ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

সরকারের অর্থের অপচয় রোধ করতে হবে : ড. সালেহউদ্দিন
প্রকাশ: রোববার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ১০:১১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 27

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, এবারের বাজেট গতানুগতিক বাজেটের মতো ঘোষণা করলে হবে না। করোনা মহামারিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে একটা বিশেষ বাজেট দিতে হবে। এবারের বাজেটে কতগুলো নীতি এবং কৌশল স্ট্র্যাটেজি থাকবে, যা বাজেট বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি নজর বাড়াতে হবে। কৃষি খাত, রফতানি, রেমিট্যান্স ও ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠানÑ এই চারটি খাতকে যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেবা খাতকেও যতটা সম্ভব গুরুত্ব দিতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপÑ এ দুটোই যেন সমানভাবে নেওয়া হয়। ভর্তুকি প্রদানের ক্ষেত্রে ছোট ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানকেও বিবেচনায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের অর্থের অপচয় অনেক প্রকল্প করে থাকে; কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। এবারের বাজেটে সরকারের অর্থের অপচয় রোধ করতে হবে। এবারের বাজেটে এগুলো রোধ করলেই বাজেটে ব্যয় সাশ্রয়ী হবে।
আগামী বাজেট করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার
বাজেট : ড. জাহিদ হোসেন
চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এই ঢেউয়ের মধ্যে তৈরি করতে হচ্ছে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট। আগামী বাজেটে কী বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে টেলিফোনে মতামত জানিয়েছেন বিশ^ব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
আলাপচারিতায় প্রথমে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বাজেট হবে করোনার বাজেট। অর্থাৎ করোনার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য যে কার্যক্রম তা অন্তর্ভুক্ত করা। গত বছরের করোনায় সাধারণ মানুষ যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা কাটিয়ে না উঠতেই আরেকটা আঘাত এলো। গত এক বছরে স্বাস্থ্য খাত কোন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেনি তা বলা যাবে না। তবে বরাদ্দের অর্থ তারা ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে যে প্রকল্প ছিল তাও মন্ত্রণালয় ব্যয় করতে পারেনি। বছরের এডিপি কার্যক্রম আলোচনা করলে দেখা যাবে এখনও সব মন্ত্রণালয় থেকে এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অর্থ ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের এই দুর্দশা দেখলে অবাক হতে হয়। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য খাতে কী দুরবস্থা তা বেরিয়ে আসছে। তাই আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে দিলেই হবে না। এর সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
তিনি বলেন, সরকার করোনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলেও, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসূচির বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। সরকার কর্মহীন পরিবার প্রতি ২৫০০ টাকা দেওয়ার জন্য কর্মসূচি নেয়। কিন্তু ভুয়া অ্যাকাউন্টের কারণে এখন বেশ কিছু অর্থ পড়ে আছে। কর্মহীনদের চাল, ডাল, তেল আলু কিনে দেওয়ার জন্য সরকার একটা ভালো উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তালিকা নিয়ে। এখানে সরবরাহ সিস্টেম শুধু আমলা-নির্ভর হলে চলবে না। বরং এতে দুর্নীতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে এর সমাধান কী? হ্যাঁ, এর সমাধান হচ্ছে যাদের সুনাম রয়েছে সেসব এনজিওদের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। কথা প্রসঙ্গে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, খাদ্যের সঙ্গে যদি মাস্ক, সাবান দেওয়া যায় তাহলে গরিবরা উপকৃত হবে। কারণ সবার কিন্তু সাবান কেনার সামর্থ্য নেই। এই বিষয়টি সরকারকে চিন্তাভাবনা করতে হবে।
খাদ্য কর্মসূচি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানালেন, খাদ্যভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যে ভিজিএফ, টিআর, জিআর রয়েছে। কিন্তু দেখা গেল করোনাকালে খাদ্য বিতরণের ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি আপতত স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক। সামাজিক সুরক্ষার জন্য এই কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। আগামী বাজেটে শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে চলবে, এ নিয়ে ইতোমধ্যে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। কারণ এক বছর সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এই করোনাকালে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও, তা মাত্র ২৩ শতাংশ উপকার পাচ্ছে। আবার অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর জন্য যে ধরনের ডিভাইস ও ব্যান্ড প্রয়োজন তা চাহিদা অনুযায়ী অপ্রতুল। আগামী বাজেটে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হলে এর অবকাঠামো উন্নত করতে হবে।
ড. জাহিদ বলেন, আমাদের এই দুর্যোগে শেষ ভরসা কৃষি খাত। এই করোনাকালে প্রচুর মানুষ গ্রামে ফিরে যাচ্ছে। গ্রামে গিয়ে তারা কী করবে। হয়তো কৃষির ওপর বেশ কিছুটা নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। কৃষকদের কৃষি উপকরণ ও ভর্তুকি পৌঁছানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য। কথা প্রসঙ্গে উঠে এলো, সামনে বোরো মৌসুম। কৃষকদের তাদের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত এখনই বেশি পরিমাণ ধান সংগ্রহ করা। সরকারের সংগ্রহের মাধ্যমে কৃষকরা উপকৃত হবে। কিন্তু সরকার সময়মতো আর বেশি পরিমাণ বোরো ধান সংগ্রহ না করে তাহলে মিলাররা সব ধান কিনে নেবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষক। সরকারের কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই কৃষকদের দাম নিশ্চিত করা। সরকার হয়তো বলে, তাদের ধান রাখার মতো পর্যাপ্ত গুদাম নেই। কিংবা গুদামে জায়গা নেই। সরকারের উচিত ধান কিনে সেগুলো চালে রূপান্তর করে গুদামে রাখা। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদ্ভাবনী চিন্তা করা একান্ত প্রয়োজন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]