ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১ ১০ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১

গণপরিবহনে গণঝুঁকি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৮.০৪.২০২১ ২:৩৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 36

দেশে লকডাউনের দুদিন কোনো গণপরিবহন চলেনি। কিন্তু বুধবার থেকে আবারও গণপরিবহন চালু হয়েছে। তবে কোনো গণপরিবহনেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না। মানা হয়নি কোনো নিয়ম ও নিদের্শনাও। প্রতিটি সিটে যাত্রী নেওয়া ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। ফলে যাচ্ছেতাই অবস্থা লক্ষ করা গেছে প্রতিটি গণপরিবহনে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে চালু হয় গণপরিবহন। কিন্তু এসব পরিবহনে কোনো যাত্রী তোলা হলেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হয়নি। কোনো বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাওয়া যায়নি।
জিজ্ঞাসা করলে হেলপাররা এককথায় জবাব দিয়েছেন, মালিক জানে। এমনকি প্রতিবার গাড়ি ছাড়ার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কথা থাকলেও কেউ কেউ মানলেও সেটি বেশিরভাগ বাস মালিকই মানেনি। অফিসগামী মানুষেরাও বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই গন্তব্যে ছুটেছেন। বুধবারও রাস্তায় বেশিরভাগ সময়ই দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। প্রতিটি বাসে কোনো হেলপার ও যাত্রীর মুখে মাস্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনেক রুটের বাসে গাদাগাদি করেই যাত্রী তোলা হয়েছে। আবার অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করেছে বাসের হেলপাররা। মোহাম্মদপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া রজনীগন্ধা বাসের হেলপার রুবেলের মুখে কোনো মাস্ক ছিল না।  বাসে যাত্রী তোলার সময় তিনি হ্যান্ড স্যানিটাইজারও যাত্রীদের হাতে দিচ্ছেন না। বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে কি না জানতে চাইলে তার জবাব হলো, মালিক তো গাড়িই ঠিক করে না। আবার   হ্যান্ডওয়াশ দেবে কীভাবে! হ্যান্ডওয়াশ চাইলে বিরক্ত হয়। ভয়ে কিছু বলি না।
সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে আসা তুরাগ পরিবহনের মহসিন বলেন, আমাদের কিছু করার নেই। মালিকরা এসব দেয় না। আর এসব কেনার বাড়তি টাকা পামু কই?
প্রতিবার গাড়ি ছাড়ার আগে গাড়ি পরিষ্কার করা হয় কি না এমন প্রশ্নেও বাসচালকরা বলেছেন, তারা লোকাল বাস চালান। এসব বাস প্রতি পনেরো দিনে একবার ধোয়া হয়। প্রতিদিন ধোয়ার জন্য অতিরিক্ত লোক দরকার। মালিক তাদের প্রতিদিনের আয়ের টাকাই ঠিকভাবে দিতে চায় না। আর এই শ্রমিক নেওয়ার কথা জানালে বাস চালাতেই দেবে না। এই কারণে তারাও কোনো টুঁ শব্দও করেন না।
তারা বলেন, মালিকরা চাইলে পারে কিন্তু তারা বাড়তি টাকা খরচ হবে বলে করেন না।
রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও গাবতলী থেকে বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যাওয়া কোনো বাসেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি বেশিরভাগ চালক ও হেলপারের মুখে ছিল না মাস্ক।
মুখে মাস্ক না থাকার কারণ জানতে চাইলে রাইদা পরিবহনের এক কন্ডাক্টর বলেন, ভাই শত শত মানুষ উঠে বাসে, মুখে একটুকরো কাপড় দিয়া কি করোনা থেইকা বাঁচা যাইব?
তুরাগ বাসের যাত্রী রাকিব বলেন, আমরা তো মাস্ক ব্যবহার করছি। কিন্তু বাসে আমাদের তোলার সময় কোনো হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হলো না। হেলপারকে জিজ্ঞাসা করলাম, সে বলে মামা সেটা তো নাই। আর কী বলব বলেন, এসব তো আমরা বাড়ি থেকে আনব না।
সরকার ঘোষিত সাত দিনের নিষেধাজ্ঞার তৃতীয় দিনে রাজধানীসহ সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা মানছেন না পরিবহন মালিকরা।
এ বিষয়ে ঢাকা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রুস্তম আলী বলেন, আমরা প্রতিটি বাস মালিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালানোর জন্য বলেছি। তারা বিষয়টি মানছেন না এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে যারা মানছেন না, তাদের সতর্ক করছি।
তবে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মানতে পূর্বঘোষিত ১৮ দফা নির্দেশনা বহাল আছে। সেই সঙ্গে ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে দেশের আন্তঃজেলা বাস চলাচল ও রেল যোগাযোগ। এই নির্দেশনায় গণপরিবহন চলাচলে যে নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে সেসব দেখার যেন কেউ নেই।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]