ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোজার উপকার
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 40

মুহাম্মাদ মিযানুর রহমান
মানবদেহের সুস্থতার জন্য খাদ্য গ্রহণ ও বিরতি জরুরি বিষয়। ইসলামের রোজা বিধানের মাধ্যমে বিষয়টি আরও কল্যাণময় হয়ে উঠেছে। রোজা ইসলামের মূল পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম একটি। গৌরবের বিষয় হচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান রোজার ব্যবহারিক তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পেরেছে। ইউরোপের ঘরে ঘরে ফাস্টিং বা রোজা রাখার হিড়িক পড়েছে। মুখে শোনা যাচ্ছে, ‘শরীরটাকে ভালো রাখতে চাও তো রোজা রাখো।’ জার্মানির বিখ্যাত একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকের ফটকে বড় অক্ষরে লেখাÑ ‘রোজা রাখো, স্বাস্থ্যবান হবে।’
পেটভর্তি করে খাওয়া অপেক্ষা মানুষের জন্য মন্দ দ্বিতীয় কোনো কাজ নেই। মানুষ টিকে থাকার জন্য কয়েক লোকমাই যথেষ্ট। হজরত মিকদাম ইবন মাদিকারাব (রা.) বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র মানুষ ভরাট করে না। পিঠের দাঁড়া সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমা খাবারই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। আর বেশি খাবার ছাড়া যদি তা সম্ভব না হয়, তা হলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য আর বাকি
তৃতীয়াংশ শ^াস-প্রশ^াসের জন্য রাখবে।’ (তিরমিজি : ২৩৮৩)
বছরে এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিশ্রাম পায়। এটা অনেকটা
শিল্প-কারখানার মতো। মেশিনের যন্ত্রপাতি যেমন বন্ধ করলে নতুন করে সচল হওয়ার গতি পায়, তেমনি রোজায় খাদ্য বিরতির মাধ্যমে উদরের পরিপাক যন্ত্র নতুন উদ্যোম পায়। বর্তমান বিশে^ ফাস্টিং বা রোজা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে ’৭০-এর দশকের একটি বই অন্যান্য ভূমিকা পালন করেছে বিখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদের লিখিত ‘দ্য সিক্রেট ও অব সাকসেসফুল’ বইটি। এতে লেখক জানান মানুষের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন ও কার্যপ্রণালি বিশ্লেষণ করে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরে কিছুদিন উপবাসের অভ্যাসের কথা। তার মতে উপবাস খাবারের উপাদান থেকে সারা বছর জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ (টক্সিন) চবি ও আবর্জনা থেকে মুক্তি দেয়। ফলে শরীরের জমে থাকা বিষগুলো রমজান থেকে নির্গত অর্থে অগ্নিদগ্ধ হয়। তা ধ্বংস না হলে শরীরের রক্তচাপ একজিমা পেটের পীড়া ইত্যাদি রোগ জন্ম নেয়।
এ ছাড়াও উপবাসে কিডনি ও লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। মিসরের জাতীয় গবেষণাগারের প্রাণরসায়ন শিক্ষিক ডাক্তার মোহাম্মদ সাইয়েদ বলেন, অনেকে বলে রোজা রাখলে শরীর দুর্বল হয় মাথায় চক্কর দেয় কিংবা ঘুমের প্রকোপ বেশি হয়। তিনি সেটা ভুল প্রমাণিত করেন। রোজার মধ্যে দিনের খাদ্য গ্রহণ না করলে শরীরের ভেতর খাদ্য প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। প্রতিরোধ ক্ষমতা আলফা-১ও গামা নামক প্রোটিন থেকে বৃদ্ধি পায়। ফলে ক্যালসিয়ামকে জমতে বাধা দেয়। আর ক্যালসিয়াম জমেই সৃষ্টি হয় পাথর। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে রমজানের দিনে তা গঠিত হতে পারে না। একাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনা রোগীদের ৩ সপ্তাহের জন্য উপবাস পালনের বিধান দিতেন। রোজা মানব শরীরের কোনো ক্ষতি করে না। যারা মনে করে রোজা দ্বারা শূলবেদনা বেড়ে যায় তাদের ধারণা নিতান্তই অবাস্তব। কারণ উপবাসে পাকস্থলির এসিড কমে এবং খেলেই বাড়ে। এই অতীব সত্য কথা না জেনে অনেক ডাক্তার শূলবেদনা রোগীকে রোজা রাখতে নিষেধ করেন।
আসুন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জীবনের সফলতা লাভের উদ্দেশ্যে রোজা রাখার নিয়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। এতেই নিহিত আছে মানুষের শারীরিক সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের গোপন রহস্য। সিয়াম সাধনায় আমরা হবো স্বাস্থ্যবান ও পবিত্র আত্মার অধিকারী। আল্লাহ তওফিক দিন। আমিন।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]