ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১ ১০ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১

আহ!
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 126

বীথি রহমান
সকাল দশটা ত্রিশ, অর্থাৎ আধঘণ্টা পার হয়ে গেছে অথচ সামাইরা এখনও অফিসে আসেনি। কোভিড-১৯-এর ভয়াবহতা শুরু হওয়ার পর ব্যাংকের অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কাস্টমস খোলা থাকায় কাস্টমারের বিশেষ কলে মাঝেমধ্যেই ফরেন ট্রেড ডিপার্টমেন্টের অফিসারদের আসতে হয়। গতরাতে জুনিয়র অফিসার সামাইরাকে এভিপি ফারহানা টেক্সট করে রেখেছিলেন যেন দশটার মধ্যে চলে আসে। আগে এলে কাজগুলোও আগেভাগে শেষ করা যায়। একে তো চারজনের কাজ দুজনে করতে হবে, তার উপর আবার লেট, বিরক্তিতে কপাল কোঁচকালেন ফারহানা।
জুনিয়রদের নিয়ে এই এক সমস্যা। যখন-তখন মুড চেঞ্জ হয়। এমনিতে সামাইরা খুব হাসিখুশি। কাজে ভুল হলে বকাবকি করলেও আপসেট থাকে না। বরং আরও তটস্থ হয়ে যায়। কিন্তু যেদিন মুড অফ থাকে সেদিন আদর করে কথা বললেও কোনো রা নেই। একটা ফোন করবেন কি না ভাবছেন তখনই সামাইরাকে লিফট থেকে নামতে দেখা গেল। এই ডিপার্টমেন্টের কেউ সাধারণত লিফট ব্যবহার করে না। দোতলায় জেনারেল সেকশনে ফিঙ্গার পাঞ্চ করতে হয় বলে ভেতরের সিঁড়ি দিয়ে থার্ড ফ্লোরে চলে আসে। বায়োমেট্রিক অফ তাই হয়তো সামাইরা লিফটে এসেছেÑ ভাবলেন ফারহানা। তা ছাড়া ওকে বেশ অসুস্থও দেখাচ্ছে। চোখে কাজল নেই, ফ্যাকাশে।
‘তোমার শরীর ঠিক আছে তো?’
ফারহানার প্রশ্নের উত্তর দিল না সামাইরা। ‘কী কী পেন্ডিং আছে ম্যাডাম’ বলে পিসির সুইচ চাপল। লেট নিয়েও কোনো কথা বলল না। কাজের প্রেশারে ফারহানাও ঘাঁটালেন না ওকে। টানা তিন ঘণ্টা দুজনে কাজ করে গেল মোটামুটি নিঃশব্দে।
দুটোর দিকে ফারহানার সামনের চেয়ারে এসে বসল সামাইরা। ওকে খুব বিপর্যস্ত লাগছিল। মনে হচ্ছে রাতে ঘুম হয়নি। কিছু জিজ্ঞেস করতে চেয়েও সকালের কথা ভেবে ফারহানা চুপ করে রইলেন। ‘লাঞ্চ করবেন না ম্যাডাম?’ খুব নিচুস্বরে বলল সামাইরা।
‘আমি রোজা আছি। তুমি লাঞ্চ এনেছ?’
‘হ্যাঁ, আমি তাহলে ডাইনিংয়ে যাই।’
‘ওকে, খেয়ে আসো।’
‘ওকে।’
লাঞ্চবক্স হাতে ডাইনিংয়ের দিকে গেল সামাইরা। ফারহানার ফোন বেজে যাচ্ছিল কিছুক্ষণ ধরে। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন সামাইরার ফোন। ডাইনিং থেকে আবার কল করছে কেনÑ ভাবতে ভাবতে ফোন তুললেন ফারহানা।
‘হ্যালো...’
‘কে বলছেন!’
আশ্চর্য হলেন ফারহানা। ওপাশে পুরুষ কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে।
‘আমি সামাইরার ভাই বলছি, গতরাতে হঠাৎ সামাইরার শ^^াসকষ্ট শুরু হয়। মেডিকেলে নেওয়ার আগেই সব শেষ। ডাক্তাররা ভাবছেন করোনা। যদিও ওর কোনো সিম্পটম ছিল না।
হাত থেকে ফোনসেট পড়ে গেল ফারহানার। শিরদাঁড়া বেয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। হঠাৎই মনে হলো তিনি কোনো অন্ধকার গুহায় আটকে পড়েছেন। বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। কান দিয়ে গরম হাওয়া বেরুচ্ছে। কাউকে ডাকবেন তারও কোনো উপায় নেই। মূল গেটে গার্ড ছাড়া পুরো অফিস খালি। ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগলেন ফারহানা।
‘ম্যাডাম, আর কী কাজ বাকি আছে? আমাকে দ্রুত যেতে হবে।’ পেছন থেকে ফারহানার ঘাড়ের উপর শ^^াস ফেলে হিসহিস করে বলল সামাইরা। ফারহানা ঘাড় ঘুরানোর সুযোগ পেলেন না, তার আগেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]