ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১ ১০ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১

ভয়াল রূপে করোনা : এক দিনে সর্বোচ্চ ৭৪ জনের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.০৪.২০২১ ১:১৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 54

দেশে রীতিমতো ভয়াল রূপ ধারণ করেছে করোনা। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যায় নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত ২৮ ঘণ্টায় আরও ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট ৯ হাজার ৫২১ জনের মৃত্যু হলো। তবে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা ৭ হাজারের নিচে নেমেছে। বৃহস্পতিবার আরও ৬ হাজার ৪৫৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আর নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ১৩২ জন হয়েছে। এই সময়ে সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৩৯১ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী। নতুনদের নিয়ে মোট সুস্থ হওয়া  রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৩০ জনে।এদিকে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল এই তিনটি দেশ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার তিনটি ভ্যারিয়েন্ট। এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনটি বাংলাদেশে বেশি ছড়াচ্ছে। অতি সংক্রামক এই ধরনটিই মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি), সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের যৌথ গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়, শনাক্ত করোনাভাইরাসের ধরনগুলোর মধ্যে এখন ৮১ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট।
ডিসেম্বর মাস থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং আইইডিসিআর মিলে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের ওপর নজরদারি শুরু করে। ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১৬ হাজার ২৬৫টি নমুনা পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৫১টি নমুনা পজিটিভ চিহ্নিত হয়। এতে বলা হয়, ৬ জানুয়ারি প্রথম যুক্তরাজ্য ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয় এবং মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই ভ্যারিয়েন্টটি বাংলাদেশে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে দেখা যায় যে, অন্য যেসব ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে বাংলাদেশে, তার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টটি সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
আইসিডিডিআরবি বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব বাংলাদেশে ভাইরাস প্রসারের ক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তন আনে। মার্চের চতুর্থ সপ্তাহেই দেখা যায়, দেশে শনাক্ত করোনাভাইরাসের ধরনগুলোর মধ্যে এখন ৮১ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট। করোনাভাইরাসের নানা ধরনের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট এবং ব্রাজিলিয়ান ভ্যারিয়েন্টই সারা বিশে^ ছড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি। এই তিনটি ধরনের সংক্রমণের হার বেশি এবং এদের জিনগত পরিবর্তনও ঘটে বেশি। ফলে এখন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এবং রোগী ব্যবস্থাপনার দিকটি নতুন করে ভাবতে হবে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে গত বছর ৮ মার্চ করোনার প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যু হয়। এ বছর ৩১ মার্চ তা ৯ হাজার ছাড়িয়ে যায়। গত মঙ্গলবার এক দিনে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়। সর্বোচ্চ মৃত্যুর সেই রেকর্ড ভেঙে বৃহস্পতিবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ জন হয়।
সংক্রমণ ধরা পড়ার এক বছর পর এ বছর মার্চের শেষে প্রথমবারের মতো দেশে এক দিনে ৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৯ মার্চ ৬ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এরপর মাত্র এক সপ্তাহে আরও ৫০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে বুধবার দেশে রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সারা দেশে মোট ২৪৩টি ল্যাবে ৩৩ হাজার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৮টি নমুনা। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ১২ লাখ ৩০ হাজার ৫৮টি।
গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৪৮ জন পুরুষ আর নারী ২৬ জন। তাদের মধ্যে ৪ জন বাড়িতে মৃত্যু বাকি সবার মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। মৃতদের মধ্যে ৪৬ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, ৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। ৭৪ মৃত্যুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪৩ জন, চট্টগ্রামের ১৫ জন, রাজশাহীর ৩ জন, খুলনার ৭ জন, বরিশালের ৪ জন ও সিলেট বিভাগের ২ জন ছিলেন।
করোনায় দেশে মোট মৃত্যু ৯ হাজার ৫২১ জনের মধ্যে ৭ হাজার ১৩০ জন পুরুষ ও ২ হাজার ৩৯১ জন নারী। এদের মধ্যে ৫ হাজার ৩৪৯ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ২ হাজার ৩৪০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১ হাজার ৬৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৪৭৩ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৮৫ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৭০ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম। মোট মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ হাজার ৪৮২ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ৭০৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৫২০ জন রাজশাহী বিভাগের, ৬০৪ জন খুলনা বিভাগের, ২৮৪ জন বরিশাল বিভাগের, ৩৩২ জন সিলেট বিভাগের, ৩৮১ জন রংপুর বিভাগের এবং ২০৭ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]