ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১ ১০ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১

দিনে একটি বইও  বিক্রি হচ্ছে না!
হাসান তামিম
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.০৪.২০২১ ১:৩৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 37

বইমেলা বলতেই মানসপটে ভেসে ওঠে ভাষার মাসে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজারও মানুষের জনস্রোত, পাঠক-দর্শনার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, হইহুল্লোড় আর আড্ডা-গানে মুখরিত সময়ের। তবে এবারের চিত্রটা খানিকটা ভিন্ন। এ বছর বইমেলা শুরু থেকেই ক্রেতা, পাঠক-দর্শনার্থীর অভাবে মলিন হয়ে আছে। স্বাভাবিক দিনগুলোয় তেমন একটা পাঠক-দর্শনার্থীর উপস্থিতি না থাকলেও প্রকাশক ও বিক্রেতারা উদগ্রীব হয়ে থাকত ছুটির দিনের আশায়। সেই ছুটির দিনে পাঠক-দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে বইমেলা কিছুটা জমে উঠলেও বিক্রি হয়েছে খুবই কম। সাধারণ দিনে হাতেগোনা অল্পকিছু ক্রেতা ও পাঠক দর্শনার্থী মেলায় এলেও করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে তাও আসছে না। যারা আসছেন তাদের অধিকাংশই দর্শনার্থী। ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই কম।
এমন অবস্থায় দিনে একটি বইও বিক্রি করতে পারছে না অনেক প্রকাশনীর স্টলের বিক্রয়কর্মীরা। তাই বই বিক্রি না হওয়ার হতাশায় ২০টির মতো স্টল বন্ধ হয়ে আছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বইমেলা ঘুরে দেখা যায় মেলা নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়ে বিকাল গড়ালেও সুলেখা প্রকাশনী, গদ্যপদ্য প্রকাশনী, পিয়াল প্রকাশনী, আজকাল প্রকাশনী, প্রতিভা প্রকাশনী, সমগ্র প্রকাশ, শিল্পতরু প্রকাশ, হাসি প্রকাশ, পাতা প্রকাশনী আলোকধারা প্রকাশনী, ন্যাশনাল পাবলিকেশন্স, অনুপম প্রকাশনী, পলল প্রকাশনী, পুঁথিনিলয় প্রকাশনীসহ বিভিন্ন স্টলের পর্দাই ওঠেনি। গণপরিবহন ও যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও আশানুরূপ বইপ্রেমীর সমাগমও ঘটেনি। বরাবরের মতোই প্রকাশক ও বিক্রয় কর্মীরা বলছেন, দুপুর বারোটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত মানুষ কর্মব্যস্ত থাকে। মূলত সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কিছুটা জমে উঠত। কিন্তু নতুন সময়ে পাঁচটায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জমে ওঠার আগেই মেলার পর্দা নামাতে হয়। ঊষার দুয়ার প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী জিসান সরকার বলেন, গত দুই দিনেও একটি বই বিক্রি করতে পারিনি। পাঠক-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আশানুরূপ হচ্ছে না। যারা আসছেন শুধু বই দেখে চলে যাচ্ছেন। দর্শনার্থী বেশি ক্রেতা কম।
পাঠক-দর্শনার্থীর না থাকায় স্টল না সাজিয়ে শুধু সামনের টেবিলে কয়েকটি বই রেখেই অলস সময় কাটাচ্ছিলেন মনন প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মীরা। স্টল বই নেই কেন? জানতে চাইলে স্টল ম্যানেজার সেলিম জাভেদ বলেন, পাঠক-দর্শনার্থীর দেখা নেই। প্রতিদিন যে সময় নিয়ে বই সাজানো হয় তাতে মেলা জমে ওঠার আগেই আবার বন্ধ করার জন্য গুছানো শুরু করতে হয়। সেজন্য আজ আর সব বই বের করা হয়নি। অন্যান্য বছরের এক দিনের বিক্রির সমান বিক্রিও এ বছর ২২ দিনেও হয়নি।
শুধু ছোট স্টলগুলোতেই নয় বরং বড় প্রকাশনীর প্যাভিলিয়নগুলোতেও ছিল শূন্যতা। পাঠক-দর্শনার্থীর না থাকায় অধিকাংশ প্যাভিলিয়নের বিক্রয় কর্মীদেরই অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। পাঞ্জেরী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী প্রশান্ত চৌহান বলেন, পাঠক-দর্শনার্থী একেবারেই নেই। মূলত মেলায় বিকালে পাঠক-দর্শনার্থী আসা শুরু হওয়ার পরপরই বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে অসময় হওয়ায় অনেকে মেলায় আসতেই আগ্রহ বোধ করেন না।
তবে বেশিরভাগ প্রকাশক এখনও ছুটির দিনে ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছেন। তারা আশা করছেন শুক্র-শনিবার ও মেলার শেষ দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে মেলা জমে উঠবে পুরোদমে। হয়তো এতে এ বছরের পুরো মাসের ক্ষতিটা কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। পালক পাবলিশার্সের প্রকাশক ফোরকান আহমদ বলেন, যা ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে আমরা প্রত্যাশা করছি ছুটির দিনে পাঠক দর্শনার্থীর উপস্থিতি বাড়বে হবে এবং বইয়ের বিক্রিও বাড়বে। তা ছাড়া পহেলা বৈশাখ নিয়েও আমাদের বড় একটি আশার জায়গা রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২২তম দিন। মেলা শুরু হয় বেলা ১২টায় এবং চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। মেলায় নতুন বই আসে ৪৭টি। নতুন প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক বইগুলো হলো : গল্প-৮, উপন্যাস-৬, প্রবন্ধ-৫, কবিতা-১৯, গবেষণা-১, ছড়া-২, জীবনী-২, মুক্তিযুদ্ধ-২, নাটক-১, অন্যান্য-১টি।

◑আজকের সময়সূচি
আজ শুক্রবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৩তম দিন। মেলা শুরু হবে বেলা ১২টায় এবং চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]