ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

হেফাজত ও মামুনুল ইস্যুতে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টীর বৈঠক
সময়ের আলো অনলাইন
প্রকাশ: সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১, ৭:০৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 49

স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতের কর্মীরা। জেলার নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রতিষ্ঠানে সংগঠনটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। হেফাজতে এ সব কর্মকান্ড ও বিতর্কিত মামুনুল হক ইস্যুতে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি গোলটেবিল বৈঠক করেছে।

বৈঠকে বক্তরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর তিনটি ম্যুরাল, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে থাকার দু’দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার প্যান্ডেল, একই চত্বরে থাকা শহর সমাজসেবা প্রকল্পের অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়, পৌর মেয়রের বাসভবন, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ব্যক্তিগত অফিস, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, জেলা মৎস্য অফিস, সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ কার্যালয় ও ডাকবাংলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব, খাঁটি হাতা হাইওয়ে থানা ভবন, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন, মাতৃ সদন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের বাসভবন, তার শ্বশুরের বাড়ি, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কালীবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বাসভবন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন, আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা, আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাছেরের বাসভবন, বিজয়সনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়সহ প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হেফাজতের কর্মীরা।
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় এজাহারনামীয় ২৮৮ জন ও অজ্ঞাতনামাসহ ৩৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার হন ১৬ জন। এ নিয়ে এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
 
পুলিশ জানায়,  ৪৯টির মধ্যে সদর মডেল থানায় ৪৩টি, আশুগঞ্জ থানায় ৩টি, সরাইল থানায় ২টি এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে সদর মডেল থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।
 
যদিও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের কোনো নেতাকর্মী তাণ্ডব চালায়নি বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা সাজিদুর রহমান। হরতাল চলাকালে ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ডেরও নিন্দা জানান তিনি।
 
তাছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবের সময় এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার সুহিলপুর বাজারের একটি মিষ্টির দোকান থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। গুলি খোয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
এ পরিস্থিতিতে সরকারের সাথে কোন প্রকার সংলাপের উদ্যোগ না নিয়ে হেফাজতে ইসলাম কেবল মাত্র প্রতিশোধ পরায়নতার খাতিরে যেই অগ্নিসংযোগ চালায় তা নিঃসন্দেহে সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তার উপর হুমকি স্বরূপ এবং দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য যথেষ্ট।
 
বক্তরা আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার এবং সরকারের প্রশাসন মুসলমানদের প্রতি যথেষ্ট সংবেদনশীল এবং অধিকার আদায়ে সচেষ্ট। তবুও হেফাজত ইসলামের মত এত বড় একটি অরাজনৈতিক দল যখন কোন প্রকার সমঝোতা বা সংলাপের প্রয়াস ছাড়াই সংঘাতের পথে পা বাড়ায় সেটা দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য যথেষ্ট। হেফাজতে ইসলাম এবং সরকারের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বোধের অভাবে মোদি বিরোধী আন্দোলন এবং এর পরবর্তী ইস্যুতে ২৬ টি তাজা প্রাণ ঝরে যায়। তার সাথে জাতীয় সম্পদের শতকোটি টাকার অধিক ক্ষয় ক্ষতি হয়। সে কারণে উভয় পক্ষই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং প্রত্যেক সচেতন নাগরিক তাদের থেকে যথাসময়ে জবাবদিহিতা আদায় করে ছাড়বে কেননা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ জাতি স্বাধীন হয়েছে এবং এ জাতিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।
 
এ সময় গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়েকেরামদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মাওলানা মোঃ ইসমাইল হোসাইন, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি, মহাসচিব মাওলানা মুফতি শাহাদাত হোসাইন, যুগ্ম-মহাসচিব কাজী মাওলানা শাহ মোঃ ওমর ফারুক,  সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী, আবুল খায়ের ওয়াহেদী, পীর সাহেব চেচুয়াজানি, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হারুন অর রশিদ মিরন, পীর সাহেব, নড়াইল, মাওলানা হাজী হাবিবুল্লাহ সহ প্রমুখ।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]