওয়ার কথা ছিল। এখন পর্যন্ত ভারত থেকে টিকা এসেছে মোট ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। সিরামের কাছ থেকে ৩ কোটি টিকা কিনেছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের চুক্তি করা ভ্যাকসিনের জন্য আমরা  ইতোমধ্যে টাকা দিয়েছি। না পাওয়ার কোনো কথা নয়। তবে ভারত সরকার জানুয়ারিতে তার প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ২০ লাখ টিকা দিয়েছিল। শুধু বাংলাদেশ কেন ভারত তাদের বন্ধু কিছু দেশকে দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ ছাড়া গত মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরের সময় ১২ লাখ টিকা উপহার দেন।
ভারতের টিকা সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে বাংলাদেশে। যার পরিমাণ হচ্ছে ১ কোটি ২ লাখ। এরপরই রয়েছে মরক্কোÑ যার পরিমাণ হচ্ছে ৭০ লাখ। এভাবে ক্রমেই যুক্তরাজ্যে ৫০ লাখ, মিয়ানমার ৩৭ লাখ, সৌদি আরব ৩০ লাখ, নেপাল ২০ লাখ, দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ লাখ, আর্জেন্টিনা ৫ লাখ ৮০ হাজার, কানাডা ৫ লাখ, ইউক্রেন ৫ লাখ, কুয়েত ২ লাখ, আরব আমিরাত ২ লাখ, ইরান ১ লাখ ২৫ হাজারসহ বিশে^র ৭০টিরও বেশি দেশে টিকা রফতানি করেছে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। ছয় মাসে বাংলাদেশে মোট ৩ কোটি ডোজ রফতানি করার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত বহির্বিশে^ টিকার জোগান দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ফলে টিকা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম ডোজ গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। শুধু ঢাকায় ৫০টি হাসপাতালে টিকা দেওয়া হয়। শেষ হয় ৭ এপ্রিল। এই প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভিড় দেখা গেছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে বলা হয়েছিল প্রথম ডোজের চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। অক্সফোর্ডের টিকা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের পার্থক্য হতে পারে ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ। পার্থক্য বেশি হলে সুফল পাওয়া যায়। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, দুই ডোজের পার্থক্য হবে ৮ সপ্তাহ করে। যারা প্রথম দিন টিকা নিয়েছেন তাদের দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে ৮ এপ্রিল। সেই অনুসারে আজ দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
কোভিড টিকার জন্য গড়ে ওঠা বৈশি^ক জোট কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি ফাইজার বায়োএনটেকের টিকার ৮ লাখ ডোজ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ কোভ্যাক্সের উদ্যোগে ৯২টি সদস্য দেশেকে চিঠি দেয় বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা। গত ১৮ জানুয়ারি ফিরতি চিঠি পাঠায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। যেখানে ফাইজার নয়, অক্সফোর্ডের টিকার কথা বলা হয়। গত বছরের আগস্টে বিশে^র প্রথম দেশ হিসেবে ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমোদন দেয় রাশিয়া। এত দ্রুত ভ্যাকসিন অনুমোদন নিয়ে অনেকেই হতবাক হয়ে পড়ে। বৈশি^ক স্বাস্থ্যখাত বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেয়নি।
অন্যদিকে টিকা কেনা ও সরবরাহের জন্য ৬ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে। এই প্রকল্পের জন্য বিশ^ব্যাংক ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে। সুতরাং টিকার কোনো সমস্যা হবে না।










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]