ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১ ১০ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ এপ্রিল ২০২১

সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর নেয়ামত
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 202

মাহবুবা সিদ্দিকা
বিশ^ব্যাপী করোনা মহামারির প্রকোপে সবাই আতঙ্কিত। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশেও ছড়িয়েছে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ। সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কতটা মূল্যবান, তা এখন বুঝে আসে। আসলে সুস্থতা-অসুস্থতা আল্লাহরই নেয়ামত। প্রবাদ আছে, ‘সুস্থতাই সকল সুখের মূল’। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন ভগ্ন স্বাস্থ্যবান মুমিন থেকে স্বাস্থ্যবান মুমিন আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ ও প্রিয়।’ (মুসলিম : ২৬৬৪)। অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এমন দুটি নিয়ামত আছে, যে নিয়ামতের বিষয়ে মানুষ ধোঁকার মধ্যে থাকে। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসর।’ (বুখারি: ৬৪১২)। সুস্থতা কত বড় নেয়ামত তা এ থেকে স্পষ্ট হয়। কারণ, হাদিসে বর্ণিত দুইটি নেয়ামত মানুষের কাছ থেকে চলে গেলে মানুষ এর কদর বুঝে, তখন বুঝা যায় সুস্থতা কত বড় নেয়ামত ছিল। অন্য হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘মানুষকে সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত আর কিছু প্রদান করা হয়নি।’ (নাসায়ি : ১০৭২ )
ইবাদতে মনোনিবেশের জন্য দেহ ও মনের সুস্থতা প্রয়োজন অনিস্বীকার্য। যে কারণে ইসলাম সুস্থ থাকার উৎসাহ সৃষ্টি করা হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘দুর্বল মুমিনের তুলনায় শক্তিশালী মুমিন বেশি কল‍্যাণকর ও আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যে কল‍্যাণ রয়েছে।’ (মুসলিম : ৬৯৪৫)। অপর হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব‍্যক্তি প্রত্যুষে সুস্থতা নিয়ে ঘুম থেকে উঠে, বাসায় নিরাপদে থাকে এবং সারা দিনের খাদ্যসামগ্রী তার নিকট মজুদ থাকে, তাহলে তাকে পৃথিবীর সব সম্পদ দেওয়া হয়েছে।’ (তিরমিজি : ২৩৪৬)
সুস্থতা যে কত বড় নেয়ামত তা একজন অসুস্থ ব্যক্তিই ভালো জানে। হসপিটালে গেলে বুঝতে সহজ হয়, সুস্থতা কত বড় নেয়ামত। কারণ সেখানে এমন কিছু রোগী আছে, যা দেখলে নিজের প্রতিটা অঙ্গের কথা অটোমেটিক স্মরণ হয়ে যায়। মনে হয়Ñ আমার আল্লাহ আমাকে কত সুখে রেখেছেন, কতটা সুস্থ রেখেছেন, কত ধরনের নেয়ামত দ্বারা ভরপুর করে রেখেছেন। ঠিক তেমনিভাবে অসুস্থতাও আল্লাহ তায়ালার অনেক বড় নেয়ামত। বিভিন্ন হাদিসে রোগ-শোক ও বালা-মসিবতের তাৎপর্য ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। অসুস্থতা দেহের জাকাত স্বরূপ। এর দ্বারা শরীর গুনাহমুক্ত হয়, পাক-পবিত্র হয়। আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদা বুলন্দ হয়। ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য উপদেশ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘কেয়ামতের দিন বিপদগ্রস্ত লোকদের যে মহা পুরস্কার দেওয়া হবে তা দেখে সুস্থতার অধিকারী লোকেরা কামনা করবে, হায়! দুনিয়াতে যদি তাদের দেহ কাঁচি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করা হতো (আর তার বিনিময়ে আখেরাতের এ মহা পুরস্কার লাভ হতো!’ (তিরমিজি : ২৪০২)
বান্দা যখন অসুস্থ হয় এবং সে ধৈর্য ধরে তখন এর ফল অসাধারণ হয় আল্লাহর পক্ষ হতে। আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, জান ও মালের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে।’ (সুরা বাকারা : ১৫৬)। যারা আল্লাহর ওপর বিশ^াস আনে, তারা আল্লাহর দেওয়া সব কঠিন মসিবতকে সহজ ভেবে শুকরিয়া আদায় করে, তাদের জন্য অসুস্থতাও সুস্থতার মতো মনে হয়। তাই আমাদের ভাবতে হবে সুস্থতা-অসুস্থতা উভয়টি আল্লাহর নেয়ামত। এবং আমাদের এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে হবে। আমরা তো অনেকে এরকম করি, যখন অসুস্থ থাকি তখন আল্লাহকে প্রচুর স্মরণ করি, গুনাহ করা ছেড়ে দেই, চুপ থাকি, মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করি। আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করি। তখন আমরা সুস্থতার কদর বুঝি এবং নিয়ত করি সুস্থতার শুকরিয়া আদায় করব, ঠিকমতো নামাজ পড়ব, আল্লাহর হুকুম মেনে চলব। কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের বিষয়, সুস্থ হলে আল্লাহকে ভুলে যাই। আবার গোনাহ করা শুরু করি। মানুষকে কষ্ট দেই। সমাজে অনেককে দেখা যায়, যারা অসুস্থ হলে সেরা বুযুর্গ হয়ে যায়, প্রতিবেশীর কাছে ক্ষমা চেয়ে আল্লাহ ওয়ালা হয়ে যায়। কিন্তু তারা যখন আবার সুস্থ হয়ে যায় তখন শুরু হয়ে গোনাহের কাজ। তখন আর আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়ার কথা ভুলে যায়।
এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানুষকে যখন বিপদ স্পর্শ করে তখন শুয়ে-বসে-দাঁড়ানো অবস্থায় আমাকে ডাকতে থাকে। আর যখন তাকে বিপদমুক্ত করে দেই তখন এমনভাবে চলে যায় যেন সে বিপদে পড়ে আমাকে ডাকেইনি।’ (সুরা ইউনুস: ১০)। এ জন্য মুমিনের কর্তব্য হলো সর্বদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করাÑ সুস্থ অবস্থায়ও আবার অসুস্থ অবস্থায়ও। এগুলোকে আল্লাহর নেয়ামত মনে করে শুকরিয়া জ্ঞাপন করা। তখনই একজন মুমিন সফল হতে পারে। আল্লাহর রাসুলের একটি উপদেশ সবসময় স্মরণে রাখা ভালো, তিনি বলেছেনÑ ‘তোমরা পাঁচটি জিনিসকে তার বিপরীত পাঁচটি জিনিসের আগে মূল্যায়ন করো ও তার সদ্ব্যবহার করোÑ ১. যৌবনকে বার্ধক্যের আগে। ২. সুস্থতাকে অসুস্থতার আগে। ৩. সচ্ছলতাকে দারিদ্র্যের আগে। ৪. অবসরকে ব্যস্ততার আগে। ৫. জীবনকে মৃত্যুর আগে।’ (বায়হাকি, শোয়াবুল ঈমান : ১০২৪৮; মুসনাদে হাকিম : ৭৮৪৬; আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব : ৪/২০৩)










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক: হারুন উর রশীদ, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]