ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১ ১০ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১

অস্বস্তিতে হেফাজত : মুরব্বিরা শাসিয়েছেন মামুনুল হককে
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.০৪.২০২১ ১:২৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 261

মাওলানা মামুনুল হকের নারীসহ রিসোর্ট কাণ্ডে বেশ বিব্রত ও অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে হেফাজতে ইসলাম। হেফাজতের গুরুত্বপূর্ণ ওই নেতার রিসোর্ট কাণ্ডের পর থেকে দিন যত গড়াচ্ছে বিতর্কের ডালপালা ততই বাড়ছে। এতে করে হেফাজতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে প্রতিনিয়তই। এদিকে নারায়ণগঞ্জের রয়াল রিসোর্টের ওই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচিত মামুনুল হককে এক দফায় সতর্ক করেছে সংগঠনের হাইকমান্ড বলে পরিচিত শীর্ষ মুরব্বিরা। পাশাপাশি সংগঠনকে অপর্যুদস্ত ও রোষানলে পড়তে হয় এমন কমকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতেও সাবধান করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ ও মধ্যম  সারির একাধিক নেতার সঙ্গে বৃহস্পতিবার কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা বলেছেন, সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে অবকাশ যাপনকালে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ আটক নিয়ে বিতর্ক, সংগঠন, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং একের পর এক মামলা দায়েরের ঘটনায় অনেকটা চাপে আছেন মামুনুল হক নিজেও।
হেফাজতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন সময়ের আলোকে বলেন, মামুনুল হকের ঘটনায় আমাদের সংগঠনের শীর্ষ মুরব্বিরা বৈঠক করেছেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আর তিনি কোনো অপরাধ করেননি বলেই এখানে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কোনো বিষয় আসেনি। আমরা মনে করি সরকার একটি পক্ষকে দিয়ে এ নিয়ে জল ঘোলাটে করছে। তবে হেফাজত নেতারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। শীর্ষ মুরব্বিরা এসব ঘটনা এড়িয়ে চলতে শাসন ও সাবধান করেছেন। এগুলো সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ নেতা নুরুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, এগুলো সবার ব্যক্তিগত বিষয়। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয় সংগঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও মামুনুল হকের ভাগ্নে মাওলানা এহসানুল হক সময়ের আলোকে বলেন, এমন ঘটনা তো অবশ্যই সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। স্বাভাবিক কাযক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। তবে মামুনুল হক দোষের কিছু করেনি। বরং তাকে হেনস্থার দায়ে আমরা আইনি পদক্ষেপে এগোচ্ছি। মামুনুল হক স্বাভাবিক আছেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারের মধ্যে বৃহস্পতিবার অথ সহায়তা কাযক্রমে অংশ নিয়েছেন। হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নাছির উদ্দিন মুনির বলেছেন, সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বকে হেয়প্রতিপন্ন করে সংগঠনটিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।
হেফাজতের মধ্যম নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বিতীয় স্ত্রী কাণ্ডে হেফাজত নেতা মামুনুল হক সংগঠনের ভেতরেও এক ধরনের চাপে রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে একের পর এক অডিও ফাঁস ও দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলের ভিডিও। তবে এসব ঘটনায় এখনই মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে হেফাজতের সাংগঠনিক নেতারা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এখন সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কমকাণ্ড পযবেক্ষণ করা হবে। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন সংগঠনের শীষ মুরব্বিরা।
এদিকে হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির আহমদ শফী অনুসারীরাও মামুনুল হকের রিসোট কাণ্ডে চটেছেন। আল্লামা শফীর ছেলে আদাস মাদানী বলেছেন, এমন ঘটনা হেফাজতের অতীত ভাবমূর্তি ও আদর্শের জায়গাকে ক্ষুণ্ন করেছে। এ বিষয়ে আল্লামা শফীর অনুসারী মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, আমি খুব অসুস্থ। এ নিয়ে পরে কথা হবে।
এদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ছাড়াও দেশের অনেক বিশিষ্ট নাগরিক মামুনুল হকের রিসোট কাণ্ডে বিষোদগার করছেন। গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী রিসোর্টে সংঘটিত ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে মামুনুল হককে একজন ‘জঘন্য ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যখন পুড়ছে তিনি তখন রিসোর্টে গেছেন ফুর্তি করতে। ফুর্তি করুন অসুবিধা নেই; কিন্তু ন্যায্য স্ত্রী কি না, তার প্রমাণ দিতে হবে। তার মতে হেফাজত থেকে মামুনুল হককে বহিষ্কার করা উচিত।
তবে হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ বেশ কয়েকজন নেতা বলেন, এ ঘটনায় হেফাজতের সুনাম নষ্ট হয়নি। কারণ তিনি ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে করেছেন। এটা নিয়ে সরকার উসকানি দিচ্ছে। নতুন ইস্যু তৈরি করে আলেম ও হেফাজতকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। একের পর এক পাঁয়তারা করছে কুচক্রী মহল।
জানা যায়, বিবাদের শুরু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে হেফাজতে ইসলামের নেওয়া কর্মসূচিকে ঘিরে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদি ঢাকা এসেছিলেন। একে কেন্দ্র করে হেফাজতের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ব্যাপক সহিংস রূপ ধারণ করে, এবং সেই সহিংসতায় কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ নেতা মামুনুল হকের এমন কাণ্ড বেকাদায় ফেলে দেয় হেফাজতকে।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]