ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

মৃত্যু, কবর ও হাশর : মন্দ লোকের মৃত্যুযন্ত্রণা
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 43

মানুষের মৃত্যু অবধারিত। এক দিন না এক দিন সবাই মৃত্যুবরণ করবে। মৃত্যুর পর মানুষ হবে কবর জগতের বাসিন্দা। তারপর এক দিন সবাইকে
হাশরের মাঠে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। সেখানে দুনিয়ার কৃতকর্মের হিসাব-নিকাশ হবে, আল্লাহর আদালতে হবে ন্যায়বিচার। অতঃপর এক দল মানুষকে জান্নাতে
পাঠানো হবে, অন্য দলকে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে। দৈনিক সময়ের আলোর পাঠকদের জন্য মানুষের মৃত্যুর বিবরণ, কবর জগতের অবস্থা ও হাশরের
বিচার সম্পর্কে কোরআন-হাদিসের আলোকে ধারাবাহিক লিখছেন আরিফ খান সাদ

অসৎ-মন্দ ও পাপিষ্ঠ লোকের মৃত্যুযন্ত্রণার ভয়াবহ চিত্র কোরআন ও হাদিসে সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে। অবাধ্য ও পাপী ব্যক্তির মৃত্যুযন্ত্রণার কথা কোরআনে কারিমের একাধিক স্থানে এসেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মৃত্যুযন্ত্রণা সত্যিই আসবে। হে মানুষ! এই মৃত্যুযন্ত্রণাই সেই জিনিস, যা থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াতে চাইতে।’ (সুরা কাফ : ১৯)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, ‘যদি তুমি দেখতে যখন জালিমরা মৃত্যুযন্ত্রণায় পড়বে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের কর।’ (সুরা আনআম : ৯৩)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি যদি দেখতে পেতে ফেরেশতারা কাফেরদের চেহারা ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করে তাদের প্রাণ হরণ করছে এবং বলছে, তোমরা দহন যন্ত্রণা ভোগ কর।’ (সুরা আনফাল : ৫০)
অসৎ ও দুরাচারি মানুষের মৃত্যুযন্ত্রণার ভয়াবহ চিত্র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিতÑ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, মালাকুল মাউতের থাবা এক হাজার তরবারির আঘাতের চেয়েও কঠিন কষ্টদায়ক।’ (শরহুস সুদুর : ২০)। হজরত শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, ‘করাত দিয়ে চিড়লে বা কাঁচি দিয়ে চামড়া ছিললে কিংবা কাউকে তপ্ত পানির পাতিলায় নিক্ষেপ করলেও সে পরিমাণ কষ্ট বোধ হবে না যে পরিমাণ কষ্ট মৃত্যুর সময় বোধ হবে।’ (ইয়াইইয়াউ উলুমিদ্দিন : ৪/৩৯৪)। হজরত ওমর (রা.) হজরত কাবকে (রা.) বলেছিলেন, আমাকে মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন হজরত কাব (রা.) বলেছিলেন, ‘মৃত্যু হলো কাঁটাদার গাছের মতো। কাঁটাযুক্ত সে গাছটি যখন মানুষের পেটে ঢোকানোর পর তার প্রতিটি কাঁটা শিরায় শিরায় লেগে যায়। তখন একজন শক্তিশালী মানুষ যদি গাছটি ধরে জোরে টেনে বের করার চেষ্টা করে ওই মুহূর্তে শিরায় শিরায় বিদ্ধ হওয়া কাঁটার আঘাতের কষ্ট মানুষটি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে। অনুরূপভাবে মানুষের মৃত্যুকালে মৃত্যুপথযাত্রীর কাছেও মনে হয় যেন, তার শরীরের গোশতগুলো যেন একটি কাঁটার সঙ্গে বেরিয়ে আসছে। সে মৃত্যুযন্ত্রণা মানুষ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে থাকে।’ (শারহুস সুন্নাহ)
কাফের, অবিশ^াসী ও পাপাচারী ব্যক্তির জান কবজের অবস্থা অত্যন্ত নিকৃষ্ট ও বীভৎস হয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তি পাপাচারী হলে, বীভৎস আকৃতির ফেরেশতা বলেন, হে নিকৃষ্ট দেহের নিকৃষ্ট আত্মা! নিন্দিত অবস্থায় বের হয়ে আয় এবং উত্তপ্ত গরম পানি ও রক্ত-পুঁজের দুঃসংবাদ গ্রহণ কর এবং অনুরূপ বহু বিষাক্ত বস্তুর। রুহ বের হয়ে না আসা পর্যন্ত তারা এভাবে আহ্বান জানাতে থাকেন। অতঃপর তারা রুহসহ ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেন। কিন্তু তার জন্য দরজা খোলা হয় না। জিজ্ঞেস করা হয়, এ ব্যক্তি কে? বলা হয়, অমুক। তখন বলা হয়, নিকৃষ্ট দেহের নিকৃষ্ট আত্মার জন্য নেই কোনো সাদর সম্ভাষণ। তুই নিন্দিত অবস্থায় ফিরে যা। কারণ তোর জন্য আকাশের দ্বারসমূহ খোলা হবে না। অতঃপর একে আসমান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং তা কবরে ফিরে আসে। (মুসনাদে আহমদ : ৮৫৫১)। এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে সেভাবে ভয় কর; যেভাবে ভয় করা উচিত এবং অবশ্যই (সাবধান!) মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কর না।’ (সুরা আল-ইমরান : ১০২)
মৃত্যুযন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজেও আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) মৃত্যুর আগে দেখেছি একটি পানিভর্তি বাটি তাঁর সামনে রাখা। তিনি সেই বাটিতে তাঁর হাত প্রবেশ করাচ্ছিলেন এবং পানি দিয়ে মুখমণ্ডল মুছছিলেন আর বলছিলেন, ‘হে আল্লাহ, মৃত্যুকষ্ট ও মৃত্যুযন্ত্রণা হ্রাসে আমাকে সহায়তা করুন।’ (তিরমিজি : ৯৭৮)। আল্লাহর রাসুলের মতো নিষ্পাপ মানুষ যদি মৃত্যুযন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে দোয়া করে থাকেন, তা হলে আমাদেরও অবশ্যই সবধরনের পাপ পরিত্যাগ করার পাশাপাশি নেক আমল ও দোয়া বাড়ানো কর্তব্য।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমের মাধ্যমে মানুষকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছেনÑ মৃত্যুর পূর্বে ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করে পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হয়ে যাও। তবেই মৃত্যুকালীন কষ্টসহ পরকালের প্রথম মনজিল কবর, পুলসিরাত, হাশরের ময়দান এবং আল্লাহর বিচারের দিন নাজাত লাভ করবে। তাই আসুন, এখন থেকেই মৃত্যু ও পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি। পাপ ও অন্ধকার ছেড়ে পুণ্য ও আলোর পথে চলি। নির্জনে প্রার্থনার শিশির দিয়ে অতীতের পাপ ধুয়ে ফেলি। মহান প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের জীবনকে সিক্ত করি। অন্ধকার কবরের প্রদীপ এখন থেকেই প্রস্তুত করি। আল্লাহ তওফিক দিন। আমিন।
আগামী শনিবার পড়ুনÑ
‘কবরের সওয়াল ও জওয়াব’








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]