ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

যেভাবে গ্রেফতার
আবদুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১, ১০:১৫ পিএম আপডেট: ১৮.০৪.২০২১ ১১:৩৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 182

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হক আত্মগোপনে ছিলেন। গ্রেফতার এড়াতে তার এই কৌশল আগেই নিশ্চিত হয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। রোববার বের হতে পারেন এমন তথ্য ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। কিন্তু মামুনুল সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেন। গোয়েন্দারা সেটিও জানতে পারেন। আর তাই সিদ্ধান্ত হয় রোববার মাদ্রাসায় অবস্থানরত অবস্থায় মামুনুলকে গ্রেফতারের। সে অনুসারে গ্রেফতার করতে গেলে কী ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে সে নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনা-পর্যালোচনা করেন। সে অনুসারে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে মামুনুলকে।
অভিযানে অংশ নেওয়া একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মাদ্রাসায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সংগ্রহ করে দেড় শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অবস্থান করার তথ্য পাওয়া যায়। কোনো ধরনের ঝামেলা করলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অতিরিক্ত ফোর্সও রেডি রাখা হয়। সবশেষে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ ও গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিম মামুনুলকে গ্রেফতারে অভিযান চালায়। কর্মকর্তারা জানান, মামুনুল হক মাদ্রাসায় অবস্থানের পর থেকে গেটে সার্বক্ষণিক পাহারা বসানো হয়। পুলিশের অভিযান বুঝতে পেরে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত পুলিশ দেখে বিরত থাকে। দুপুর ১২টার আগে গোয়েন্দা পুলিশ ও তেজগাঁও বিভাগের শতাধিক পুলিশ প্রথমে মাদ্রাসাটিকে ঘিরে ফেলে। তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদসহ অন্যরা মাদ্রাসায় ঢুকে মামুনুল হকের কক্ষে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। তাকে পুলিশের সঙ্গে যেতে বলা হলে বাধা দিয়ে কোনো লাভ হবে না বুঝতে পেরে স্বেচ্ছায় হেঁটে পুলিশের গাড়ির দিকে রওনা হন। তার সঙ্গে মাদ্রাসার ৩-৪ জন শিক্ষক বের হয়ে আসেন। স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে গাড়ির দিকে যান। শিক্ষকদের সঙ্গে কথাও বলছিলেন স্বাভাবিকভাবে। ডিসি হারুন তাদের সঙ্গে হাঁটছিলেন। কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে সেটিও পুলিশকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। মামুনুলের সঙ্গে পুলিশ কথা বলার সময় দরজা ও জানালা দিয়ে মাদ্রাসার অনেক শিক্ষার্থী ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা তা দেখছিলেন।
গ্রেফতার অভিযানে অংশ নেওয়া এক সদস্য বলেন, মধ্যরাত থেকেই মাদ্রাসার আশপাশে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন রেকি করে মাদ্রাসাসহ আশপাশের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেয়। দুপুরে তাকে গ্রেফতারের পর তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকার পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে মাদ্রাসার বাইরে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়।
মামুনুলকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে রোববার বিকালে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ২০২০ সালে মোহাম্মদপুরে একটি ভাঙচুরের মামলায় মামুনুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা, থানায় হামলা, রেজিস্ট্রার অফিসে হামলা-ভাঙচুরসহ অনেকগুলো মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রেখে এসব মামলার তদন্ত করা হচ্ছিল। তদন্তে তার সুস্পষ্ট সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েই গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মতিঝিল, পল্টন ও নারায়ণগঞ্জে আরও কয়েকটি মামলা আছে। সেগুলো পরে সমন্বয় করা হবে। আজ সোমবার তাকে আদালতে তোলা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মামুনুল মাদ্রাসায় অবস্থান করায় তার বের হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। তবে তার গতিবিধি সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেই ছিল। এর মধ্যে মামুনুলকে গ্রেফতারের আগে সংগঠনের প্রথম ও মধ্যম সারির কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে মামুনুলের আগে হেফাজতের প্রায় ৮ কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে গত ১১ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী কমিটির সহ-সভাপতি মুফতি ইলিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ এপ্রিল হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক মুফতি শরীফ উল্লাহ এবং ১৪ এপ্রিল সহকারী মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি ও কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল মাওলানা যুবায়ের আহমেদ ও ১৭ এপ্রিল মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। সংগঠনের প্রথম ও মাঝারি সারির ৮ নেতাকে গ্রেফতারের পর কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হওয়ায় মামুনুলকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]