ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৮ মে ২০২১ ২৪ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ৮ মে ২০২১

ভ্যাকসিন পেতে জটিলতা
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ১০:৪৪ পিএম আপডেট: ১৭.০৪.২০২১ ১১:২৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 198

করোনাযুদ্ধে ভ্যাকসিন কার্যক্রমে বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা। এই ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিতে হয়। এখন পর্যন্ত ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৫ জন টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। আর এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একমাত্র উপায় হচ্ছে সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু দেশে করোনার টিকা সরবরাহে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় টিকা প্রয়োগের কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়েছে।
ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা আসার কথা থাকলেও গত দুই মাসে কোনো চালান আসেনি। কবে নাগাদ টিকার চালান আসতে পারে, তা কেউ বলতে পারছে না। চুক্তির পর সিরাম ইনস্টিটিউট জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। এ ছাড়া ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছে ৩২ লাখ ডোজ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের হাতে এসেছিল ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। বর্তমান হারে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হতে থাকলে মজুদে থাকা ভ্যাকসিন আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২ লাখ মানুষ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রথম ডোজ নিচ্ছেন। দেশে মজুদ থাকা ১ কোটি ২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিনের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাবে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকার ঘাটতি রয়েছে। এখন সিরাম ইনস্টিটিউট আবার কবে টিকা সরবরাহ করবে, তার কোনো নিশ্চয়তা বাংলাদেশ পাচ্ছে না। অন্যদিকে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম ধাপে বাংলাদেশকে ১ কোটি ডোজ টিকা দিতে চেয়েছিল, তাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। কিন্তু সিরাম এ মুহূর্তে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থাকেও টিকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এদিকে বাংলাদেশ ভারতে সিরামের সঙ্গে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার যে চুক্তি করেছিল, সেই চুক্তি হয়েছিল বাংলাদেশের বেসরকারি কোম্পানি বেক্সিমকোর মাধ্যমে। এখন এই অনিশ্চয়তা নিয়ে বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে থেকেই বিকল্প না রেখে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল থাকার কারণে দেশে টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, বিকল্প মাধ্যম থেকেও টিকা সংগ্রহ করা হবে। এখন রাশিয়া এবং চীনসহ বিকল্প সব জায়গা থেকে টিকা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফাইজার এবং মডার্নার টিকা আনার ব্যাপারেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দুই ডোজ মিলিয়ে ৬৬ লাখ ১৭ হাজার ৩৬ জন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৯ জন। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়। ৫ এপ্রিল সকাল থেকে দ্বিতীয় ডোজ টিকার জন্য এসএমএস পাঠানো শুরু হয়েছে। এসএমএসে দেওয়া তারিখ অনুযায়ী আগের টিকাদান কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে বলা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরের ৪৭টি টিকাদান কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ২৯ হাজার ৩২৪ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন। এদিন প্রথম ডোজ নিয়েছেন ২ হাজার ১৭২ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৬৩ হাজার ৪১ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এদিন ঢাকা বিভাগে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ৩ হাজার ৮১৯ জন। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৯ হাজার ৬৯৬ জন, চট্টগ্রামে ৩৮ হাজার ৬১৪ জন, রাজশাহীতে ২২ হাজার ৯১ জন, রংপুরে ১৭ হাজার ১৮৩ জন, খুলনায় ২৪ হাজার ৩৫৭ জন, বরিশালে ৮ হাজার ১৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ হাজার ৮২১ জন করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মো. খুরশিদ আলম বলেছেন, টিকার ঘাটতি থাকছেই। হিসাবে তাই বলে। বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি বিষয়টির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করার। যদি সিরামের কাছ থেকে দ্রুত ভ্যাকসিন পাওয়া না যায়, তা হলে আমরা অন্যান্য উৎস থেকে একই ভ্যাকসিন জোগাড় করার চেষ্টা করব। তিনি জানান, এখন সিরামের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়া এবং চীন থেকে টিকা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা বারবার বলছি, তাগাদা দিয়েছি। এর মধ্যে আমরা আমাদের অধিদফতর এবং মন্ত্রণালয় দুই দুবার তাকে (সিরামকে) চিঠিও দিয়েছি। তারাও প্রত্যেকবার বলছে, এটা অসুবিধা হবে না, বলেন তিনি।
অধ্যাপক খুরশিদ আলম বলেন, মুশকিল হচ্ছে, কেউ না করছে না। টিকা দেবে না, এ কথা কেউ বলছে না। কিন্তু কবে পাওয়া যাবে, সেই নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফাইজার এবং মডার্নার টিকা আনার ব্যাপারেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তারা এ মুহূর্তে তাদের দেশের বাইরে টিকা সরবরাহ করছে না।
বাংলাদেশ ভারতে সিরামের সঙ্গে ৩ কোটি ডোজ টিকা কেনার যে চুক্তি করেছিল, সেই চুক্তি হয়েছিল বাংলাদেশের বেসরকারি কোম্পানি বেক্সিমকোর মাধ্যমে। প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় চালানে ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আসে। তৃতীয় চালানের ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন মার্চের শেষ সপ্তাহে দেশে আসার কথা থাকলেও দ্বিতীয় চালানের পর সিরামের কাছ থেকে আর কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। মার্চে ভারত সরকার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের সব ধরনের রফতানি সাময়িকভাবে স্থগিত করে। তারা জানায়, ভারতে সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যেতে পারে এবং সে কারণে তাদের নিজস্ব টিকাদান কর্মসূচির জন্য আরও বেশি পরিমাণ ভ্যাকসিন প্রয়োজন।
সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদর পুনাওয়ালা চলতি মাসের শুরুর দিকে গণমাধ্যমকে জানান, ভারতে সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় ‘সিরামের কোভিশিল্ড উৎপাদন কার্যক্রম খুবই চাপের মুখে রয়েছে। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন সরবরাহে বিলম্বের কারণে সিরামকে একটি আইনি নোটিস পাঠিয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]