ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

রাষ্ট্রদ্রোহসহ তিন মামলা
তদন্ত প্রতিবেদন ১৯ মে
মোহাম্মদ গাফফার হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১, ১০:১৫ পিএম আপডেট: ১৮.০৪.২০২১ ১১:৩৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 142

ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের দুই মামলা এবং বায়তুল মোকাররমে তাণ্ডবের ঘটনায় করা আরেক মামলায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আগামী ১৯ মে তারিখ ধার্য রয়েছে। এরই মধ্যে রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারের পর তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ২০২০ সালে মোহাম্মদপুরে একটি ভাঙচুরের মামলায় মামুনুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে মতিঝিল, পল্টন, নারায়ণগঞ্জে। পরে সেগুলো সমন্বয় করা হবে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা : ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৯ মে দিন ধার্য রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার আর্জি থেকে জানা গেছে, আসামি মামুনুল হক গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীর তোপখানা রোডের বিএমএ মিলনায়তনের এক আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। এ সময় তিনি বক্তব্যে বলেন, লাশের পর লাশ পড়বে, তবুও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য গড়তে দেওয়া হবে না। এ বক্তব্যের কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাবমূর্তি ও সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এ অভিযোগে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলা করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক।
রাষ্ট্রদ্রোহের আরেক মামলা : ভাস্কর্য নিয়ে সমালোচনা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হককসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রদ্রোহের আরেক মামলায় প্রতিবেদনের জন্য ১৯ মে দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলাটিও তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার আর্জি থেকে জানা গেছে, গত ১৩ নভেম্বর হেফাজতের নেতা মাওলানা মামুনুল হক ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য তৈরির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে তারা বঙ্গবন্ধুর সুসন্তান হতে পারে না। এই মূর্তি স্থাপন বন্ধ করুন। যদি আমাদের আবেদন মানা না হয়, আবারও তৌহিদি জনতা নিয়ে শাপলা চত্বর কায়েম হবে। অন্যদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মাহফিলে বলেন, মদিনা সনদে যদি দেশ চলে তাহলে কোনো ভাস্কর্য থাকতে পারে না। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হওয়ায় গত বছরের ৭ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। মামলার অন্য আসামি সৈয়দ ফয়জুল করিম।
বায়তুল মোকাররমে তাণ্ডবের মামলা : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বায়তুল মোকাররমে তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৬ এপ্রিল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে মামলার এজাহার পৌঁছলে মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ মে দিন ধার্য করেন।
গত ৫ এপ্রিল রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২ থেকে ৩ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উপদফতর সম্পাদক ও ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান। মামলায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনসহ কয়েকটি ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররমে তাণ্ডবের ঘটনায় এ মামলা করা হয়। মামলায় মাওলানা মামুনুল হককে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেনÑ মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা লোকমান হাকিম, নাসির উদ্দিন মনির, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নূরুল ইসলাম জেহাদী, মাজেদুর রহমান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবি, মাওলানা জসিমউদ্দিন, মাওলানা মাসুদুল করিম, মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, মাওলানা ফয়সাল আহমেদ, মাওলানা মুশতাকুন্নবী, মাওলানা হাফেজ মো. জোবায়ের ও মাওলানা হাফেজ মো. তৈয়ব।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে মামুনুল হকের নির্দেশে ১৭ হেফাজত নেতার নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দা, ছোরা, কুড়াল, কিরিচ, হাতুড়ি, তলোয়ার, লাঠিসোটাসহ অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় আরিফ-উজ-জামান গুরুতর আহত হন। এজাহারে আরও বলা হয়, ২৬ মার্চ দুপুরে বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যান বাদী। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে উত্তর গেটের সিঁড়িতে কয়েক হাজার জামায়াত-শিবির, বিএনপি-হেফাজতের উগ্র মৌলবাদী ব্যক্তির বিশাল জমায়েত দেখতে পান তিনি। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে শীর্ষস্থানীয় জামায়াত-শিবির, বিএনপি-হেফাজত নেতারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে দেশি-বিদেশি সরকারপ্রধান ও নারীপ্রধানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিকে বানচাল করা এবং ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক নৈরাজ্য সৃষ্টির পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। সেই লক্ষ্যে সেখানে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী নানা সেøাগান দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে গত ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলাম। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তাদের। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামে হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল করে। সেখানে পুলিশের গুলিতে চার ছাত্রের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় ২৬ মার্চ বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ হয়। সেখানেও সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়। হামলা ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৭ মার্চ বিক্ষোভ ও ২৮ মার্চ হরতাল পালন করে ইসলামী সংগঠনটি। হরতালে দেশব্যাপী হামলা, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের কারণে চরম নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয় সারা দেশে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]