ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ১৬ মে ২০২১ ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ১৬ মে ২০২১

অবশেষে গ্রেফতার মামুনুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১, ১০:১৫ পিএম আপডেট: ১৯.০৪.২০২১ ১২:২১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 199

রিসোর্টে নারী কাণ্ড ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে বিরোধিতা করে তাণ্ডবের ঘটনায় সম্প্রতি ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হওয়া হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার দুপুরের দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামুনুলকে গ্রেফতার করে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ ও গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমসহ একাধিক টিম যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২০ সালের ৭ মার্চের একটি ভাঙচুর ও সহিংসতার মামলায় মামুনুলকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলা নং-২৫।  আজ সোমবার পুরনো একটি মামলায় অন্তত ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে মামুনুলকে আদালতে হাজির করা হবে। মামুনুলকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিনে হেফাজতের অন্তত ৯ জন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা গ্রেফতার হলেন।
জানা যায়, মামুনুলকে গ্রেফতারে দেড় শতাধিক পুলিশ মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা ঘিরে অভিযান চালায়। এ সময় মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষক-ছাত্র পুলিশের অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশের কঠোর অবস্থান বুঝতে পেরে শিক্ষক-ছাত্ররা পিছু হটে যায়। এরপর পুলিশ মাদ্রাসার দোতলার একটি কক্ষে গিয়ে মামুনুলকে গ্রেফতার করে। অবস্থা বুঝে এ সময় মামুনুলও বাড়াবাড়ি না করে সোজা পুলিশের গাড়িতে ওঠে বসেন। এরপর মামুনুল হককে প্রথমে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসির কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কিছু সময় রাখার পর তেজগাঁও থানায় নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আবার তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ। মামুনুলকে গ্রেফতার ও তাকে যেখানে রাখা হয় সেখানেই ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। মামুনুলকে গ্রেফতারের পরপরই ওই মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ মোহাম্মদপুরে হেফাজতের কিছু নেতাকর্মী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। মাদ্রাসার মূল ফটকে বেশকিছু ছাত্র দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিল। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যরা সেখানে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করেন।
মামুনুলকে গ্রেফতারের পর রোববার ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের রিসোর্ট কাণ্ডের পর থেকে মোহাম্মদপুরের ওই মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তিনি মাদ্রাসা থেকে বের হচ্ছিলেন না। অবশেষে রোববার মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিসি হারুন জানান, ২০২০ সালে মোহাম্মাদপুরে একটি ভাঙচুরের মামলায় তাৎক্ষণিক মামুনুলকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে মতিঝিল, পল্টন, নারায়ণগঞ্জে আরও বেশ কয়েকটি মামলা আছে। পরে সেগুলো সমন্বয় করা হবে। সোমবার মামুনুলকে আদালতে হাজির করা হবে।
অভিযানে অংশ নেওয়া একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মামুনুলকে তেজগাঁও থানায় নিয়ে সেখানে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রাতে তাকে ডিবি কার্যালয়েও কর্মকর্তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে হাজির করা হবে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামুনুল নিজেকে পুলিশের হাত থেকে তথা গ্রেফতার এড়াতে মোহাম্মদপুরের ওই মাদ্রাসায় অবস্থান নিয়েছিলেন। সেখানে থেকেই বিভিন্ন ভিডিও লাইভ ও বিবৃতি পাঠিয়েছেন। পুলিশ প্রযুক্তির সাহায্যে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ওই মাদ্রাসা ঘিরে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখেছিল। মামুনুর বের হলেই গ্রেফতার করার কথা ছিল। তবে মামুনুলের কৌশল বুঝতে পেরে পুলিশ মাদ্রাসায় অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা গেছে, হেফাজতের সাম্প্রতিক তাণ্ডবের পর গত এক সপ্তাহে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মাঝারি পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিত ছিলেন মাওলানা মামুনুল হক। রোববার তার গ্রেফতারের পর বড় ধরনের হোঁচট খেল হেফাজতে ইসলাম। প্রসঙ্গত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফতরের বিরোধিতা করে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় গত ২৬ মার্চ সংঘর্ষ ও সহিংস তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। এ ঘটনায় মামুনুলের সংশ্লিষ্টার অভিযোগে মামলা হয়। পল্টন থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার অন্যতম আসামি তিনি। এই ইস্যুতে ওই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ সহিংসতা চালায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এরপর গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে অবকাশ যাপনকালে মামুনুল হক নারীসহ ঘেরাও হন। তাকে ছাড়িয়ে নিতে হেফাজতের কর্মীরা সেদিন রিসোর্টে ভাঙচুর চালায়। ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় তিনটি মামলা হয়। এর একটি মামলার আসামি করা হয় মামুনুল হককে।
রিসোর্টে ঝর্ণা নামে যে নারীসহ মামুনুল হক ঘেরাও হন, সে নারীকে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি জানান। যদিও এর স্বপক্ষে কোনো কাবিন দেখাতে পারেননি তিনি। এর কিছুদিন পরই গাজীপুরের এক নারীকে তিনি বিয়ে করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। সেই নারীর ভাই নিজের বোনকে খুঁজে পাচ্ছেন না জানিয়ে মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করেন। গোপনে ‘একাধিক বিয়ের’ বা নারী কাণ্ডের খবরে মামুনুল হক সম্প্রতি ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]