ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

এক হাজার শয্যার করোনা হাসপাতাল উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১, ১০:১৫ পিএম আপডেট: ১৮.০৪.২০২১ ১১:৪০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 36

হাসপাতালে বেড নেই, একটা আইসিইইউর জন্য করোনা আক্রান্ত রোগীর স্বজনদের হাহাকারে বাতাস যখন ভারী ঠিক তখনই উদ্বোধন হলো এক হাজার শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের। এখানে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ রয়েছে ১১২টি, এইচডিইউ ১০০টি। রোববার করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে রাজধানীর মহাখালীতে ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালের’ সেবা কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে অন্তত বিনা চিকিৎসায় করোনা রোগীদের মারা যেতে হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিন দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাহিদ মালেক বলেন, গত দেড় মাসে দেশে করোনা সংক্রমণের হার কয়েকগুণ বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর হার। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে এই হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে করোনার চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক উন্নত দেশ খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টানিয়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সে জায়গায় আমরা একটি উন্নত পরিবেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।
মন্ত্রী বলেন, গত বছর যখন দেশে করোনা রোগীর সংক্রমণের হার বেড়ে যায়, তখন রাজধানীর বসুন্ধরা এবং মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেটে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত রোগী না থাকায় বসুন্ধরা আইসোলেশন সেন্টারের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
ডিএনসিসি মার্কেটের আইসোলেশনের পরিবর্তে বিদেশগামীদের জন্য করোনা পরীক্ষা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন এই আইসোলেশন সেন্টারেই এক হাজার শয্যার হাসপাতাল করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক আইসিইউ সমমান শয্যা তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকা শহরের জনসংখ্যা অনুপাতে আইসিইউর সংখ্যা কম জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন আইসিইউ সঙ্কটের বিষয়টি সবার নজরে এসেছে। বাস্তবিক অর্থে ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউর সংখ্যা কম। তবে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউর চেয়ে অক্সিজেনের দরকার বেশি হয়। তিনি বলেন, হাসপাতালে প্রতিটি শয্যায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন রয়েছে। পাশাপাশি ডায়ালাইসিসের জন্য পাঁচটি শয্যা রয়েছে। এ ছাড়া ১০টি ভিআইপি কেবিন ও ৮টি এসি কেবিন স্থাপন করা হয়েছে।
এখন দেশে যে পরিমাণ করোনা সংক্রমিত হচ্ছে, তার অধিকাংশই তরুণদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার বেশি দেখা গেলেও মৃত্যুর হার কম। বরং তারা পরিবারের সবাইকে করোনা আক্রান্ত করছে। তাদের বয়স্ক মা-বাবাকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলছে। তাই অপ্রয়োজনীয় বাইরে ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে।
এ সময় ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি মার্কেট নির্মাণ করে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে মার্কেটটি চালু হয়নি। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে মার্কেটটিতে করোনা হাসপাতাল করার প্রস্তাব দেই। প্রধানমন্ত্রী সে প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এ মার্কেট নির্মাণে ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে ডিএনসিসি। যার খরচ দোকানির কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। কিছু দোকানি এখনও দোকান ফেরত চান। তাদের মধ্যে ১১ জন আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। এই দোকানির মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে তাকে চিকিৎসার অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দেশে প্রশিক্ষিত নার্স সঙ্কটের কথা জানিয়ে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, এই হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নার্সিং কলেজ স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করব এখানে নার্সিং কলেজ স্থাপনের জন্য। তা করা হলে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও কয়েকধাপ এগিয়ে যাবে। এ ছাড়া এই হাসপাতলে এখন করোনা চিকিৎসার পাশাপাশি অপারেশনের ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের পরিচালক একেএম নাসির উদ্দিন প্রমুখ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]