ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

প্রভুর করুণায় সিক্ত হওয়ার সুযোগ
ফিরোজ আহমাদ
প্রকাশ: রোববার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ১০:০৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 42

জীবনের সব গোনাহ মুছে ফেলার সুযোগ পবিত্র রমজান। রমজান আত্মশুদ্ধি ও তওবা কবুলের মাস। আল্লাহ তায়ালার অপরিসীম দয়া ও করুণায় নিজেকে সিক্ত করার মাস। জাহান্নামের পথ ছেড়ে নিজেকে জান্নাতের দিকে ধাবিত করার মাস। যারা গোনাহ করতে করতে নিজেকে গোনাহের সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছেন, তাদের জন্য মাহে রমজান গোনাহ মাফের বার্তা নিয়ে হাজির হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজের প্রতি অবিচার করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা আল ইমরান : ১৩৯)।
যারা খাঁটি দিলে তওবা করবে আল্লাহ তায়ালা তাদের মাফ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ক্ষমার দৃষ্টান্ত হিসেবে সর্বপ্রথম এ মাসে হজরত আদম (আ.)-কে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। হজরত আদম (আ.) গন্দম ফল খাওয়ার অপরাধে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবা করেছিলেন। সেই তওবা আল্লাহ কবুল করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা কর। তওবার ফলে আল্লাহ তোমাদের গোনাহসমূহ মাফ করে দেবেন এবং এর বিনিময়ে জান্নাতে দাখিল করবেন।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৮)।
রমজানের রোজার পুরস্কার আল্লাহ তায়ালা নিজ হতে দেবেন। একজন রোজাদারের জন্য চেয়ে মহাআনন্দের সংবাদ আর কী হতে পারে। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রোজা ছাড়া মানুষের প্রত্যেকটি আমল তার নিজের জন্য। তবে রোজা একমাত্র আমার জন্য। আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব।’ (বুখারি : ১৭৮৩)।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, রোজা ও  কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে হে আমার রব! আমি তাকে দিনের বেলা পানাহার ও যৌনক্রিয়া থেকে বিরত রেখেছি। তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন এদের সুপারিশ কবুল করা হবে।’ (বেহশতি জেওর : ৩/১০)।
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রমজান মাস আগমনের সঙ্গে সঙ্গে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শয়তানকে শিকলাবদ্ধ করা হয়।’ (মুসলিম : ২/৭৫৮)। সালমান ফারসী (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো সৎ কাজের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য কামনা করে, সে যেন অন্য মাসে কোনো ফরজ কাজ আদায় করার ন্যায় কাজ করল আর যে ব্যক্তি কোনো ফরজ কাজ আদায় করে সে যেন অন্য মাসের ৭০টি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব পেল।’ (বায়হাকি : শুয়াবুল ঈমান, ৫/২২৩)।
রমজান মাসের বিশেষ নিয়ামত হলো শবে কদরের রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা কোরআন নাজিল করেছেন। এ রাতে যারা ইবাদত বন্দেগি করবে তারা পূর্ববর্তী নবীর উম্মতের এক হাজার রাত ইবাদতের সমান সাওয়াব পাবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আপনি কী জানেন? লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।’ (সুরা কদর : ২-৩)। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার অতীতের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি : ১৭৮০)।
রমজানের রোজা পালনের পাশাপাশি তারাবি, ইতেকাফ ও দান-সাদকা আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর ভালোবাসা, দয়া ও করুণায় সিক্ত হওয়ার তৌফিক দান করুক। আমিন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]