ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১ ১০ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১

সবাইকে টিকাদানই চ্যালেঞ্জ
সঙ্কট কাটিয়ে কর্মসূচি সফল হোক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 30

দেশে করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীসহ সারা দেশে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। ইতোমধ্যে যাদের প্রথম ডোজ নেওয়ার ৮ সপ্তাহ পূরণ হয়েছে এখন শুধু তাদেরকেই দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হচ্ছে। আবার এখন পর্যন্ত যারা টিকা নেননি তাদের প্রথম ডোজ দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে। প্রথম ডোজ নেওয়া প্রায় সবার মোবাইল ফোনে খুদেবার্তার মাধ্যমে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার তারিখ ও কেন্দ্র জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণে কেউ যদি প্রথম ডোজ নেওয়ার পরও দ্বিতীয় ডোজের সময় ও কেন্দ্রের তথ্য খুদেবার্তায় না পেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তিনি প্রথম ডোজ নেওয়ার ঠিক দুই মাস পর আগের কেন্দ্রে গিয়ে টিকা কার্ড দেখিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন। ঢাকাসহ সারা দেশে ১ হাজার ১৫টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতেই রয়েছে ৫০টি কেন্দ্র।
গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে করোনার টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। টিকা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৫৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭০৩ জন টিকা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৯১ জন পুরুষ ও ২১ লাখ ১৫ হাজার ৪১২ জন নারী।
অধিদফতরের পরিচালক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘এ পর্যন্ত ৫৫ লাখ মানুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে, দেশে মোট টিকা এসেছে ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। হাতে আছে ৪৭ লাখ ডোজ। আট লাখের ঘাটতি রয়েছে।’ অর্থাৎ স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভাষ্য অনুযায়ী সবাইকে টিকা দেওয়া তাদের জন্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সঙ্কট নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদফতর ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত টিকা নেই। এই চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনকে দেওয়া হয়েছে। টিকার জন্য গত মার্চ মাসের শেষদিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউটকে; কিন্তু তারা চিঠির কোনো জবাব দেয়নি। গত ৫ নভেম্বর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করে। চুক্তির আওতায় সিরাম ইনস্টিটিউটের ৩ কোটি টিকা বাংলাদেশে রফতানি করার কথা রয়েছে। প্রতিমাসে বাংলাদেশের ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা পাওয়ার কথা ছিল। এখন পর্যন্ত ভারত থেকে টিকা এসেছে মোট ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। ভারত সরকার জানুয়ারিতে তার প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ২০ লাখ টিকা দিয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরের সময় ১২ লাখ টিকা উপহার দেন।
ভারতের টিকা সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে বাংলাদেশে। এরপর যথাক্রমে মরক্কো (৭০ লাখ), যুক্তরাজ্য (৫০ লাখ), মিয়ানমার (৩৭ লাখ), সৌদি আরব (৩০ লাখ), নেপাল (২০ লাখ), দক্ষিণ আফ্রিকা (১০ লাখ), আর্জেন্টিনা (৫ লাখ ৮০ হাজার), কানাডাসহ (৫ লাখ) বিশে^র ৭০টিরও বেশি দেশে টিকা রফতানি করেছে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত বহির্বিশে^ টিকার জোগান দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ফলে টিকা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমরা সবাই জানি, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নিছক ব্যবসাসুলভ নয়। তাদের সঙ্গে রয়েছে আমাদের আবেগের সম্পর্ক। আমাদের মুক্তিসংগ্রামে ভারত সরকার ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর অবদান অবস্মরণীয়। আমাদের বিপদে আপদে সব সময়ই ভারত সরকার সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছে। আমাদের প্রত্যাশা, অচিরেই টিকা নিয়ে বিদ্যমান সঙ্কটের সমাধান হবে এবং টিকাদান কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হবে।












সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]