ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১ ৬ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১

ডি-৮-এর চেয়ারম্যানশিপ গ্রহণ
৮ দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১, ৭:৫২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 82

শেষ হলো ঢাকার আয়োজনে দশম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন। করোনা মহামারীর কারণে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী দিনে ডি-৮-ভুক্ত দেশগুলোর বর্তমান চেয়ারম্যান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের কাছ থেকে চেয়ারম্যানশিপ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ আগামী দুই বছর ডি-৮ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, যুব উন্নয়ন, তথ্য প্রযুক্তিসহ সদস্যভুক্ত ৮ দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি বাড়াতে জোড় দেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক ধারণা, মডেল, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিতে তরুণদের শক্তি এবং সম্ভবনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি, এমনকি সরকারি থেকে বেসরকারি পর্যায়েও ব্যবসা উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের দেশগুলোর (ডি-৮) যুবকদের একত্রিত হতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। ডি-৮ বিজনেস ফোরামের সঙ্গে প্রথম ডি-৮ ইয়ুথ সম্মেলনটি একটি বিরল সুযোগ তৈরি করেছে।

এসময় তিনি তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর জোড় দিয়ে বলেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের তথ্য প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে কার্যকরী পার্টনারশিপ এবং বৃহত্তর সহযোগিতা প্রয়োজন। তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে যুবদের খুব ভালো সম্পৃক্ততা থাকায় কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও আমাদের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। গত একদশকে বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়েছে এবং দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডি-৮ সেক্রেটারিয়েট সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ক্ষেত্রে সম্ভবনার তথ্য সরবরাহ করতে পারে। এই ধরনের তথ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ করতে সহায়তা করবে।

‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে অংশীদারিত্ব : যুবশক্তি ও প্রযুক্তির প্রস্তুতি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি কার্যকরী এবং টেকসই উন্নয়নে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ু ইস্যুতে সহযোগিতা করার করার তাগিদ দেন।

এসময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানবিক বিবেচনাবোধ থেকে বাংলাদেশ ১ দশমিক ১ মিলিয়ন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। শুরু থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, সম্মানজনক এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৩ বছরের বেশি সময় পার হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয় নি। এই সমস্যা বাংলাদেশের পরিবেশ, সমাজ এবং অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব করেন তিনি।

এই সংকটের সমাধান না হলে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে দাবি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারকে চাপ দিতে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সম্মেলনে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ছাড়াও আরও অংশ নেন ডি-৮-সদস্য ভুক্ত ৮ দেশের রাষ্ট্রনেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জুকু উইডুডু, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন, মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

এর আগে, ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালে ঢাকায় দ্বিতীয় ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনটি সফলভাবে আয়োজন করেছিল। এবার দশম ডি-৮ সম্মেলন আয়োজন করেছে ঢাকা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]